📅 ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত
মোঃ নাহিদ ইসলাম

মোঃ নাহিদ ইসলাম

Nahid Islam
🏛️ সংসদ সদস্য (ঢাকা-১১ আসন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ)
জাতীয় নাগরিক পার্টি জাতীয় নাগরিক পার্টি
💼 অন্যান্য 📅 ২৮ এপ্রিল ১৯৯৮, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ 🌍 বাংলাদেশি

✨ সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

মোঃ নাহিদ ইসলাম — সংসদ সদস্য (ঢাকা-১১ আসন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ)

📋 জীবনী

নাহিদ ইসলাম (জন্ম: ২৮ এপ্রিল ১৯৯৮) হলেন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য। তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন ও সফল হন। ২০২৪ সালে তার নাম টাইম ১০০ নেক্সট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। তিনি ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা

নাহিদ ইসলামের ডাকনাম "ফাহিম"। ১৯৯৮ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকায় তার জন্ম হয়েছে। বাবা শিক্ষক ও মা গৃহিণী। তার ছোট এক ভাই আছে। নাহিদ ২০১৪ সালে ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রী মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। এরপরে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে ২০১৬ সালে এইচএসি পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হোন। ২০২২ সালে অনার্স পাস করেন তিনি। বর্তমানে তিনি একই বিভাগে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। নাহিদ একজন বিবাহিত। আন্দোলনকারী ছাড়াও তার রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতাও ছিলেন।

ছাত্র আন্দোলন

২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকাকালীন নাহিদ সুন্দরবনের কাছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রামপাল তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনে তিনি অংশগ্রহণ করেন। ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি প্রথম বর্ষ থেকেই ছাত্রদের দাবি দাওয়া নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি আখতার হোসেনসহ তাঁর সহপাঠীদের সাথে মিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি নামে একটি ছাত্র সংগঠন গঠন করেন এবং এই সংগঠনের সদস্য সচিব ছিলেন। গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি গঠনের পূর্বে তিনি নুরুল হক নুর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ নামক ছাত্র সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

নাহিদ ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই একজন অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। তিনি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে এই আন্দোলন শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের পদত্যাগের দাবিতে অসহযোগ আন্দোলনে পরিণত হয় এবং তা সফলও হয়। এর ফলে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

নাহিদ ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন, যখন আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করায় গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাকে ও আরও পাঁচ সমন্বয়ককে আটক করে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মধ্যরাতের দিকে, প্রায় ২৫ জন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাকে সবুজবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে নিয়ে যায় বলে জানা যায়। তার চোখে পট্টি বাঁধা এবং হাতকড়া পরানো অবস্থায় তাকে একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ছাত্র আন্দোলনে তার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি দুর্ব্যবহার করা হয়। ২১ জুলাই পূর্বাচলে একটি সেতুর নিচে জ্ঞানহীন ও আহত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। ২৬ জুলাই, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য বলে দাবিকারী ব্যক্তিরা ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে তাকে আটক করে। ডিবি পরে নিশ্চিত করে যে তারা নাহিদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরও পাঁচ সমন্বয়ককে "নিরাপত্তাজনিত কারণে" হেফাজতে নিয়েছে। পরবর্তীতে, নাহিদ ও অন্যান্য সমন্বয়করা ডিবি সদর দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি জারি করে বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানান, এই যুক্তি দিয়ে যে কোটা সংস্কারের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে। তবে, নাহিদ পরে স্পষ্ট করেন যে তাকে জোর করে ঐ বিবৃতি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

এরপর, হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নাহিদ এক দফা দাবি পেশ করেন। হাসিনার পদত্যাগ ও ভারত পালিয়ে যাওয়ার পর নাহিদ বলেন, তাদের লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। এরপর তারা "চিরতরে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা উচ্ছেদ" করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনার আহ্বান জানায়, যা ইউনূস গ্রহণ করেন।

📤 শেয়ার: 📘 Facebook 💬 WhatsApp
🤖