📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বীরেশ দিঘিতে মাছধরা প্রতিযোগিতায় শৌখিন মাছশিকারী নাছির মিয়া (৫০) এক কাতলা মাছ ধরে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দুই লাখ টাকা জিতেছেন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ২৪ জনের মধ্যে তিনি একমাত্র প্রথম পুরস্কার বিজয়ী হন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বীরেশ দিঘিতে আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত মাছধরা প্রতিযোগিতায় শৌখিন মাছশিকারী নাছির মিয়া (৫০) এক কাতলা মাছ ধরে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দুই লাখ টাকা জিতেছেন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ২৪ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি একমাত্র প্রথম পুরস্কার বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রত্যেক প্রতিযোগীকে ২৬ হাজার টাকা টিকিট খরচ করতে হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার বীরেশ দিঘিতে অনুষ্ঠিত মাছধরা প্রতিযোগিতায় নাছির মিয়া (৫০) এক কাতলা মাছ ধরে প্রথম পুরস্কার জিতেছেন
- 📌 ৬ কেজি ৮৮৫ গ্রাম ওজনের কাতলা মাছ ধরে তিনি দুই লাখ টাকা পুরস্কার পেয়েছেন, যা প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ পুরস্কার
- 📌 প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ২৪ জনের মধ্যে তিনি একমাত্র প্রথম পুরস্কার বিজয়ী হন; দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন হবিগঞ্জের মাধবপুরের মোফাজ্জল হোসেন
- 📌 প্রতিযোগিতায় আয়োজকরা ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা আয় করেছেন, যা ২৪ জন প্রতিযোগীর টিকিটের মূল্য
- 📌 প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক প্রতিযোগীকে টিকিটের পাশাপাশি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আনুষঙ্গিক খরচ করতে হয়েছে
📰 বিস্তারিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের বীরেশ দিঘিতে আজ শুক্রবার সকাল সোয়া ছয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মাছধরা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ২৪ জন প্রতিযোগীর আসন লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রত্যেক প্রতিযোগীকে ২৬ হাজার টাকা টিকিট কাটতে হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় আয়োজকরা ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা আয় করেছেন, যা ২৪ জন প্রতিযোগীর টিকিটের মূল্য। প্রতিযোগিতায় পাঁচটি পুরস্কার ছিল — প্রথম পুরস্কার দুই লাখ টাকা, দ্বিতীয় এক লাখ টাকা, তৃতীয় ৫০ হাজার টাকা, চতুর্থ ৪৫ হাজার টাকা এবং পঞ্চম ৪০ হাজার টাকা।
বিকেল চারটার দিকে নাছির মিয়া (৫০) মেড্ডা এলাকার বাসিন্দা, এক কাতলা মাছ ধরে প্রথম পুরস্কার জিতেছেন। এই কাতলা মাছের ওজন ছিল ৬ কেজি ৮৮৫ গ্রাম। প্রতিযোগিতার সময় তিনি সারা দিনে আর কোনো মাছ ধরে পাননি। তিনি প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আমি সারা দিনে আর কোনো মাছ শিকার করতে পারিনি। শেষ মুহূর্তে একটি মাছ শিকার করলেও প্রথম পুরস্কার পেয়েছি; ভালোই লাগছে। এর আগের আসরে (গত ১৬ অক্টোবর) এখানে বড় একটি কাতলা মাছ ধরে শেষ পর্যন্ত জালবন্দী করতে পারিনি। ওই সময়ের কষ্ট আজ ভুলে গেছি।’
দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতালা গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন। তিনি সকাল সাতটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত ৬ কেজি ৭৪০ গ্রাম ও ৬ কেজি ৪৮৫ গ্রাম ওজনের দুটি কাতলা মাছ ধরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। একই এলাকার কাউছার মিয়া ৫ কেজি ৫২০ গ্রাম ও ৫ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের দুটি কাতলা শিকার করে চতুর্থ ও পঞ্চম পুরস্কার পেয়েছেন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক প্রতিযোগীকে টিকিটের পাশাপাশি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আনুষঙ্গিক খরচ করতে হয়েছিল।
বীরেশ দিঘিতে সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্পের একটি সমিতি প্রতিবছর কয়েকবার মাছধরা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এই আয়োজনের সপ্তম বার্ষিকী ছিল। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিযোগীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ থেকে এসেছিলেন। দিঘিতে ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের কাতলা মাছ থাকার কথা দাবি করে আয়োজকরা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিযোগীরা দিঘির চারপাশে বড়শি ফেলে অপেক্ষা করতেন। প্রতিযোগিতার সময় দিঘির চারদিকে প্রচুর দর্শকেরও সমাগম ঘটে।
"আমি সারা দিনে আর কোনো মাছ শিকার করতে পারিনি। শেষ মুহূর্তে একটি মাছ শিকার করলেও প্রথম পুরস্কার পেয়েছি; ভালোই লাগছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বীরেশ দিঘি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলা, কালীকচ্ছ ইউনিয়ন, দত্তপাড়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাছির মিয়া (৫০), মোফাজ্জল হোসেন, কাউছার মিয়া, আলী মিয়া (সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ টাকা (প্রথম পুরস্কার), ৬ কেজি ৮৮৫ গ্রাম (কাতলা মাছের ওজন), ২৪ জন (প্রতিযোগী), ২৬ হাজার টাকা (প্রত্যেকের টিকিট মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!