📌 যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শতাধিক শিক্ষক উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে শিক্ষাছুটি নিয়ে গিয়েছিলেন। মেয়াদ শেষ হলেও ২৩ শিক্ষক ফিরেননি, যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ৩ কোটি টাকার পাওনা আটকে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে শিক্ষাছুটি নিয়ে যাওয়া শতাধিক শিক্ষকের মধ্যে ২৩ জনের মেয়াদ শেষ হলেও দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দেননি। এই অপারগতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা অর্থের পরিমাণও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি টাকার উপরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষকদের ফিরে আসার বাধ্যতামূলকতা নিশ্চিত করতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যবিপ্রবিতে ১০০ শিক্ষক উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে শিক্ষাছুটি নিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ২৩ জন মেয়াদ শেষেও ফিরেননি
- 📌 ২৩ শিক্ষকের পাওনা অর্থ ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৬ জনের পাওনা ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং বাকি ১৭ জনের ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা
- 📌 শিক্ষক সংকটের কারণে বিভাগে একাধিক কোর্সের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে শিক্ষককে, শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, একমাসের নোটিশ দেওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে
- 📌 শিক্ষকদের ফিরে আসার প্রবণতা কমে যাচ্ছে, কারণ বিদেশে গবেষণার সুযোগ-সুবিধা বেশি
📰 বিস্তারিত
যবিপ্রবিতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে চারশো শিক্ষক কর্মরত আছেন। এর মধ্যে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন প্রায় ১০০ শিক্ষক। তাদের মধ্যে ২৩ জনের শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু তারা কর্মস্থলে ফিরে দায়িত্ব পালন করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার সময় শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেতন-ভাতাসহ সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। নির্ধারিত সময় শেষে কর্মস্থলে ফিরে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তাদের ওপর ন্যস্ত। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কেউ কেউ ফিরে না আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষক সংকট তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিভাগে একজন শিক্ষককে অতিরিক্ত ক্লাস ও একাধিক কোর্সের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস হয় না এবং নির্ধারিত সময়ে কোর্স শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। শিক্ষকদের মতে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার সুযোগ, আধুনিক গবেষণাগার ও অর্থায়নের ঘাটতি রয়েছে। বিপরীতে বিদেশে গবেষণার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক ভালো হওয়ায় অনেক শিক্ষক সেখানে থেকে যেতে আগ্রহী হন। এছাড়া পারিবারিক চাপ ও উন্নত জীবনযাপনের কারণে ফিরতে চাইলেও পারেন না কেউ কেউ।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা কর্মস্থলে যোগ দেননি, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা অর্থ আদায়েও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর জানান, শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা কর্মস্থলে যোগ দেননি, তাদের বিরুদ্ধে শিগ্গিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদেরকে যোগদানের জন্য একমাসের নোটিশ দেওয়া হবে। এর মধ্যে যোগদান না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী মাসেই রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং আছে, সেখান থেকেই তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
"শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা কর্মস্থলে যোগ দেননি, তাদের বিরুদ্ধে শিগ্গিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদেরকে যোগদানের জন্য একমাসের নোটিশ দেওয়া হবে। এর মধ্যে যোগদান না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, শিক্ষকদের দল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ জন শিক্ষক (মেয়াদ শেষেও ফিরেননি), ১০০ শিক্ষক (বিদেশে শিক্ষাছুটি), ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা (পাওনা অর্থ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!