📌 পিএইচপিতে শনাক্ত হওয়া দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি ইন্টারনেটের ৭০% ওয়েবসাইটকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে আবিষ্কৃত এই ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা সার্ভার হ্যাক, ম্যালওয়্যার ইনস্টল এবং ওয়েবসাইট অচল করতে পারে। ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্যের সরকারি ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সিস্টেম বন্ধ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গোপন নিরাপত্তা ত্রুটি ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটকে হ্যাকারদের আক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলেছে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া এই ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা অননুমোদিতভাবে সার্ভারে প্রবেশ, ক্ষতিকর কোড চালানোর পাশাপাশি ওয়েবসাইট অচল করে দিতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আহ্বান, দ্রুত নিরাপত্তা আপডেট না করলে হ্যাকারদের লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে এই ত্রুটিগুলো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পিএইচপির দুটি ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা সার্ভারের ফাইল সিস্টেম ও ডেটাবেসে অননুমোদিত প্রবেশ করতে পারে, ম্যালওয়্যার ইনস্টল করতে পারে এবং ওয়েবসাইট অচল করতে পারে
- 📌 ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে — ইন্টারনেটের প্রায় ৭০% ওয়েবসাইট এই ত্রুটির প্রভাবের আওতায় থাকতে পারে, তবে বিবিসি স্বাধীনভাবে এই পরিসংখ্যান যাচাই করতে পারেনি
- 📌 ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য সরকারি ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সিস্টেম বন্ধ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে
- 📌 ২১ অক্টোবর ত্রুটি সংশোধনের জন্য নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশ করা হলেও, কিছু ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে
- 📌 এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শনাক্ত হওয়া এই ত্রুটিগুলো এক দশক ধরে অশনাক্ত ছিল
- 📌 জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রবেশযোগ্য ওয়েবসাইটগুলো পিএইচপি ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন
- 📌 উইকিপিডিয়া ও অন্যান্য জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের কিছু অংশে প্রবেশ করতে সমস্যা দেখা দিয়েছে
📰 বিস্তারিত
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, যা ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটকে হ্যাকারদের আক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলেছে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ত্রুটিগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজের (Wiz) অনুমান, ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট এই সমস্যার প্রভাবের আওতায় থাকতে পারে। তবে বিবিসি স্বাধীনভাবে এই পরিসংখ্যান যাচাই করতে পারেনি।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) ত্রুটি সংশোধনের জন্য নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশ করা হলেও, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফিনল্যান্ডের সরকারি ওয়েবসেবা, নেদারল্যান্ডসের কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইট এবং যুক্তরাজ্যের এডিনবরা কাউন্সিলের ওয়েবসাইটসহ কিছু অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত নিরাপত্তা আপডেট ইনস্টল করতে পারবে না, তাদের সাময়িকভাবে সংশ্লিষ্ট সিস্টেম বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডন স্মিথ বিবিসিকে বলেছেন, হ্যাকারদের কাছে এ ত্রুটিগুলো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেছেন, শুধু আপডেট ইনস্টল করলেই হবে না, প্রতিষ্ঠানের কোথায় কোথায় পিএইচপি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা শনাক্ত করাও জরুরি। ইন্টারনেট অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ডেন নেখট জানিয়েছেন, ত্রুটিগুলোকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক পর্যায়ের সাইবার হামলার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া এই ত্রুটিগুলো এক দশক ধরে অশনাক্ত ছিল। ওপেনএআইয়ের ‘প্যাচ দ্য প্ল্যানেট’ কর্মসূচির আওতায় উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকরা এই ত্রুটিগুলো শনাক্ত করেছেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে শনাক্ত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সাইবার নিরাপত্তা সমস্যাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রকাশ্যে প্রবেশযোগ্য ওয়েবসাইটগুলো পিএইচপি ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, উইকিপিডিয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনও ত্রুটি সংশোধনের কাজ চালানোর কথা জানিয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কিছু সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় বুধবার উইকিপিডিয়ার কয়েকটি অংশে প্রবেশ করতে সমস্যায় পড়েন ব্যবহারকারীরা। বিবিসির ‘ডক্টর হু’ ও ‘দ্য ট্রেইটর্স’ অনুষ্ঠানের কয়েকটি ওয়েবপেজও অপ্রবেশযোগ্য হয়ে পড়ে। তবে এসব সাইটের সমস্যার সঙ্গে পিএইচপির ত্রুটির সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
"হ্যাকারদের কাছে এ ত্রুটিগুলো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে। শুধু আপডেট ইনস্টল করলেই হবে না, প্রতিষ্ঠানের কোথায় কোথায় পিএইচপি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা শনাক্ত করাও জরুরি।"
— ডন স্মিথ, সোফোসের কাউন্টার থ্রেট ইউনিটের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, জাপান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডন স্মিথ (সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ), সানায়ে তাকাইচি (জাপানের প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে, ২১ অক্টোবর আপডেট প্রকাশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!