📌 মুম্বাইয়ের একটি গ্যারেজ থেকে শুরু করে হলিউডের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পৌঁছেছেন প্রযোজক নমিত মালহোত্রা। তার প্রতিষ্ঠান ডিএনইজি অস্কারজয়ী ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস দিয়ে ‘রামায়ণ’-এর মতো ৪ হাজার কোটি টাকার মহাকাব্যিক সিনেমা নির্মাণ করছে। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটে হারানো ৯০% সম্পদ ফিরিয়ে আনে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ
মুম্বাইয়ের একটি ছোট গ্যারেজ থেকে শুরু করে হলিউডের মঞ্চে পৌঁছেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রযোজক নমিত মালহোত্রা। তার প্রতিষ্ঠান ডিএনইজি (DNEG) ‘রামায়ণ’-এর মতো ৪ হাজার কোটি টাকার মহাকাব্যিক সিনেমায় কাজ করছে, যা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে যাচ্ছে। ১৯৯৫ সালে একটি অ্যাপল কম্পিউটার এবং তিন শিক্ষকের সহায়তায় শুরু করা এই যাত্রা এখন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র শিল্পের একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৮ বছর আগের হারানো সম্পদ ফিরিয়ে আনে** নমিত মালহোত্রা — ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটে হারানো ৯০% সম্পদ ফিরিয়ে আনে তার প্রতিষ্ঠান ডিএনইজির সাফল্য।
- 📌 **৪ হাজার কোটি বাজেটের ‘রামায়ণ’ নির্মাণ** — পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির এই মহাকাব্যিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর, যশ, সাই পল্লবী ও সানি দেওলসহ তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের।
- 📌 **হলিউডে বিশেষ উপস্থাপনা** — ২৮ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেসের একাডেমি মিউজিয়ামে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে নমিত নিজের দীর্ঘ যাত্রার কথা তুলে ধরেন।
- 📌 **ডিএনইজি হলিউডের প্রিয় প্রতিষ্ঠান** — ‘ইন্টারস্টেলার’, ‘ব্লেড রানার ২০৪৯’ ও ‘ফার্স্ট ম্যান’সহ বহু অস্কারজয়ী সিনেমায় কাজ করেছে এই প্রতিষ্ঠান।
- 📌 **পরিবারের চলচ্চিত্র জগতের উত্তরসূরি** — নমিতের বাবা নরেশ মালহোত্রা চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং দাদা এম এন মালহোত্রা ছিলেন চিত্রগ্রাহক।
📰 বিস্তারিত
নমিত মালহোত্রার চলচ্চিত্র নির্মাণের যাত্রা শুরু হয়েছিল মুম্বাইয়ের একটি গ্যারেজে। ১৯ বছর বয়সে তিনি একটি অ্যাপল কম্পিউটার এবং ভিডিও সম্পাদনার আগ্রহ নিয়ে ‘ভিডিও ওয়ার্কশপ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করেন। সেই ছোট উদ্যোগ থেকে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে প্রাইম ফোকাস, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস প্রতিষ্ঠান ডিএনইজিতে রূপ নেয়।
নমিতের চলচ্চিত্র নির্মাণের পেছনে ছিল পরিবারের চলচ্চিত্র জগতের প্রভাব। তার বাবা নরেশ মালহোত্রা চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং দাদা এম এন মালহোত্রা ছিলেন চিত্রগ্রাহক। কিন্তু তিনি বেছে নেন চলচ্চিত্র নির্মাণের পেছনে থাকা প্রযুক্তি ও কারিগরি কাজে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করা। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ভিডিও ওয়ার্কশপ’ ধীরে ধীরে টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্রের পোস্ট-প্রোডাকশনে যুক্ত হয়। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি ‘প্রাইম ফোকাস’ নামে পুনর্গঠিত হয় এবং ২০০৬ সালে ভারতের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।
নমিতের ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগের মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা বিস্তার। ২০১৪ সালে যুক্তরাজ্যের ডাবল নেগেটিভের সঙ্গে একীভূত হয়ে গড়ে ওঠে ডিএনইজি। তবে ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটে তিনি নিজের সম্পদের প্রায় ৯০% হারান। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার ব্যবসা বিস্তার করেন। এখন তার প্রতিষ্ঠান ‘রামায়ণ’-এর মতো মহাকাব্যিক সিনেমায় কাজ করছে, যা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে যাচ্ছে।
"এই স্বপ্নেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে সিনেমাটির বিশেষ উপস্থাপনা। একাডেমি মিউজিয়াম অব মোশন পিকচার্সের ডেভিড গেফেন থিয়েটারে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে অস্কার পাওয়ার মতো আবেগঘন মুহূর্ত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই (গ্যারেজ থেকে শুরু), লস অ্যাঞ্জেলেস (স্বাগত অনুষ্ঠান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নমিত মালহোত্রা, রণবীর কাপুর, যশ, সাই পল্লবী, পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ হাজার কোটি টাকা (সিনেমা বাজেট), ১৮ বছর (হারানো সম্পদ ফিরিয়ে আনা), ৯০% (সম্পদ হারানো), ২৮ অক্টোবর (স্বাগত অনুষ্ঠান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!