📌 চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে উপাচার্য ক্যাম্পাসে না গিয়ে ই-মেইল মাধ্যমে বেতন বন্ধের আদেশ দেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আইনি লঙ্ঘনের দাবি মেনে বেতন বন্ধ রাখছে
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে আটকে পড়েছে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নির্দেশে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে উপাচার্য ক্যাম্পাসে না গিয়ে ই-মেইল মাধ্যমে বেতন বন্ধের আদেশ দিয়েছেন তিনি। বেতন বন্ধের ফলে শিক্ষক-কর্মকর্তারা বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় অর্থের অভাবের সম্মুখীন হচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চুয়েট শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে আটকে পড়েছে নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের নির্দেশে।
- 📌 ২৯ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিককে ই-মেইল করে উপাচার্য বেতন বন্ধের নির্দেশ দেন।
- 📌 ৫ অক্টোবর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উপাচার্যের ই-মেইল মেনে বেতন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
- 📌 উপাচার্য দাবি করেন, বেতন বিল পাঠানোর জন্য কম্পট্রোলারের স্বাক্ষর আইনত অবৈধ। তিনি বলেন, ধারা ১৩(৭) অনুযায়ী তার অনুমোদন ছাড়া কোনো বেতন বিল পাঠানো যাবে না।
- 📌 ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ শুরু করে। পরে শিক্ষক ও কর্মকর্তারাও যোগ দেন।
- 📌 উপাচার্য ক্যাম্পাসে না গিয়ে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে যোগদানপত্র পাঠিয়ে যোগদান করেন।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে আটকে পড়েছে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নির্দেশে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে উপাচার্য ক্যাম্পাসে না গিয়ে ই-মেইল মাধ্যমে বেতন বন্ধের আদেশ দিয়েছেন তিনি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীরা ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ শুরু করে। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও যোগ দেন।
উপাচার্য ২৪ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন। তবে ক্যাম্পাসে না গিয়ে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে যোগদানপত্র পাঠিয়ে যোগদান করেন। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য ২৯ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিককে ই-মেইল করে বেতন বন্ধের নির্দেশ দেন।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৫ অক্টোবর উপাচার্যের ই-মেইল পেয়ে বেতন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। উপাচার্য দাবি করেন, বেতন বিল পাঠানোর জন্য কম্পট্রোলারের স্বাক্ষর আইনত অবৈধ। তিনি বলেন, চুয়েট আইন ২০০৩-এর ধারা ১৩(৭) অনুযায়ী তার অনুমোদন ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ।
"আমি কম্পট্রোলারসহ সংশ্লিষ্টদের সভার জন্য ডেকেছিলাম। কিন্তু তাঁরা কেউ আসেননি। পরে আমি ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে মেইল দিয়েছি। সেখানে বলা হয়েছে, এই লেনদেনের ফলে কোনো আর্থিক অনিয়ম, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা আইনি জটিলতা সৃষ্টি হলে এর জন্য উপাচার্য বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো দায়ভার বহন করবে না।"
ব্যাংক ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক জানান, উপাচার্যের ই-মেইলের পর বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, সেখান থেকে সমাধান আসবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ শরীফুল আলম (উপাচার্য), জয়ন্ত ভৌমিক (ব্যাংক ব্যবস্থাপক), আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম (সাবেক উপাচার্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ দিন (বেতন আটকে), ২৯ সেপ্টেম্বর (ই-মেইল), ৫ অক্টোবর (ব্যাংক সিদ্ধান্ত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!