📌 বিবিসি বাংলা প্রতিবেদক মুকিমুল আহসান। উদ্ধারকৃত: এস এইচ চামিন্দা (বাবা) ও সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং (ছেলে)—ডেভিনুওয়ারা, রুরাল হসপিটাল রোড। উদ্ধারকারী: জিয়াউর রহমান—কক্সবাজার মহেশখালী কুতুবজোম; ৮ জেলে। ১৯ জুন বের, ইঞ্জিন বিকল, ৩৬ দিন ভাসতে, কাঁচা মাছ খেতেন। গুলিরধার এলাকায় বুধবার রাতে উদ্ধার। ১৪ ঘণ্টা ট্রলার চালিয়ে উপকূলে। হোয়াটসঅ্যাপে পরিবারের সঙ্গে কথা। জিয়াউরের বাসায় চিকিৎসা। ওসি মো. আবদুস সুলতান—শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনার ফোন। দোভাষী: হোটেল কর্মকর্তা। সমাজ সেবা অধিদপ্তর, ঢাকায় পাঠানো।
সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন বাবা-ছেলেসহ চারজন শ্রীলঙ্কান নাগরিক। হঠাৎই বিকল হয়ে যায় তাদের মাছ ধরার ট্রলার। সেখান থেকে দুইজন অন্য ট্রলারে ফিরে গেলেও বিকল ট্রলারটি রক্ষা করতে সেটি ছেড়ে যাননি বাবা ও ছেলে। টানা ৩৬ দিন শ্রীলঙ্কান সেই ট্রলারটি সমুদ্রে ভাসতে থাকার পর গত বুধবার বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ট্রলারটিকে দেখতে পায় কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের জিয়াউর রহমানের ট্রলার। বিবিসি বাংলার মুকিমুল আহসানের প্রতিবেদন অনুযায়ী—উদ্ধারকৃত দুইজন হলেন এস এইচ চামিন্দা ও তাঁর ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং—ডেভিনুওয়ারা এলাকার রুরাল হসপিটাল রোডের বাসিন্দা। ১৯ জুন বের হয়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়—খাবার শেষ হলে কাঁচা মাছ খেতে বাধ্য হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- উদ্ধারকৃত: এস এইচ চামিন্দা (বাবা) ও সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং (ছেলে)—শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা, রুরাল হসপিটাল রোড।
- উদ্ধারকারী: জিয়াউর রহমান—কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবজোম ইউনিয়ন; ট্রলারে ৮ জন জেলে।
- ঘটনা: ১৯ জুন চারজন শ্রীলঙ্কান জেলে মাছ ধরতে বের হন; ইঞ্জিন বিকল; দুইজন ফিরে গেলেও বাবা-ছেলে ট্রলার ছাড়েননি।
- ভাসতে থাকা: ৩৬ দিন—সমুদ্রে; খাবার শেষ হলে কাঁচা মাছ খেতেন।
- উদ্ধার স্থান: বঙ্গোপসাগরের গুলিরধার এলাকা—বুধবার রাতে।
- পথ: ১৪ ঘণ্টা ট্রলার চালিয়ে উপকূলে—বৃহস্পতিবার সকালে পৌঁছান।
- যোগাযোগ: মোবাইল নেটওয়ার্কে এলে হোয়াটসঅ্যাপে পরিবারের সঙ্গে কথা।
- চিকিৎসা: জিয়াউর রহমানের বাসায় রাত কাটানো; স্থানীয় ডাক্তার দেখানো; ওষুধ দেওয়া।
- ওসি: মো. আবদুস সুলতান—মহেশখালী থানা; শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনার ফোন করেছেন।
- দোভাষী: কক্সবাজারের একটি হোটেলের শ্রীলঙ্কান কর্মকর্তা।
- প্রত্যাবর্তন: সমাজ সেবা অধিদপ্তরে হস্তান্তর; ঢাকায় পাঠানো হবে; শ্রীলঙ্কান দূতাবাস প্রস্তুতি নিচ্ছে।
- ট্রলার: বিকল ট্রলারটি পুলিশ হেফাজতে।
৩৬ দিন সমুদ্রে ভাসতে থাকা বাবা-ছেলে
সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন বাবা-ছেলেসহ চারজন শ্রীলঙ্কান নাগরিক। হঠাৎই বিকল হয়ে যায় তাদের মাছ ধরার ট্রলার। সেখান থেকে দুইজন অন্য ট্রলারে ফিরে গেলেও বিকল সেই মাছ ধরার ট্রলারটি রক্ষা করতে সেটি ছেড়ে যাননি বাবা ও ছেলে। টানা ৩৬ দিন শ্রীলঙ্কান সেই মাছ ধরার ট্রলারটি সমুদ্রে ভাসতে থাকার পর গত বুধবার বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ট্রলারটিকে দেখতে পায় বাংলাদেশি একটি মাছ ধরা ট্রলার।
ওই ট্রলারটি কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের জিয়াউর রহমানের। তিনিসহ ওই ট্রলারটিতে মোট আটজন জেলে ছিলেন। জিয়াউর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন—গত বুধবার রাতে তিনি ওই ট্রলারটিকে দূর থেকে ভাসতে দেখছিলেন। একটু একটু করে যখন কাছে যান তখন তিনি দেখতে পান ট্রলারটিতে দুইজন ভিনদেশি নাগরিক। 'কাছে গিয়ে দেখলাম দুইজন মানুষ বসা থেকে উঠতে পর্যন্ত পারতেছে না। তাদের কোন কথাই বুঝতেছিলাম না। তারা হাতের ইশারায় সাহায্য চাচ্ছিল। আর শুধু বলছিল—শ্রীলঙ্কান, শ্রীলঙ্কান।'
