📌 তামিল পরিচালক অরুণ মাথেশ্বরনের 'ডিসি' ছবিতে শরৎচন্দ্রের দেবদাসকে সহিংস গ্যাংস্টার হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়েছে। প্রেমের বদলে প্রতিশোধের পথে অগ্রসর এই নতুন দেবদাসের জীবন পুলিশের লড়াই, হত্যা এবং বন্দী নারীদের মুক্তির গল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে। ছবিতে পার্বতী একজন ক্লাব গায়িকা এবং চন্দ্রা একজন ১৮ বছর বন্দী যৌনকর্মী হিসেবে চিত্রিত হয়েছে
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দেবদাস' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত প্রেমিক চরিত্র। কিন্তু তামিল নির্মাতা অরুণ মাথেশ্বরনের 'ডিসি' এই চরিত্রকে সম্পূর্ণ নতুন দিক থেকে উপস্থাপন করেছে। এই ছবিতে দেবদাসের নাম পরিবর্তিত হয়ে 'দাস' হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং তার জীবন প্রেমের বদলে প্রতিশোধের পথে অগ্রসর হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে এই সিনেমা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 'ডিসি' ছবিতে দেবদাসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তামিল অভিনেতা লোকেশ কঙ্গরাজ, যিনি একজন পলাতক গ্যাংস্টার হিসেবে চিত্রিত হয়েছে।
- 📌 দাসের জীবনে দুটি প্রধান নারী চরিত্র: পার্বতী (ক্লাব গায়িকা) এবং চন্দ্রা (১৮ বছর বন্দী যৌনকর্মী)।
- 📌 ছবিতে দাস পুলিশের সঙ্গে লড়াই করে, মানুষ হত্যা করে, কিন্তু একই সঙ্গে অসহায়দের পাশে দাঁড়ায়।
- 📌 'ডিসি' শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের মূল চরিত্র পার্বতী ও চন্দ্রমুখীকে নতুন সামাজিক বাস্তবতায় বসিয়েছে।
- 📌 ছবির দৈর্ঘ্য ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট এবং এটি সান নেক্সটে স্ট্রিমিং করা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
শরৎচন্দ্রের 'দেবদাস' উপন্যাসে নায়ক ধীরে ধীরে নিজের জীবন নষ্ট করে। কিন্তু 'ডিসি' ছবিতে এই চরিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত পথে অগ্রসর হয়েছে। দাসের ভেতরের যন্ত্রণা তাকে সহিংস করে তোলে। তিনি মানুষ হত্যা করে, পুলিশের সঙ্গে লড়াই করে এবং একই সঙ্গে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এই দ্বৈততাই তাকে প্রচলিত নায়ক নয়, অ্যান্টিহিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ছবিতে পার্বতী চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানজানা কৃষ্ণমূর্তি। তবে এই পার্বতী সেই জমিদারবাড়ির মেয়ে নয়, বরং একজন ক্লাব গায়িকা। দাসের সঙ্গে তাঁর পরিচয়ও খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। দুজনের মধ্যে অল্প সময়ের জন্য তৈরি হয় একধরনের আশ্রয়, কিন্তু পুলিশের হামলায় পার্বতী আহত হয় এবং দাস পালাতে বাধ্য হয়।
অপরদিকে, চন্দ্রা চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওয়ামিকা গাব্বি। মূল 'দেবদাস'-এর চন্দ্রমুখীর মতো এই চন্দ্রাও একজন যৌনকর্মী, যাকে শৈশব থেকেই একটি যৌনপল্লিতে আটকে রাখা হয়েছে। প্রায় ১৮ বছর ধরে সে বন্দী। দাস চন্দ্রাকে সেই বন্দিদশা থেকে বের করে আনে এবং চন্দ্রাও স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে চলে আসে। এই সম্পর্ককে 'বনি অ্যান্ড ক্লাইড'-এর সঙ্গে তুলনা করা যায়।
"‘ডিসি’র অ্যাডাপ্টেশন সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে এই অংশে। মূল ‘দেবদাস’-এ পার্বতী ও চন্দ্রমুখী নায়কের জীবনে দুই ভিন্ন আবেগের প্রতীক। ‘ডিসি’ তাঁদের চরিত্রকে নতুন সামাজিক বাস্তবতায় বসিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তামিল চলচ্চিত্র শিল্প (তামিলনাড়ু)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লোকেশ কঙ্গরাজ (দাস), সানজানা কৃষ্ণমূর্তি (পার্বতী), ওয়ামিকা গাব্বি (চন্দ্রা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট (দৈর্ঘ্য), ১৮ বছর (চন্দ্রার বন্দিদশা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!