📋 জীবনী
মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন (জন্ম: ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৭১) একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ এবং ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শরিফ পাড়ায় ক্বারী পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রাথমিক জীবন
নয়ন ১৯৭১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার শরিফ পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া এবং মাতা উম্মে কুলছুম। তিনি ছাত্রজীবনে একজন ছাত্রনেতা ছিলেন। শিক্ষাজীবনে নয়ন পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। তিনি ১৯৮৭ সালে চরফ্যাশন সরকারি টি. ব্যারেট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। পরবর্তীকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৬-৯৭ সেশনে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবন
মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন স্কুলজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। তার সক্রিয় রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন। তিনি ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সাংগঠনিক জীবনে তিনি ঢাকা কলেজ সাউথ হোস্টেল কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, পাঠাগার সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হিসেবে আন্দোলনের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি একাধিকবার কারাবরণ ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ছাত্ররাজনীতি শেষে তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ৯ জুলাই তাকে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়। বর্তমানে তিনি একইসাথে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নুরুল ইসলাম নয়ন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। এই নির্বাচনে তিনি ১,৮৯,৩৫১ ভোট পেয়ে বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং সারাদেশে চতুর্থ সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড গড়েন। নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীসহ অন্য ৫ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
পেশা ও ব্যক্তিগত জীবন
মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন রাজনীতির পাশাপাশি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যাসন্তানের জনক।
আইনি জটিলতা ও কারাবরণ
মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে একাধিক আইনি জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন। ১/১১-এর রাজনৈতিক সংকটের সময় বিএনপি নেতৃত্বকে 'মাইনাস' করার ফর্মুলা ও দল ভাঙার নানামুখী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তিনি জিয়া পরিবারের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিরোধী তীব্র গণআন্দোলনে তিনি সম্মুখভাগ থেকে নেতৃত্ব দেন। এর ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিটি আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তিনি অসংখ্যবার মামলা, গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের মুখোমুখি হন। ২০২২ সালের মে মাসে পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে ডিসেম্বর মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীকালে ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি তিনি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। এছাড়া, ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহী থেকে ঢাকা ফেরার পথে আমিনবাজার এলাকা থেকে সাভার থানা পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে। ঢাকার একটি রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে সাভার থানায় দায়েরকৃত মামলায় দীর্ঘ আড়াই মাস কারাভোগের পর, ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করে কারামুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে নাশকতার অভিযোগে দায়েরকৃত অন্তত ৭টি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন লাভ করেন। বিএনপি এবং তার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এই মামলাগুলোকে "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" এবং "ভিত্তিহীন" হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল