📌 সিরাজগঞ্জের চলনবিলে ভাদ্র মাসের পার্শ্ব একাদশী থেকে শুরু হওয়া কারাম উৎসবে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ৪৫ থেকে ৫০টি গ্রামে ধর্মীয় আচার, ঝুমুর নৃত্য ও প্রকৃতির বন্দনা মেলে উঠেছে। এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে পরিবারের মঙ্গল ও ফসলের ভালো ফলনের আশায় পূজা করা হয়
সিরাজগঞ্জের চলনবিলাঞ্চলে বর্ষার প্রকৃতির সৌন্দর্যে মেতে উঠেছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব। ভাদ্র মাসের পার্শ্ব একাদশী থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে প্রকৃতি, ফসল ও বংশপরম্পরার বন্দনা মেলে উঠেছে। আদিবাসীদের কাছে কারাম উৎসব শুধু ধর্মীয় আচার নয়, তা তাদের ঐক্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের চলনবিলের ৪৫ থেকে ৫০টি গ্রামে কারাম উৎসবের আয়োজন চলছে, যেখানে মাহাতো, কুর্মি, সাঁওতাল ও অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায় অংশ নিচ্ছে
- 📌 ভাদ্র মাসের পার্শ্ব একাদশী থেকে শুরু হওয়া উৎসবের মূল পূজা বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জাঁওয়া ডালায় বীজ থেকে চারাগাছ গজানো হয়েছে
- 📌 কারাম উৎসবের অংশগ্রহণকারীদের ‘কেরমেতি’ বলা হয়, যারা পাঁচ থেকে সাত দিন আমিষ ও মসলা জাতীয় খাবার থেকে বিরত থাকেন
- 📌 উৎসবের সময় গ্রামের খোলা জায়গায় কারাম গাছের ডাল পুঁতে ফুল ও ফিতা দিয়ে সাজানো হয় এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে রাতের আড়ালে পূজা ও প্রার্থনা চলতে থাকে
- 📌 উৎসবের সাথে জড়িত ঐতিহ্যবাহী ঝুমুর নৃত্য ও লোকগান, যেখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই অংশ নিচ্ছেন
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জ জেলা আদিবাসী বহুমুখী উন্নয়ন সংস্থার খৈচালা নির্মল মাহাতো বলেছেন, সময়ের সঙ্গে আদিবাসীদের অনেক ধর্মীয় রীতি হারিয়ে যাচ্ছে। তবে কারাম উৎসব এখনো তাদের সংস্কৃতির জীবন্ত নিদর্শন হিসেবে টিকে আছে। বর্ষায় প্রকৃতি যখন সবুজে ভরে ওঠে, তখনই পালিত হয় এই উৎসব। আদিবাসীদের কাছে কারাম শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি তারুণ্য, ঐক্য ও আনন্দের প্রতীক।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের পার্শ্ব একাদশী থেকে কারাম উৎসব শুরু হয়েছে। সোমবার বিশেষভাবে প্রস্তুত ‘জাঁওয়া’ ডালায় বীজ থেকে চারাগাছ গজানোর মাধ্যমে এবারের আয়োজন শুরু হয়েছে। মূল পূজা ও ধর্মীয় আচার সম্পন্ন হচ্ছে বুধবার রাতে।
চলনবিলের সাতটি উপজেলার অন্তত ৪৫ থেকে ৫০টি গ্রামে মাহাতো, কুর্মি, সাঁওতাল, ওঁরাও, বড়াইক, পাহান, মাহালি সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ বংশপরম্পরায় এ উৎসব পালন করছেন। আদিবাসীদের বিশ্বাস, পরিবারের মঙ্গল ও ফসলের ভালো ফলনের আশায় কারাম পূজা করা হয়।
আদিবাসী শিক্ষার্থী মৌমিতা মাহাতো বলেছেন, প্রাচীন রীতি অনুযায়ী কারাম গাছের ডাল কেটে পূজা করা হয়। এ কারণে অনেক এলাকায় এ আয়োজনকে ‘ডাল পূজা’ও বলা হয়। কারাম উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের ‘কেরমেতি’ বলা হয়, যারা পাঁচ থেকে সাত দিন আমিষ, তেল, হলুদসহ বিভিন্ন মসলা জাতীয় খাবার থেকে বিরত থাকেন। তাদের বিশ্বাস, নিয়ম ভঙ্গ করলে জাঁওয়ায় অঙ্কুরিত বীজ উৎপন্ন হবে না।
"জাঁওয়া হলো একটি প্রতীকী ধারক। এতে মাটি, মুগ, কুর্থি, ছোলা বীজ অঙ্কুরিত করে রাখা হয়। আদিবাসীদের কাছে জাঁওয়া প্রকৃতির সন্তানের মতো। এর পরিচর্যা প্রকৃতির শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও পূজারই একটি অংশ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জ জেলার চলনবিলাঞ্চল (৪৫-৫০টি গ্রাম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খৈচালা নির্মল মাহাতো, মৌমিতা মাহাতো, ‘কেরমেতি’ অংশগ্রহণকারীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ থেকে ৫০টি গ্রাম, পাঁচ থেকে সাত দিন (আমিষ-মসলা থেকে বিরত থাকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!