📅 ৮ নভেম্বর ২০২৬, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

আমবাগানের বিস্তার: কৃষিশ্রমিকদের জীবিকা সংকটে ডুবে যাচ্ছে নওগাঁর সাঁওতাল পরিবার

আমবাগানের বিস্তার: কৃষিশ্রমিকদের জীবিকা সংকটে ডুবে যাচ্ছে নওগাঁর সাঁওতাল পরিবার

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় আমবাগানের বিস্তার কৃষিশ্রমিকদের জীবিকা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ২৬ বছর বয়সী মারিয়া মুর্মু ও ৩০ বছর বয়সী রমেশ বাস্কীর মতো সাঁওতাল পরিবারগুলো বছরে মাত্র ৪০-৫০ দিনের কাজ পেয়ে ২০-৩০ হাজার টাকা আয় করে, যা পুরো বছরের খরচ পূরণ করতে অক্ষম। ধানখেতের জায়গায় আমবাগান গড়ে উঠলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে

নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলায় আমবাগানের বিস্তার কৃষিশ্রমিকদের জীবিকা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর একটি দম্পতির সংসার চালানোর জন্য কাজের অনিশ্চয়তা এবং মজুরির অপার্য পরিমাণই প্রধান বাধা। ফুরকুটিডাংগা গ্রামের বাসিন্দা মারিয়া মুর্মু (২৬) ও রমেশ বাস্কী (৩০) তাদের চার সদস্যের পরিবারকে একাকী স্বামীর মজুরির উপর নির্ভরশীল করে তুলেছে।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 কাজের অনিশ্চয়তা: আমের মৌসুমে মাত্র ৪০-৫০ দিনের কাজ পেয়ে মারিয়া ও রমেশের বার্ষিক আয় ২০-৩০ হাজার টাকা, যা পুরো বছরের খরচ পূরণ করতে অক্ষম। আগে ধানের আবাদে ৪-৫ মাসের কাজ থেকে ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় হতো।
  • 📌 আমবাগানের প্রভাব: সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় ৫০-৬০ শতাংশ ফসলি জমি আমবাগানে পরিণত হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই উপজেলায় ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে।
  • 📌 জীবিকার সংকট: আমের মৌসুম শেষ হলে মারিয়া ও রমেশকে অন্যের জমিতে ধান রোপণ বা কাটার কাজ খোঁজতে হয়। কিন্তু ধানের আবাদ কমে যাওয়ায় এই কাজও আগের মতো মেলে না।
  • 📌 অনিশ্চিত জীবিকা: রমেশ কখনো রাজশাহী গিয়ে পানের বরজে কাজ করেন, কখনো পঞ্চগড়ে পাথর তোলার কাজে যান। কিন্তু এই কাজের সুযোগ কখন আসবে তা নিশ্চিত নয়। দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা হলেও প্রতিদিন কাজ না মেলে না।
  • 📌 সন্তান ও কাজের চ্যালেঞ্জ: তিন মাস বয়সী ছোট মেয়েকে সামলে কাজ করা তাদের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয়ভাবে কাজের অপেক্ষায় থাকতে হয়, কারণ দূরে গিয়ে কাজের সুযোগ নিতে পারেন না।

📰 বিস্তারিত

নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার ফুরকুটিডাংগা গ্রামের মারিয়া মুর্মু ও রমেশ বাস্কী তাদের জীবনের অধিকাংশ সময় কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাটিয়েছেন। তারা সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মানুষ, যারা বরেন্দ্র অঞ্চলের ধানখেতে বহু প্রজন্ম ধরে শ্রম দিয়ে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে আমবাগানের বিস্তার তাদের জীবিকা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

মারিয়া বলেন, ‘আমের মৌসুমে আম পাড়ার কাজ পেয়ে এক-দুই মাসের জন্য ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দৈনিক মজুরি পাই। সে হিসাবে আমের মৌসুমে আয় হয় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু আগে ধানের আবাদে চার-পাঁচ মাসের কাজ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় হতো। এখন আর সেই নিশ্চয়তা নেই।’

তাঁদের বাড়িতে বড় মেয়ের বয়স ছয় বছর, ছোট মেয়ের বয়স মাত্র তিন মাস। মারিয়ার উপার্জন বন্ধ থাকলে স্বামীর একার আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। মারিয়া বলেন, ‘তিন বেলা শাক-ভাত জোটানোর ব্যবস্থাও হয় না। বিয়ের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জাতাহার গ্রামের বাবার বাড়ি থেকে সাপাহারে আসার পর থেকে এলাকার মাঠে ধান রোপণ, কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ ছিল। কিন্তু দিনে দিনে আমবাগান বেড়ে গেছে।’

রমেশ বলেন, ‘আমবাগানের শুরুতে শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, কিন্তু গাছ বড় হলে কাজ কমে আসে। ধানের আবাদে জমি তৈরি থেকে মাড়াই পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমবাগানে শুধু মুকুলের আগে-পরে কীটনাশক দেওয়া ও সেচের মতো কিছু কাজ থাকে। কাজের খোঁজে দূরের জেলায় যেতে হয়।’

"আমের মৌসুমে কিছু টাকা জমলেও তা দিয়ে সারা বছরের সংসার চালানো সম্ভব হয় না। অন্যদিকে কৃষিকাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় বিকল্প কাজের সন্ধানে ছুটতে হচ্ছে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়।"

সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ফসলি জমি আমবাগানে পরিণত হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই উপজেলায় ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। পুরো জেলায় এই সংখ্যা ৩০ হাজার ৬০০ হেক্টরে।

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: ফুরকুটিডাংগা গ্রাম, সাপাহার উপজেলা, নওগাঁ
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মারিয়া মুর্মু (২৬), রমেশ বাস্কী (৩০), সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর কৃষিশ্রমিকেরা
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০-৩০ হাজার টাকা (বার্ষিক আয়), ৪০-৫০ দিন (আমের মৌসুমে কাজ), ৫০০-৬০০ টাকা (দৈনিক মজুরি), ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর (আমবাগান জমি)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