এস এইচ চামিন্দা ও সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং
শ্রীলঙ্কার ওই দুই নাগরিক হলেন এস এইচ চামিন্দা ও তাঁর ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং। তাঁদের বাড়ি শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার রুরাল হসপিটাল রোডে। সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিংয়ের মেয়ে শ্রীলঙ্কা থেকে বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন উদ্ধারকৃত ওই দুইজন নাগরিক সম্পর্কে তাঁর বাবা ও দাদা। তিনি এ জন্য বাংলাদেশের জেলে ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া ওই দুই জেলের বরাত দিয়ে ট্রলার মালিক জিয়াউর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন—সাগরে ভেসে থাকার একপর্যায়ে যখন তাদের খাবার শেষ হয়ে গিয়েছিল—ওই দুই শ্রীলঙ্কান নাগরিক সাগরের কাঁচা মাছ খেতে বাধ্য হয়েছিলেন। ট্রলারে ওঠার পর ওই দুইজনকে বিস্কুট পানিসহ কিছু খাবার দেওয়া হলে সেগুলো খান তারা।
পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও চিকিৎসা
ট্রলার মালিক জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন—ওই দুই জেলেকে নিয়ে বাংলাদেশি ট্রলারটি উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছায়। একটা পর্যায়ে যখন মোবাইলে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আওতায় আসে তখন ওই দুই জেলে শ্রীলঙ্কায় থাকা তাদের পরিবারের একটি ফোন নম্বর দেন তাঁর কাছে। সেই নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দেওয়ার পর বাবা-ছেলে ওই দুইজন জেলে তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তারা আশ্বস্তও হন।
জিয়াউর রহমান বলেছেন—'এরপর আমরা বিষয়টি স্থানীয় থানা ও কোস্টগার্ডকেও জানাই। পরে ওই দুইজন জেলেকে সাথে করে আমার বাসায় নিয়ে যাই। বাসায় নিয়ে তাদেরকে রাতের খাবার-দাবার দেই। স্থানীয় ডাক্তার ডেকে ডাক্তার দেখাই। ডাক্তার তাদের ওষুধ দেয়—সেই ওষুধ তারা খায়।' ওই রাতে জিয়াউর রহমানের বাসায় থাকা অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন রাতে ওই দুইজন শ্রীলঙ্কান জেলেকে রাতে ওই বাসাতে রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
প্রত্যাবর্তন: শ্রীলঙ্কান দূতাবাসের উদ্যোগ
মহেশখালী থানার ওসি মো. আবদুস সুলতান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন—'গভীর সমুদ্রে আসার পর মূলত তাদের নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গিয়েছিল। যখন তারা আর ট্রলারটি ঠিক করতে পারেনি তখন সেটি ভাসতে ভাসতে আমাদের এদিকে চলে আসে।' দোভাষীর মাধ্যমে ওই দুইজন জেলের সঙ্গে কথা বলে ওসি জানিয়েছেন—গত জুন মাসের ১৯ তারিখ চারজন শ্রীলঙ্কান জেলে ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে বের হওয়ার পর তাদের নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গিয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানায় বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কান দূতাবাসকে। ওসি সুলতান বলেছেন—'খবর পেয়ে শ্রীলঙ্কার অ্যাম্বাসেডর আমাকে ফোন দেন। আমার সাথে কথা বলার পর আমাদের হেফাজতে থাকা ওই দুইজন জেলের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করেন যে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিবেন।' পুলিশ জানিয়েছে—ওই দুইজনকে থানা হেফাজত থেকে সমাজ সেবা অধিদপ্তরে রাখার জন্য আদালতের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে তাদের ঢাকায় পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
'কাছে গিয়ে দেখলাম দুইজন মানুষ বসা থেকে উঠতে পর্যন্ত পারতেছে না। তাদের কোন কথাই বুঝতেছিলাম না। তারা হাতের ইশারায় সাহায্য চাচ্ছিল। আর শুধু বলছিল—শ্রীলঙ্কান, শ্রীলঙ্কান।'—জিয়াউর রহমান, ট্রলার মালিক, মহেশখালী, কক্সবাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!