📌 মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চকপাড়া গ্রামের ৪১টি ত্রিপুরা পরিবারের প্রায় ২০০ জন বাসিন্দা পৌরসভার নাগরিক হলেও সুপেয় পানি, সড়ক ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামে বর্ষা ও দুর্গম পথ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও কৃষকদের জীবিকা উভয়কেই মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।
মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চকপাড়া গ্রামের ৪১টি ত্রিপুরা পরিবারের প্রায় দুই শতাধিক বাসিন্দা পৌরসভার নাগরিক হলেও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামে সুপেয় পানি, সড়ক ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক চাহিদার কোনো সুফল পাননি। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় ও পৌরসভার প্রতিষ্ঠার দুই দশক অতিক্রম হলেও উন্নয়নের আলো এখনও পৌঁছায়নি এই দুর্গম জনপদে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চকপাড়া গ্রামে ৪১টি ত্রিপুরা পরিবারের প্রায় দুই শতাধিক বাসিন্দা সুপেয় পানি, সড়ক ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত
- 📌 গ্রামের শিশুদের শিক্ষার একমাত্র ভরসা পার্শ্ববর্তী ধলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাটিরাঙ্গা মিউনিসিপ্যাল উচ্চ বিদ্যালয়, কিন্তু দুর্গম পথের কারণে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়
- 📌 বর্ষা মৌসুমে কর্দমাক্ত পথ পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য চরম কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে, যার ফলে অধিকাংশের শিক্ষাজীবন থেমে যায়
- 📌 কৃষিনির্ভর গ্রামে কোনো পাকা সড়ক না থাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে ব্যর্থতা ও লোকসানের মুখে পড়েন কৃষকরা
- 📌 বিদ্যুতের অভাবে সন্ধ্যা নামলেই পুরো গ্রাম অন্ধকারে ডুবে যায়, যা শিক্ষা ও জীবিকা উভয়কেই মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে
- 📌 চকপাড়ার কার্বারি বিজয় মোহন ত্রিপুরা দাবি করেছেন, সড়ক, পানি ও বিদ্যুতের দাবিতে বহুবার আবেদন করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি
- 📌 মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শাহজালাল কাজল জানান, আগামী মাস থেকে সোলারনির্ভর সাবমারসিবল পানির কল বসানো হবে এবং সংযোগ সড়ক উন্নয়নের কাজ শুরু হবে
- 📌 মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক উম্মে তাহমিনা মিতু বলেছেন, বরাদ্দ পাওয়া গেলে ওই এলাকার উন্নয়নে যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় ও পৌরসভার প্রতিষ্ঠার দুই দশক অতিক্রম করলেও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পৌর সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামে সুপেয় পানি, সড়ক ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক চাহিদার কোনো সুফল পাননি। এলাকার শিশুদের শিক্ষার একমাত্র ভরসা পার্শ্ববর্তী ধলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাটিরাঙ্গা মিউনিসিপ্যাল উচ্চ বিদ্যালয়। কিন্তু উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে তাদের বিদ্যালয়ে পাড়ি জমাতে হয়। বর্ষা এলে এই দুর্ভোগ পৌঁছে চরমে; কর্দমাক্ত পথ পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য চরম কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
চকপাড়ার কার্বারি বিজয় মোহন ত্রিপুরা বলেছেন, “সড়ক, পানি ও বিদ্যুতের দাবিতে আমরা বহুবার স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদে আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পথ অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় বর্ষায় আমাদের সন্তানরা প্রায়শই স্কুলে যেতে পারে না। আমাদের কষ্টের শেষ নেই। পৌর এলাকার মধ্যে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে চকপাড়ার বাসিন্দারা সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জীবনমান উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমরা এলাকায় প্রয়োজনীয় সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শাহজালাল কাজল জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগামী মাস থেকে সোলারনির্ভর সাবমারসিবল পানির কল বসানো হবে, যা সুপেয় পানির দীর্ঘদিনের সংকটের সমাধান করবে। এ ছাড়া এলাকার এক কিলোমিটার সংযোগ সড়কটি এইচবিবি করার কাজও শিগগির শুরু হবে। টিআর-কাবিটা প্রকল্পের আওতায় এমপির বিশেষ বরাদ্দ থেকে কাঁচা রাস্তাটির যথাযথ উন্নয়ন করা হবে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক উম্মে তাহমিনা মিতু বলেছেন, “বর্তমানে পৌরসভার কোনো বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ওই এলাকার উন্নয়নে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
"সড়ক, পানি ও বিদ্যুতের দাবিতে আমরা বহুবার স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদে আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পথ অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় বর্ষায় আমাদের সন্তানরা প্রায়শই স্কুলে যেতে পারে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চকপাড়া গ্রাম, মাটিরাঙ্গা পৌরসভা, খাগড়াছড়ি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজয় মোহন ত্রিপুরা, মো. শাহজালাল কাজল, উম্মে তাহমিনা মিতু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪১টি পরিবার, প্রায় দুই শতাধিক বাসিন্দা, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, ৫ কিলোমিটার দূরত্ব
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!