📌 মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনে শহীদ সুরকার আলতাফ মাহমুদকে আটক করে নেওয়া হয়। মৃত্যুর মুখে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশ অবশ্যই স্বাধীন হবে’। ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মৃতি ৭১ অনুষ্ঠানে তাঁর সহযোদ্ধারা তাঁর সাহসিকতার কথা তুলে ধরেন
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শহীদ সুরকার আলতাফ মাহমুদের নাম অমর হয়ে আছে। পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের মুখে তিনি সাহস হারাননি। মৃত্যুর মুখে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশ অবশ্যই স্বাধীন হবে’। গত শনিবার ঢাকার ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘স্মৃতি ৭১’ অনুষ্ঠানে তাঁর সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল আলম বিল্লাহ ওরফে খনু বিল্লাহ তাঁর শেষ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাকিস্তানি সেনারা আলতাফ মাহমুদকে আটক করে নেওয়ার সময় তাঁর কপাল থেকে বেয়োনেটের আঘাতে অনেক চামড়া কেটে পড়েছিল এবং মুখের এক পাশ ভয়াবহভাবে জখম হয়েছিল।
- 📌 নির্যাতনের সময় তাঁকে উল্টো করে ঝুলিয়ে ক্রমাগত পেটানো হতো এবং তাঁকে উর্দুতে প্রশ্ন করা হলেও তিনি বাংলায় উত্তর দিতেন।
- 📌 আলতাফ মাহমুদ বলেছিলেন, ‘আমাকে ওরা ছাড়বে না। আমার জন্য চিন্তা করো না। আমাদের দেশ অবশ্যই স্বাধীন হবে’।
- 📌 অনুষ্ঠানে আলতাফ মাহমুদের সহযোদ্ধা শিল্পী আবুল বার্ক্ আলভী, ব্যাংকার নাসের বখতিয়ার ও সংগীতশিল্পী লিনু বিল্লাহ তাঁদের নির্যাতনের বিবরণ দেন।
- 📌 মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সাংস্কৃতিক কর্মীদের অবদান অনেকটা উপেক্ষিত থেকেছে। আলতাফ মাহমুদ জীবনের মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছিলেন’।
📰 বিস্তারিত
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা আলতাফ মাহমুদকে আটক করে নেওয়ার সময় তাঁর শরীরে প্রচণ্ড আঘাত লাগে। তাঁর কপাল থেকে বেয়োনেটের আঘাতে অনেক চামড়া কেটে পড়েছিল এবং রাইফেলের বাঁটের আঘাতে মুখের এক পাশ ভয়াবহভাবে জখম হয়েছিল। একটা চোখ বুজে গিয়েছিল। সারা শরীরে ছিল আঘাতের চিহ্ন। খায়রুল আলম বিল্লাহ বলেন, ‘আমার কাঁধে মাথা রেখে তিনি বলেছিলেন, “আমাকে ওরা ছাড়বে না। আমার জন্য চিন্তা করো না। আমাদের দেশ অবশ্যই স্বাধীন হবে”।’
অনুষ্ঠানে আলতাফ মাহমুদের সহযোদ্ধা শিল্পী আবুল বার্ক্ আলভী বলেন, ‘আমি রণাঙ্গন থেকে ঢাকায় এসে তাঁর বাসায় গিয়েছিলাম। রাত হয়ে যাওয়ায় তিনি আমাকে থেকে যেতে বলেছিলেন। পরদিন সকালে পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে আটক করে নেয়। তাঁকে ছবি আঁকতে দেখে সেনারা তাঁর দুই হাত হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে থেঁতলে দিয়েছিল।’
ব্যাংকার নাসের বখতিয়ার বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেককেই পেটানো, লাথি মারা, গায়ে জ্বলন্ত সিগারেট চেপে ধরাসহ প্রচণ্ড নির্যাতন করা হয়েছিল। তবে আলতাফ মাহমুদকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল, তা ছিল আরও ভয়ংকর। তাঁকে প্রশ্ন করা হলেও তিনি বাংলায় উত্তর দিতেন। তাঁর মুখ দিয়ে ওরা একটিও উর্দু শব্দ বের করতে পারেনি।’
"আমাকে ওরা ছাড়বে না। আমার জন্য চিন্তা কোরো না। আমাদের দেশ অবশ্যই স্বাধীন হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, ছায়ানট মিলনায়তন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলতাফ মাহমুদ, খায়রুল আলম বিল্লাহ ওরফে খনু বিল্লাহ, আবুল বার্ক্ আলভী, নাসের বখতিয়ার, লিনু বিল্লাহ, সারওয়ার আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ আগস্ট (আটক), ৭১ (মুক্তিযুদ্ধের বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!