📌 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেছেন, আবাসন সংকট ও চিকিৎসা সেবার সীমাবদ্ধতা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপের প্রধান কারণ। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সেমিনারে তিনি জাতীয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার গুরুত্ব তুলে ধরেন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও মানসিক চাপের প্রধান কারণ হিসেবে আবাসন সংকট ও চিকিৎসা সেবার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে রোববার (১১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আবাসন সংকট ও চিকিৎসা সেবার অভাবে জবি শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও হতাশার প্রবণতা বেড়েছে, যা সাংবাদিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে
- 📌 ২১ বছর ধরে সমস্যা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব লক্ষ্য করা যায়
- 📌 মানসিক স্বাস্থ্য সেবার জাতীয় গুরুত্ব অনুধাবন করে বাংলাদেশে পেশাগত ক্যারিয়ার ও সেবা প্রদানের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তুলেছেন উপাচার্য
- 📌 ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে কী সংস্কার হয়েছে তা পর্যালোচনার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি
- 📌 বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের অভিজ্ঞতা শুনি: সত্যিকারের কথা, সত্যিকারের পরিবর্তন’-এর আলোকে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন সেমিনারে বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশার প্রবণতা সাংবাদিক প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আবাসন সংকট, চিকিৎসা সেবার সীমাবদ্ধতা এবং পারিপার্শ্বিক অসুবিধাগুলি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, গত ২১ বছর ধরে এসব সমস্যা নিয়ে আলোচনা হলেও শিক্ষার্থীদের হতাশা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।
উপাচার্য বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সেবার গুরুত্ব অনুধাবন করে এ খাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপ ও আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং এ বিষয়ে পেশাগত ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগও বিস্তৃত। তবে বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কার্যকর ব্যবস্থা ও পেশাগত গুরুত্বের সীমাবদ্ধতা নিয়ে ভাবতে হবে। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে শারীরিক সুস্থতাও ব্যাহত হয়। তাই শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে কতটা সংস্কার হয়েছে, তা পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফাতেমা-তু-জোহরা বিনতে জামান, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন, কি-নোট স্পিকার অধ্যাপক ড. আশোক কুমার সাহা, এবং বিশেষ বক্তা অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মাদ ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আকরাম উজ্জামান।
সেমিনার অনুষ্ঠানের আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। র্যালি শেষে উপাচার্য কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে স্থাপিত মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। এসব স্টলে দিনব্যাপী মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ও আত্মসম্মানবিষয়ক মূল্যায়নের পাশাপাশি পরামর্শসেবা দেওয়া হয়।
"মানসিক স্বাস্থ্যচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে নিতে হবে। দেশে জাতীয় পর্যায়ে এ বিষয়ের পেশাগত গুরুত্ব ও যথাযথ মূল্যায়নের ঘাটতি রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফাতেমা-তু-জোহরা বিনতে জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ বছর (সমস্যা অব্যাহত), ১১ অক্টোবর (বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!