📌 গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার এফডিসি মোড়ে ক্রেনের অপচলনায় মোটরসাইকেলে বসা প্রকৌশলী আহসানুল্লাহ আরিফের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ফারুক মিয়া বেঁচে যায়। প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা ও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়টি এখনো তদন্তের মধ্যে রয়েছে
গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীর এফডিসি মোড়ে ক্রেনের অপচলনায় মোটরসাইকেলে বসা প্রকৌশলী আহসানুল্লাহ আরিফের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ফারুক মিয়া বেঁচে যান। দুর্ঘটনাটি ঘটে সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়। ক্রেনের একটি অংশ আহসানুল্লাহ আরিফের শরীরের ওপর পড়ে যায়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৮ অক্টোবর ঢাকার এফডিসি মোড়ে ক্রেনের অপচলনায় প্রকৌশলী আহসানুল্লাহ আরিফের মৃত্যু হয়। মোটরসাইকেল চালক ফারুক মিয়া বেঁচে যান।
- 📌 আহসানুল্লাহ আরিফের শরীরের ওপর পড়া ক্রেনের কারণে তার কোমরের নিচ থেকে দুই পায়ের মাংস উপড়ে যায় এবং ডান পায়ের হাঁটু থেকে নিচের অংশ থেঁতলে যায়।
- 📌 ২৩ অক্টোবর গুরুতর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
- 📌 দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর ২ ঘণ্টা পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তার ডান পা কেটে ফেলেন।
- 📌 আহসানুল্লাহ আরিফের পরিবার হাতিরঝিল থানায় মামলা করেছে, তবে তদন্তের অবস্থা এখনো অজানা।
- 📌 ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ক্রেনের মালিকানা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।
📰 বিস্তারিত
মোটরসাইকেল চালক ফারুক মিয়া প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আমরা যখন সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন পেছন থেকে রাস্তার মাঝ দিয়ে এগিয়ে আসে বড় একটি ক্রেন। ক্রেনটি মোটরসাইকেলের ওপরে উঠে যায়। ক্রেনের একটি অংশ গিয়ে পড়ে মোটরসাইকেলের যাত্রী আহসানুল্লাহ আরিফের শরীরের ওপর।’ ফারুক মিয়া আরও বলেন, তিনি কোনোভাবে বেঁচে যান।
আহসানুল্লাহ আরিফের বড় ভাই ইয়াসিন উল্লাহ জানান, দুর্ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন ক্রেনের চালককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ইয়াসিন উল্লাহ বলেন, ‘আরিফ দুর্ঘটনার পর মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি থাকা বৃদ্ধ মাকে দেখতে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর মা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, কিন্তু আরিফ আর ফিরতে পারেননি।’
হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া জানান, মামলার তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল ও ক্রেন জব্দ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সময় কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত হওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি বলেন, ওই এলাকায় কোনো সচল সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক গোলাম মর্তুজা জানান, ‘আমরা বিষয়টি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে ইনভেস্টর কোম্পানিকে একটি তদন্ত জমা দিতে বলা হয়েছে।’
"আমার তরতাজা ভাইটা চলে গেল। এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। পুরো পরিবারটা এলোমেলো হয়ে গেছে।"
— আহসানুল্লাহ আরিফের স্ত্রী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (এফডিসি মোড়, হাতিরঝিল, মহাখালী, পান্থকুঞ্জ পার্ক)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আহসানুল্লাহ আরিফ (প্রকৌশলী), ফারুক মিয়া (মোটরসাইকেল চালক), ইয়াসিন উল্লাহ (আরিফের বড় ভাই), গোলাম মর্তুজা (প্রকল্প পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ অক্টোবর (দুর্ঘটনা), ২৩ অক্টোবর (মৃত্যু), ২০ কিলোমিটার (প্রকল্পের দৈর্ঘ্য), ১১ কিলোমিটার (উদ্বোধিত অংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!