📌 বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী এলাকার বেদে বহরে ৫৪ বছর বয়সী ইস্রাফিল ৩৮ বছর ধরে পুকুর-ডোবায় হারানো সোনা-রুপার গয়না খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তিনি একমাত্র বেদে যিনি এই ঐতিহ্যবাহী পেশা ধরে রেখেছেন।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী এলাকায় বেদে বহরে ৫৪ বছর বয়সী ইস্রাফিল সরদার ৩৮ বছর ধরে পুকুর-ডোবায় হারানো সোনা-রুপার গয়না খুঁজে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত 'স্বর্ণডুবুরি' হিসেবে, যিনি কাদা ঘেঁটে হারানো গয়না উদ্ধার করেন। বর্তমানে বেদে বহরের ১৬টি পরিবারের মধ্যে তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি এই ঐতিহ্যবাহী পেশায় আঁকড়ে ধরে আছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৪ বছর বয়সী ইস্রাফিল বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী এলাকার বেদে বহরে ৩৮ বছর ধরে পুকুর-ডোবায় হারানো গয়না খুঁজে বেড়াচ্ছেন
- 📌 তিনি ১৬টি বেদে পরিবারের মধ্যে একমাত্র স্বর্ণডুবুরি যিনি এই পেশায় আঁকড়ে ধরে আছেন
- 📌 পুকুর ঝাড়ানি নামে পরিচিত এই পেশা শান্দার বেদের কুড়িন্দা উপগোত্রের ঐতিহ্য
- 📌 গয়না খুঁজতে ব্যবহার করেন লোহার আঁচড়া ও ঝাঁই নামের বিশেষ ঝুড়ি
- 📌 পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পান এক ভরি সোনা পাওয়া গেলে, না পেলে মেলে শ্রমমূল্য
- 📌 পুকুর কমে যাওয়া ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে এই পেশায় আগ্রহ কমেছে
📰 বিস্তারিত
পুকুরের পানি ঘোলা, তলায় নরম কাদা। হাতড়ে খুঁজলেও কিছুই চোখে পড়ে না। এমন অবস্থায় হাজির হন ইস্রাফিল সরদার। তাঁর কাঁধে লোহার আঁচড়া আর বিশেষ ঝুড়ি 'ঝাঁই'। বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী এলাকার বেদে বহরে থাকা ইস্রাফিলের মূল পেশা হলো হারানো সোনা-রুপার গয়না খুঁজে বের করা। তিনি বলেন, 'পানিতে নিশ্চিতভাবে হারালে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু গয়নাটা কোথায় পড়েছে সেটাই যদি ঠিক না হয়, তাহলে খুঁজে পাওয়া কঠিন।'
ইস্রাফিলের দাবি, বর্তমানে বেদে বহরের ১৬টি পরিবারের মধ্যে তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি স্বর্ণডুবুরি পেশা ধরে রেখেছেন। স্থানীয়রা তাঁর কথায় সায় দেন। তিনি বলেন, 'পানিতে হারানো স্বর্ণের গয়না খোঁজাই আমার মূল পেশা। স্থানীয়ভাবে এই কাজকে বলা হয় 'পুকুর ঝাড়ানি'।'
গয়না খোঁজার কাজটি শান্দার বেদের কুড়িন্দা উপগোত্রের মধ্যে প্রচলিত। ইস্রাফিল এই উপগোত্রের সদস্য। গয়না খোঁজার সরঞ্জামও আলাদা। বাঁশের লম্বা হাতলের সঙ্গে থাকে লোহার আঁচড়া। সঙ্গে থাকে বাঁশ ও প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ত্রিকোণাকৃতির ঝুড়ি 'ঝাঁই'। পানিতে গয়না যেখানে পড়েছে, সেই জায়গার তলা থেকে আঁচড়া দিয়ে কাদা টেনে আনেন তিনি। এরপর ঝাঁইয়ে কাদা তুলে বারবার পানিতে ধুতে থাকেন। কাদা সরে গেলে তলদেশের মাটি থেকে বেরিয়ে আসে কাঙ্ক্ষিত গয়নার ঝিলিক—যদি ভাগ্য সহায় হয়।
ইস্রাফিল জানান, এক ভরি সোনা পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পান। গয়না খুঁজে না পেলে কেউ কেউ দুই-তিনশ টাকা দেন। তবে এই অনিশ্চিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন। তাই গয়না খুঁজার কাজ না থাকলে মালা, কড়ি ও মাদুলি বিক্রি করেন তিনি। মাঝে মধ্যে সাপ ধরার ডাকও পান।
ইস্রাফিল বলেন, 'স্বর্ণডুবুরি আমার মূল পেশা হলেও পুকুর-জলাশয় কমে যাওয়া এবং মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে এ কাজ এখন অনেক কমে গেছে। মাসের বড় একটি সময় কর্মহীন থাকতে হয়। এ কারণে আমার সঙ্গে থাকা অন্যরা একে একে এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'গ্রামগঞ্জে পুকুরের সংখ্যা কমেছে ঠিকই, তবে তার চেয়ে বেশি পরিবর্তন হয়েছে মানুষের রুচিতে। এখন মানুষ পুকুরে ডুব দিয়ে গোসলের বদলে বাথরুম বা টিউবওয়েলে গোসল করে। আর স্বর্ণের বদলে ইমিটি সোনার গয়না পরে। ফলে গয়না হারিয়ে স্বর্ণডুবুরিদের খুঁজে বেড়ানোর ঘটনা এখন কালে-ভাদ্রে ঘটে।'
"পানিতে নিশ্চিতভাবে হারালে পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। কিন্তু গয়নাটা আসলে কোথায় পড়েছে, সেটাই যদি ঠিক না হয়, তাহলে খুঁজে পাওয়া কঠিন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা, কাটাখালী এলাকা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ইস্রাফিল সরদার (৫৪ বছর), ফজল আলী (প্রবীণ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮ বছর (পেশায়), ১৬টি পরিবার, ৫ হাজার টাকা (সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!