📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক পল্লি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৯টি কক্ষের মধ্যে ১৭টি অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। শুধু একজন নিরাপত্তা প্রহরী দায়িত্ব পালন করছেন। তিন বছর ধরে চিকিৎসক ও নার্সের অভাবের কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবস্থা বেহাল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক পল্লি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৯টি কক্ষের মধ্যে ১৭টি অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মোট ২৪টি পদ রয়েছে, কিন্তু শুধু একজন নিরাপত্তা প্রহরী দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ১০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তিন বছর ধরে চিকিৎসক ও নার্সের অভাবের কারণে সেবা বন্ধের মতো অবস্থা চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক পল্লি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৯টি কক্ষের মধ্যে ১৭টি অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে
- 📌 স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মোট পদ ২৪টি, কিন্তু শুধু একজন নিরাপত্তা প্রহরী দায়িত্ব পালন করছেন
- 📌 সপ্তাহে মাত্র দুই দিন চিকিৎসক আসেন, বাকি পাঁচ দিন সেবা বন্ধ থাকে
- 📌 গুনিয়াউক ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার, এছাড়াও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বুল্লা ইউনিয়ন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পূর্বভাগের লোকজন চিকিৎসা নিতে আসেন
- 📌 ২০১৪ সাল থেকে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত নিরাপত্তা প্রহরী কামাল উদ্দিন বলেছেন, ‘এত দিন কোনো চিকিৎসক ছিলেন না, গত দুই মাস ধরে সপ্তাহে দুই দিন চিকিৎসক আসে’
📰 বিস্তারিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক পল্লি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৯টি কক্ষের মধ্যে ১৭টি অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মোট পদ রয়েছে ২৪টি, যার মধ্যে চিকিৎসকের পদ ২টি, সিনিয়র স্টাফ নার্সের পদ ৪টি, সহ-সেবকের পদ ৪টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদ ১টি, ফার্মাসিস্টের পদ ১টি, অফিস সহায়কের পদ ৪টি, ওয়ার্ড বয়ের পদ ২টি, কুক মশালচির পদ ২টি, নিরাপত্তা প্রহরীর পদ ২টি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ ২টি। তবে বর্তমানে শুধু একজন নিরাপত্তা প্রহরী দায়িত্ব পালন করছেন।
গুনিয়াউক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল মালেক জানান, আড়াই থেকে তিন বছর আগে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিতেন। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসার বেহাল অবস্থা চলছে। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবেশও নোংরা। চিকিৎসার কোনো পরিবেশ নেই। কোনো সেবাই পাওয়া যায় না। দুই দিন ডাক্তার আসেন, বাকি পাঁচ দিনই মানুষ এসে ফিরে যায়।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অদিতি রায় জানান, নাসিরনগরে ১৯৭৫ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে ১৯৬৫ সালে এই পল্লি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। গুনিয়াউক ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। উপজেলার পূর্বভাগ, চাপরতলা ও হরিপুর ইউনিয়ন এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের লোকজন এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।
২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক ও নার্সের অভাব ছিল না। তবে বি এম ফরহাদ হোসেনের পরাজয়ের পর থেকে তিন বছর ধরে কোনো চিকিৎসক নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কাগজে-কলমে পাঁচজন কর্মরত দেখানো হলেও বাস্তবে শুধু একজন নিরাপত্তা প্রহরী কর্মরত আছেন। গত ১ জুলাই এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সিনিয়র স্টাফ নার্স লাকি আক্তারের মৃত্যু হয়। বর্তমানে সপ্তাহে দুই দিন চিকিৎসা কর্মকর্তা সাইদুল মোস্তফা আসেন। তিনি বলেন, ‘এ সময় গড়ে ৭০-৮০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।’
"২০১৪ সাল থেকে আমি এখানে আছি। এত দিন কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। গত দুই মাস ধরে সপ্তাহে দুই দিন চিকিৎসক আসে। তাই রোগীও তেমন আসে না। বর্তমানে এখানে কর্মরত আমিই আছি।"
গুনিয়াউক গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ বেগম বলেন, ‘প্রায়ই মাথাব্যথা ও হাত-পা জ্বালাপোড়া করে। তিন দিন আইয়্যা ফিরা গেছি। আজকা ডাক্তার পাইছি। কিছু ওষুধ দিছে। কইছে ভালা অইয়্যা যাইব গা।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নাসিরনগর উপজেলা, গুনিয়াউক পল্লি স্বাস্থ্যকেন্দ্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল মালেক, নিরাপত্তা প্রহরী কামাল উদ্দিন, ডাক্তার সাইদুল মোস্তফা, মমতাজ বেগম, সাবেক সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ কক্ষ, ১৭ অব্যবহৃত কক্ষ, ২৪ পদ, ১ কর্মরত নিরাপত্তা প্রহরী, ১০ শয্যাবিশিষ্ট, ১০ কিলোমিটার দূরত্ব, ২০০-৩০০ রোগী (প্রতিদিন), ৭০-৮০ রোগী (বর্তমান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!