📌 এস আলম সংশ্লিষ্ট ২৪ কোম্পানির ৮১.৯২% শেয়ার নিয়ে রিট শুনতে বিচারপতি বিব্রতবোধ প্রকাশ করায় বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাচ্ছে। বুধবার বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও রেজাউল করিমের বেঞ্চ আদেশ দেন।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে এস আলম (সাইফুল আলম) সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রাতিষ্ঠানের শেয়ার ধারণের বৈধতা নিয়ে করা রিট (রুল) শুনতে দ্বৈত বেঞ্চের এক বিচারপতির বিব্রতবোধের কথা জানিয়ে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠাতে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- এস আলম (সাইফুল আলম) সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি ইসলামী ব্যাংকে ৮১.৯২% শেয়ার ধারণ করেছে বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।
- ব্যাংক কোম্পানিজ আইন অনুসরণ না করে এই শেয়ার ধারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি রিট করেন তৎকালীন এমডি মুহাম্মদ মনিরুল মওলা।
- বুধবার আদালতের কার্যতালিকায় ১০৯ নম্বর ক্রমিকে রিটটি ওঠে — এক বিচারপতি (কনিষ্ঠ) বিব্রতবোধ প্রকাশ করায় আংশিক শ্রুত হিসেবে গণ্য হবে না উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হলো।
- আদালতে ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে এম আবদুল কাইয়ূম, আইইআরবির পক্ষে মোহাম্মদ শিশির মনির, রাষ্ট্রপক্ষে ডিএজি মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে শামীম খালেদ আহমেদ শুনানি করেন।
- আগের আদেশে ২৪ শেয়ারহোল্ডার কোম্পানির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানিজ আইন অনুসরণ না করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে এস আলম সংশ্লিষ্ট ২৪ কোম্পানির প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ধারণের বৈধতা নিয়ে গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি রিটটি করেন ব্যাংকটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ মনিরুল মওলা। এস আলম-সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত ২৪ শেয়ারহোল্ডার কোম্পানির ব্যাংকটিতে শেয়ারের পরিমাণ ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ বলে রিটে দাবি করা হয়। এই রিটে বিবাদী হিসেবে আগে যুক্ত হয় ব্যাংকটির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তা ইসলামিক ইকোনমিকস রিসার্চ ব্যুরো (আইইআরবি)।
রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১১ মার্চ হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন — এস আলম সংশ্লিষ্ট ২৪ প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ও ব্যক্তিবিশেষের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ রাখতে আদেশ দেওয়া হয় এবং শেয়ারহোল্ডার পরিচালকদের আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। রুলে ব্যাংক কোম্পানিজ আইন অনুসরণ না করে কোন ক্ষমতাবলে ২৪ কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ধারণ করেছে এবং এসব শেয়ার কেন বাজেয়াপ্ত করা হবে না — তা জানতে চাওয়া হয়।
এই রুলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হলে ২২ জুলাই শুনানি নিয়ে আদালত ২৯ জুলাই পর্যন্ত তা মুলতুবি করেন। আগের ধারাবাহিকতায় বুধবার রিটটি (আংশিক শ্রুত হিসেবে) আদালতের কার্যতালিকায় ১০৯ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। বেঞ্চের একজন বিচারপতি (কনিষ্ঠ) বিব্রতবোধ প্রকাশ করায় আদালত বিষয়টি আংশিক শ্রুত হিসেবে গণ্য হবে না উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর আদেশ দেন।
এম আবদুল কাইয়ূম প্রথম আলোকে বলেন, "রুলের ওপর শুনানি চলছিল। আজ রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। একপর্যায়ে আদালত জানান যে বেঞ্চের একজন বিচারপতি বিব্রতবোধ করেছেন। পরে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।"
রিট আবেদন থেকে জানা যায়, যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে ওই ২৪টি শেয়ার রয়েছে সেগুলো হলো: জেএমসি বিল্ডার্স, বিটিএ ফাইন্যান্স, প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল, এবিসি ভেঞ্চারস, এক্সেল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং, প্লাটিনাম এনডেভার্স, এক্সেলশিয়র ইমপেক্স কোম্পানি, গ্র্যান্ড বিজনেস, লায়ন হেড বিজনেস রিসোর্সেস, বিএলইউ ইন্টারন্যাশনাল, আরমাডা স্পিনিং মিলস, কিংসওয়ে এনডেভার্স, ইউনিগ্লোভ বিজনেস রিসোর্সেস, সোলিড ইনস্যুরেন্স পিসিসি, হলিস্টিক ইন্টারন্যাশনাল, হাই ক্লাস বিজনেস এন্টারপ্রাইজ, ক্যারোলিনা বিজনেস এন্টারপ্রাইজ, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি, ব্রডওয়ে ইম্পেক্স কোম্পানি, পিকস বিজনেস এন্টারপ্রাইজ, এভারগ্রিন শিপিং, ম্যারাথন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, কিংস্টোন ফ্লাওয়ার মিলস এবং পারসেপ্টা এনডেভার্স।
প্রসঙ্গত, শেয়ার বাজেয়াপ্ত, ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ এবং পরিচালকদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার মতো তাৎপর্যপূর্ণ আদেশের পর এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। বিচারপতি বিব্রতবোধের কারণে বিষয়টি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে কোন বেঞ্চে শুনানি হবে — তা নির্ধারিত হওয়া বাকি। ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো নিয়ে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আইনি লড়াই।
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!