📋 জীবনী
জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জন্ম: ৯ ডিসেম্বর ১৯৭৩) একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং রাজনৈতিক সংগঠন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ছাত্র আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষা, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
জোনায়েদ সাকি জন্মগ্রহণ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরলহনিয়া গ্রামে। তাঁর জন্মস্থান হাজি আব্দুর রহিম সরকার গার্ডেন, ডাকঘর রামকৃষ্ণপুর, ইউনিয়ন ফরদাবাদ। তাঁর পিতা মো. ফজলুর রহমান এবং মাতা মাসুদা খানম। ১৯৯১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন।
রাজনৈতিক জীবন
==== ছাত্র আন্দোলনে সম্পৃক্ততা ==== ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে জোনায়েদ সাকি রাজনৈতিক সংগ্রামে যুক্ত হন।আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন-এ সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। এই সময়ে তিনি ছাত্র বেতন ও ফি বৃদ্ধি বিরোধী আন্দোলন, যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে বিরাজনীতিকরণ, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এই প্রেক্ষাপটে ১৯৯৭ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌথ আন্দোলনের একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেতন ফি বৃদ্ধি বিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৯ সালে যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন সংগঠিত হয়। পরবর্তীতে এই আন্দোলন মডেলের সফল প্রয়োগ দেখা যায় ২০০৩ সালের শামসুন্নাহার হল আন্দোলন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বেতন ফি বৃদ্ধি প্রতিরোধ আন্দোলন এবং ২০০৮ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে। ২০০০ সালে ছাত্র ফেডারেশনের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে বিদায় নেন।
==== গণসংহতি আন্দোলন ও জাতীয় রাজনীতি ==== ছাত্র রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণের পর শ্রমিক ও সামাজিক আন্দোলন থেকে উঠে আসা কর্মীদের নিয়ে ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট তিনি গণসংহতি আন্দোলন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন। সংগঠনটি জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের একটি রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২০১৬ সালের ৪ ও ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশেষ সাংগঠনিক সম্মেলনে তিনি গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যদিও সংগঠন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তিনি তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি-তে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করেন। ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ি অভ্যুত্থান-এ তিনি সরাসরি আন্দোলনের নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করেছেন। গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লক্ষ্যে তিনি নিজেদের দল গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে জোট গড়ে জনগণের ঐক্য শক্তিশালী করার চর্চা করেছেন। চার বাম দল, পাঁচ বাম দল, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা এবং সর্বশেষ গণতন্ত্র মঞ্চ এর উদাহরণ। তিন সবসময়ই বিদেশমুখী মতবাদের বিপরীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নিজস্ব জমিনে দাঁড়িয়ে এদেশের গণমানুষের স্বার্থের নিজস্ব রাজনৈতিক দল হিসেবে গণসংহতি আন্দোলনকে গড়ে তোলার লড়াই করেছেন।
অন্যান্য রাজনৈতিক দল