📌 ভোলার লালমোহন উপজেলায় নির্মিত ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি জরাজীর্ণ ব্রিজ ১৬ বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে। ব্রিজের ভাঙা অংশ দিয়ে সাঁকো ও কাঠের মই তৈরি করে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। শিক্ষার্থীসহ শতশত মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ব্রিজ পার করে যাচ্ছেন
ভোলার লালমোহন উপজেলার মোতাহার নগর ইউনিয়নের গণেশপুর এলাকায় নির্মিত একটি জরাজীর্ণ ব্রিজ ১৬ বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে। ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজের ভাঙা স্লাবের ওপর সুপারি গাছ ফেলে তৈরি করা সাঁকো এবং কাঠের মই দিয়ে প্রতিদিন শতশত মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা ব্রিজটি দিয়ে পারাপারের সময় কাঁপতে থাকা ব্রিজের ভয়াবহ অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬ বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে ভোলার লালমোহন উপজেলার মোতাহার নগর ইউনিয়নের গণেশপুর এলাকার নয়া ভাঙ্গানী খালের ওপর নির্মিত ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজ।
- 📌 ২০০৯ সালে নির্মিত ব্রিজের পূর্ব পাশ ও মাঝখানের স্লাব ২০১০ সালে ধসে পড়লে স্থানীয়রা সুপারি গাছ ও কাঠ দিয়ে সাঁকো ও মই তৈরি করে চলাচল করছেন।
- 📌 শিক্ষার্থীসহ শতশত মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ব্রিজ পার করে যাচ্ছেন। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শান্ত, পঞ্চম শ্রেণির আব্দুল্লাহ ও চতুর্থ শ্রেণির ইব্রাহিম জানান, ব্রিজটি দিয়ে পার হওয়ার সময় ভয় লাগে।
- 📌 ব্রিজটি দিয়ে আহত হয়েছে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের অনেক মানুষ। অসুস্থ রোগী, বয়োবৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এই ব্রিজের অবস্থা বিশেষ বিপদজনক।
- 📌 ব্রিজ সংস্কারের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসীরা। তারা ভোলা-৩ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের (বীরবিক্রম) দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন।
📰 বিস্তারিত
২০০৯ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় নির্মিত এই ব্রিজের পূর্ব পাশ ও মাঝখানের স্লাব ২০১০ সালে ধসে পড়লে ব্রিজটি সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়ে। এরপর থেকে ১৬ বছর ধরে কোনো সংস্কার বা নতুন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মাতাব্বর, শাহে আলম ও শামছুল হক সিকদার জানান, ব্রিজের ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচলের কোনো উপায় না থাকায় পূর্ব পাশ ও মাঝখানে সুপারি গাছ ফেলে সাঁকো এবং পশ্চিম পাশে কাঠ দিয়ে মই তৈরি করে চলাচল করছেন তারা।
ব্রিজটির অবস্থা খুবই বিপজ্জনক। কেউ হাঁটলেই ব্রিজটি থরথর করে কাঁপতে থাকে। সামান্য অসতর্কতা হলেই খালে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ব্রিজটি থেকে খালে পড়ে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের অনেক মানুষ আহত হয়েছে। বিশেষত শিক্ষার্থীদের জন্য এই ব্রিজের অবস্থা অত্যন্ত বিপদজনক। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শান্ত, পঞ্চম শ্রেণির আব্দুল্লাহ ও চতুর্থ শ্রেণির ইব্রাহিম জানান, ব্রিজটি দিয়ে পার হওয়ার সময় ভয় লাগে। মনে হয়, এই ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে যাবে। তাদের মতো এলাকার সব শিক্ষার্থীকেই প্রতিদিন চরম আতঙ্ক নিয়ে পার হতে হয় ব্রিজটি।
ব্রিজটি দিয়ে আশপাশের কয়েক গ্রামের শতশত মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এ পথে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় অসুস্থ রোগী, বয়োবৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের। জরুরি প্রয়োজনে কাউকে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিতে হলে বাঁশ দিয়ে পালকি তৈরি করে বাজার পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়। এতে রোগীর স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
"ব্রিজটি নির্মাণের এক বছরের মাথায় পূর্ব পাশ ও মাঝখানের অংশ ভেঙে খালে পড়ে যায়। পশ্চিম পাশের অংশটি এখন রাস্তার তুলনায় অনেক উঁচু। ফলে যাতায়াতের সুবিধার্থে সুপারি গাছ ফেলে কোনোমতে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্রিজটিতে মানুষ উঠলে সেটি কাঁপতে থাকে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ এই ব্রিজ দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোলার লালমোহন উপজেলা, মোতাহার নগর ইউনিয়ন, গণেশপুর এলাকা, নয়া ভাঙ্গানী খাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাচ্চু মাতাব্বর, শাহে আলম, শামছুল হক সিকদার, শিক্ষার্থী শান্ত, আব্দুল্লাহ, ইব্রাহিম, এমপি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ বছর (ব্রিজ সংস্কারহীন), ১২ মিটার (ব্রিজের দৈর্ঘ্য), ৩ নম্বর ওয়ার্ড, ৩ আসনের এমপি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!