📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের শিক্ষার্থী সাপের কামড়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকায় হলের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের অবহেলা নিয়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেছে। শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসনের পদত্যাগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের দাবি জানিয়েছে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের এক শিক্ষার্থী সাপের কামড়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকায় হলের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের অবহেলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে হলের সাধারণ শিক্ষার্থী ও হল সংসদের নেতা-কর্মীরা প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। তারা হল প্রশাসনের অবহেলার অভিযোগ তুলে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাপের কামড়ে আইসিইউতে: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের শিক্ষার্থী নুরনবী ইসলাম (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ) সাপের কামড়ে আহত হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন
- 📌 বিক্ষোভের দাবি: স্নেক নেট স্থাপন, হলের চারপাশের জঙ্গল পরিষ্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, প্রভোস্টের পদত্যাগ, খাবারের মান উন্নয়ন
- 📌 হল সংসদের অভিযোগ: নিম্নমানের স্নেক নেট দেওয়া, জঙ্গল পরিষ্কার না করা, সাপের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা
- 📌 আহত শিক্ষার্থীর অবস্থা: প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা; অ্যান্টিভেনম দেওয়া হলেও আইসিইউতে স্থানান্তরিত
- 📌 বিক্ষোভের সময়সূচি: হল প্রশাসন ঘেরাও করার সম্ভাবনা জানানো হয়েছে দাবি বাস্তবায়ন না হলে
📰 বিস্তারিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মূল কারণ হল সাপের কামড় এবং হল প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় শিক্ষার্থী নুরনবী ইসলামকে কালাচ সাপে কামড় দেয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী। সাপের কামড়ে আহত হওয়ার পর তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হলেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসনের অবহেলার অভিযোগ তুলে দাবি জানিয়েছে। হল সংসদের ভিপি আশিকুর রহমান সোহাগ বলেছেন, হলের ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় পানি জমে থাকে এবং ড্রেন দিয়ে সাপ হলে প্রবেশ করে। তিনি আরও বলেছেন, হলের চারপাশের জঙ্গল পরিষ্কার করতে পর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য স্নেক নেট স্থাপনের দাবি জানানো হলেও নিম্নমানের নেট দেওয়ায় তা বারবার পরিবর্তন করতে হয়েছে। তিনি দাবি বাস্তবায়ন না হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘেরাও করার কথাও জানান।
হল সংসদের জিএস সোয়াইব হোসেন বলেছেন, হলে এর আগেও সাপের ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেছেন, হলের চারপাশের জঙ্গল ও নালা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সাপের উপদ্রব বাড়ছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত স্নেক নেট স্থাপন, হলের চারপাশের ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার এবং সাপের উপদ্রব ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান আশিক বলেছেন, আমাদের হলের চারপাশে এমন অবস্থা, যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে বসবাস করা অনুপযোগী। তিনি বলেন, হল প্রশাসন ও প্রভোস্টদেরকে জানানোর পরেও তারা কোনো যৌক্তিক কাজ করেননি। তিনি আরও বলেছেন, এক মাস পর পুনরায় সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটার পর শিক্ষার্থীরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
"আমাদের হলের চারপাশে এমন অবস্থা, যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের বসবাস করা অনুপযোগী। আমরা হল প্রশাসন, প্রভোস্টদের সবাইকে জানানোর পরেও তারা আমাদের এ বিষয়ে তারা কোন যৌক্তিক কাজ করেননি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ শামসুজ্জোহা হল, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নুরনবী ইসলাম, আশিকুর রহমান সোহাগ, সোয়াইব হোসেন, নাজমুল হাসান আশিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২ টা, ৪ টা, ১৩৮ নম্বর কক্ষ, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!