📌 চিলমারী উপজেলার রমনা এলাকার গাতিরঘাটে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদী থেকে আসা মাছের হাট প্রায় ২০০ বছর ধরে চলছে। জেলেদের দাবি, মাছের দাম ও খরচের ব্যবধানে তাদের জীবিকা সংকটে পড়েছে। প্রতিদিন দুই দফায় বসে এই হাটে মাছের ব্যবসা চলতে থাকে।
চিলমারী উপজেলার রমনা এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে প্রতিদিন ভোরবেলা থেকে শুরু হয় মাছের হাট। ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদী থেকে আসা মাছের এই হাট প্রায় ২০০ বছর ধরে চলছে বলে দাবি জেলেদের। স্থানীয়রা এই হাটকে "গাতিরঘাট" নামে পরিচিত। প্রতিদিন দু'দফায় বসে এই হাটে মাছের ব্যবসা — সকাল ছয়টায় প্রথম দফা এবং বেলা আড়াইটায় দ্বিতীয় দফা। প্রতিটি দফায় প্রায় ১৫০টি নৌকা এখানে ভেড়ে যায় মাছ বিক্রি করতে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রহ্মপুত্রের তীরে চিলমারী উপজেলার রমনা এলাকায় প্রায় ২০০ বছর ধরে চলছে মাছের হাট, যা স্থানীয়দের জীবিকা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ
- 📌 প্রতিদিন দুই দফায় (সকাল ৬টা ও বিকেল ৩টায়) বসে এই হাটে মাছের ব্যবসা, যেখানে প্রতিটি দফায় প্রায় ১৫০টি নৌকা আসে
- 📌 জেলেদের দাবি, নদীতে আগের মতো মাছ পাওয়া না গেলে তাদের আয় কমে যাচ্ছে — এক দিন মাছ ধরতে ৮-১০ লিটার ডিজেল লাগে, কিন্তু মাছের পরিমাণ কমে গেছে
- 📌 ৮০ বছর বয়সী মাছ বিক্রেতা ফুলেল চন্দ্র দাসের ভাষ্য, ‘৬০ বছর ধরে এই ঘাটে মাছ বিক্রি করছি। প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হয়। এই ঘাটই আমার জীবিকা’
- 📌 ৬৫ বছর বয়সী ক্ষিতীশ দাসের বয়সের কারণে আর নদীতে যেতে পারেন না, কিন্তু তিনি প্রতিদিন ঘাটে আসেন মাছ কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে
- 📌 প্রশাসন ঘাটটিকে ইজারামুক্ত রেখেছে এবং জেলেদের জোর করে টাকা আদায় করা থেকে রক্ষা করছে
📰 বিস্তারিত
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে চিলমারী উপজেলার রমনা এলাকার গাতিরঘাটে প্রতিদিন ভোরবেলা থেকে শুরু হয় মাছের হাট। জেলেরা তাদের নৌকায় মাছ নিয়ে আসে এবং বিক্রেতারা পসরা সাজিয়ে বসেন। ক্রেতারা তাদের পছন্দের মাছ বেছে নিতে থাকে। স্থানীয় জেলেদের দাবি, এই হাট প্রায় ২০০ বছর ধরে চলছে। প্রতিদিন দু'দফায় বসে এই হাট — প্রথম দফা সকাল ছয়টায় এবং দ্বিতীয় দফা বেলা আড়াইটায়। প্রতিটি দফায় প্রায় ১৫০টি নৌকা এখানে ভেড়ে যায় মাছ বিক্রি করতে।
জেলেরা বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকেই তাঁরা এই ঘাটে মাছ বিক্রি করে আসছেন। এই হাটে ছোট মাছের পাশাপাশি বড় মাছও পাওয়া যায়। পুঁটি, ট্যাংরা, মলা, সরপুঁটি, গুলশা, চাপিলা, কাচকি, ঢেলা, গুতুম, বেলে, চিংড়ি এবং চিতল ও বোয়ালের মতো বড় মাছও পাওয়া যায়। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বরফ দিয়ে এসব মাছ পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন এলাকায়। মাঝেমধ্যে মেলে বাগাড়ও, যা আড়াই কেজি থেকে শুরু করে তিন-সাড়ে তিন মণ ওজনেরও হতে পারে। প্রতি কেজির দাম পড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা।
তবে জেলেদের জীবিকা সংকটে পড়েছে। তারা বলেন, নদীতে আগের মতো মাছ পাওয়া না গেলে তাদের আয় কমে যাচ্ছে। এক দিন মাছ ধরতে ৮-১০ লিটার ডিজেল লাগে, কিন্তু মাছের পরিমাণ কমে গেছে। এক নৌকায় পাঁচ-ছয়জন কাজ করলেও, তেল, খাবার আর অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে তাদের ভাগে মাত্র তিন-চারশ টাকা পড়ে। এই দিয়েই সংসার চালানো কষ্টের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
"প্রায় ৬০ বছর থাকি মাছ কেনাবেচা করি। এই ঘাটের সাথে হামার বাপ-দাদার স্মৃতি আছে। প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হয়। এই ঘাট দিয়েই পেট চলে।"
৮০ বছর বয়সী ফুলেল চন্দ্র দাসের কথায়, তিনি প্রায় ৬০ বছর ধরে এই ঘাটে মাছ বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, এই ঘাটই তাঁর জীবিকা। প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হয় তাঁর।
৬৫ বছর বয়সী ক্ষিতীশ দাসের বয়সের কারণে আর নদীতে যেতে পারেন না। তিনি বলেন, তিনি প্রতিদিন ঘাটে আসেন মাছ কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে। দিনে তাঁর আয় হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে তিনি বলেন, এই হাটের ব্যস্ততার আড়ালে জেলেদের জীবিকার সংকট রয়েছে।
সাত বছর আগে ইঞ্জিনচালিত নৌকা দুর্ঘটনায় পড়ার পর মাছ ধরা ছেড়ে দিতে হয়েছে সন্তোষ চন্দ্র দাসকে। তিনি বলেন, ‘নৌকা দুর্ঘটনার পর আর জাল মারতে পারি না। অন্য কাজ জানা নাই। এই ঘাটের মানুষগুলার সাথেই তো সারা জীবন কাটল। মানুষজন যে যা পারে, সহযোগিতা করে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চিলমারী উপজেলা, রমনা এলাকা, ব্রহ্মপুত্র নদের তীর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফুলেল চন্দ্র দাস (৮০), ক্ষিতীশ দাস (৬৫), পুতুল চন্দ্র দাস (৪২), সন্তোষ চন্দ্র দাস (৬৭)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০ বছর (হাটের বয়স), ১৫০টি নৌকা (প্রতিদিন), ৮-১০ লিটার ডিজেল (মাছ ধরতে), ৬০০-৭০০ টাকা (দৈনিক আয়), ৪০০-৫০০ টাকা (ক্ষিতীশ দাসের আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!