📌 ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি অস্ট্রেলীয় দার্শনিক পিটার সিঙ্গারকে অনারারি ফেলোশিপ প্রদান করে। নৈতিকতা ও প্রাণী অধিকার বিষয়ে তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারপারসন তামারা হাসান আবেদ ও উপাচার্য সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি বিশ্বজুড়ে নৈতিকতা ও প্রাণী অধিকার বিষয়ে অবদান রাখা অস্ট্রেলীয় দার্শনিক পিটার সিঙ্গারকে অনারারি ফেলোশিপ প্রদান করে। এই সম্মাননা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত এবং স্যার ফজলে হাসান আবেদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি ২৯ অক্টোবর মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অস্ট্রেলীয় দার্শনিক পিটার সিঙ্গারকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি প্রথমবারের মতো অনারারি ফেলোশিপ প্রদান করে।
- 📌 অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন তামারা হাসান আবেদ ও উপাচার্য সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।
- 📌 পিটার সিঙ্গার ১৯৭২ সালে প্রকাশিত ‘ফেমিন, এফ্লুয়েন্স অ্যান্ড মোরালিটি’ প্রবন্ধ ও ১৯৭৫ সালের ‘অ্যানিমেল লিবারেশন’ বইয়ের জন্য বিখ্যাত।
- 📌 তিনি ‘দ্য লাইফ ইউ ক্যান সেভ’ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
- 📌 সিঙ্গার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে সতর্কতা জানিয়ে বলেন, কর্মসংস্থানে পরিবর্তন আসলে শ্রমিকদের আয় কমে যাবে।
📰 বিস্তারিত
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলীয় দার্শনিক পিটার সিঙ্গারকে অনারারি ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। এই সম্মাননা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত এবং স্যার ফজলে হাসান আবেদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন তামারা হাসান আবেদ ও উপাচার্য সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার সম্মাননাপত্র পাঠ করেন এবং পিটার সিঙ্গারের উল্লেখযোগ্য অবদান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জন এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরিতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অঙ্গীকারের প্রতিফলন এই সম্মাননা। তামারা হাসান আবেদ বলেন, ‘আপনাকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আমাদেরই একজন হিসেবে স্বাগত জানাতে পেরে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি।’
পিটার সিঙ্গার সম্মাননা গ্রহণ করে বলেন, স্যার ফজলে হাসান আবেদের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই স্বীকৃতি তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সত্য ও জ্ঞানের অনুসন্ধান, স্বাধীনভাবে চিন্তা, প্রশ্ন করা এবং মতপ্রকাশের সুযোগ রয়েছে।
১৯৭১ সালে অক্সফোর্ডে কর্মরত থাকাকালীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ভারতে শরণার্থীদের আশ্রয় নিয়ে তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হন। এরই প্রতিক্রিয়ায় তিনি ‘ফেমিন, এফ্লুয়েন্স অ্যান্ড মোরালিটি’ প্রবন্ধ লিখেন। তিনি বলেন, মানুষের লক্ষ্য শুধু ব্যক্তিস্বার্থে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং তা নৈতিকতার পথে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।
সিঙ্গার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আলোচনা করে বলেন, ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ উচ্চপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শ পেতে পারেন। তবে এআইয়ের কারণে কর্মসংস্থানে বড় পরিবর্তন আসবে। তিনি শ্রমিকদের আয় কমে যাওয়া এবং অর্থ ধনী দেশগুলোর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাওয়া বিষয়ে সতর্কতা জানিয়ে বলেন, কর্মী ছাঁটাইয়ের জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম ব্যবস্থায় অর্থ দিতে বাধ্য করার প্রস্তাব দেন।
"কাজ শুধু আয়ের উৎস নয়; এটি মানুষকে ব্যস্ত রাখে, জীবনের উদ্দেশ্যও দেয়। তাই যন্ত্র দিয়ে করা সম্ভব নয় এমন কাজের সামাজিক গুরুত্ব ধরে রাখা প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাস, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পিটার সিঙ্গার, তামারা হাসান আবেদ, সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ অক্টোবর, ৫০টি বই
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!