📌 বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সের ৬.৩ বিলিয়ন ডলার হ্যাকিংয়ে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকার গ্রুপ ল্যাজারাসের জড়িত থাকার জোরালো প্রমাণ পেয়েছে ব্লকচেইন বিশ্লেষকরা। হ্যাকিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংযুক্ত ডিজিটাল সম্পদও জড়িত ছিল। বাইন্যান্সের শেয়ার দাম ১২% কমে গেছে এবং বিটকয়েনের দাম ৫% নেমে গিয়েছে
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সের ৬.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের হ্যাকিংয়ে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকার গ্রুপ ল্যাজারাসের জড়িত থাকার জোরালো প্রমাণ পেয়েছে দুটি প্রধান ব্লকচেইন অ্যানালিটিক্স ফার্ম। এই হ্যাকিংয়ের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকিং ইউনিট ট্রেডারট্রেটর (ল্যাজারাস গ্রুপ)কে "নির্ভরযোগ্যভাবে" শনাক্ত করেছে চেইনঅ্যানালাইসিস এবং টিআরএম ল্যাবস। এই হ্যাকিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংযুক্ত টেথার এবং সার্কেলের মতো ডিজিটাল সম্পদও জড়িত ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের হ্যাকিংয়ে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার গ্রুপ ল্যাজারাসের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে ব্লকচেইন বিশ্লেষকরা।
- 📌 বাইন্যান্সের ব্যবহারকারীদের জানানো হয়েছে, "আপনাদের টাকা নিরাপদ, এবং আমরা প্রতিটি ক্ষতির দায়ভার নিচ্ছি।" তবে প্রাথমিকভাবে সমস্ত জমা ও উত্তোলন স্থগিত করা হয়েছিল।
- 📌 শুক্রবার বাইন্যান্স হ্যাকের ঘটনায় ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়; নিউইয়র্কে বিটকয়েনের দাম ৫% কমে ৭৬,৮০০ ডলারে নেমে আসে।
- 📌 বাইন্যান্সের শেয়ার দাম ১২% এবং ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেসের শেয়ার ১২% কমে গেছে। রবিনহুডের শেয়ার ৭.৮% কমে গেছে।
- 📌 ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বাইন্যান্সের ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে এবং তাদের তত্ত্বাবধানে ১৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ রয়েছে।
- 📌 ২০২২ সালে ৬২০ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো হ্যাকিংয়ে উত্তর কোরীয় হ্যাকারদের সন্দেহ করা হয়েছিল। এবারও তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ অনুমোদন ব্যবহার করে হ্যাকিং করা অভিযোগ রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ উত্তর কোরিয়া, যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ মারাত্মকভাবে সীমিত, সাইবার অপরাধে বিশ্বব্যাপী সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। এই হ্যাকিংয়ে বাইন্যান্সের হট ওয়ালেট সাইনিং সিস্টেমে প্রবেশ করার অধিকার পেয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। টিআরএম ল্যাবসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হ্যাকাররা সম্ভবত স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ পাঠানোর জন্য একটি ওয়ালেটে রূপান্তরিত করেছিল। বাইন্যান্সের ব্যবহারকারীদের জানানো হয়েছে যে তাদের টাকা নিরাপদ এবং কোম্পানিটি প্রতিটি ক্ষতির দায়ভার নিচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে সমস্ত জমা ও উত্তোলন স্থগিত করা হয়েছিল। পরে একটি আপডেটে জানানো হয় যে জমা অপরিবর্তিত রয়েছে।
শুক্রবার বাইন্যান্স হ্যাকের ঘটনায় ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। নিউইয়র্কে শুক্রবার বিকেলে লেনদেনের সময় বিটকয়েনের দাম ৫% কমে ৭৬,৮০০ ডলারে নেমে আসে। ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ কয়েনবেসের শেয়ারের দাম ১২% কমে গেছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানটির আয়ের ফলাফলের ওপরও প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনকারী আর্থিক পরিষেবা সংস্থা রবিনহুডের শেয়ারের দাম ৭.৮% কমে গেছে।
২০১৭ সালে চীনে প্রতিষ্ঠিত বাইন্যান্স বিশ্বজুড়ে ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছে বলে অনুমান করা হয়। কোম্পানিটি ২০২৪ সালে জানায় যে, তাদের তত্ত্বাবধানে ১৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের সম্পদ রয়েছে। এই মুহূর্তে বাইন্যান্স ব্যবহারকারী এবং ক্রিপ্টো ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম বড় ভয় হলো, কোম্পানিটি আদৌ এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবে কি না। কোম্পানিটি বারবার বলেছে যে গ্রাহকদের তহবিল সুরক্ষিত থাকবে এবং এই সংকট মোকাবেলা করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এটি।
"আপনাদের টাকা নিরাপদ, এবং আমরা প্রতিটি ক্ষতির দায়ভার নিচ্ছি।"
২০২৪ সালে বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার জড়িত থাকার অভিযোগ এফবিআই কর্তৃক উঠেছিল। সেই ঘটনায় ট্রেডারট্রেটর চুরি করা সম্পদ দ্রুত পাচার ও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছিল। এফবিআই উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে "অবৈধ সাইবার অপরাধ এবং ভার্চুয়াল সম্পদ চুরির কার্যকলাপের" অভিযোগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সরকারকে নিজেদের প্রয়োজনীয় অর্থায়নের জন্য সাইবার অপরাধের ওপর নির্ভর করার অভিযোগ করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (বিটকয়েনের দামের পরিবর্তন), চীন (হ্যাকিং কার্যক্রমের সম্ভাব্য কেন্দ্র), যুক্তরাষ্ট্র (ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের সাথে সংযুক্ত সম্পদ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ট্রেডারট্রেটর/ল্যাজারাস গ্রুপ (উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার ইউনিট), বাইন্যান্সের ব্যবহারকারীরা, বিনিয়োগকারীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬.৩ বিলিয়ন ডলার (হ্যাকিংয়ের পরিমাণ), ৫% (বিটকয়েনের দামের হ্রাস), ৭৬,৮০০ ডলার (বিটকয়েনের নতুন দাম), ১২% (কয়েনবেসের শেয়ার হ্রাস), ৭.৮% (রবিনহুডের শেয়ার হ্রাস), ৩০০ মিলিয়ন (বাইন্যান্সের ব্যবহারকারী), ১৬০ বিলিয়ন ডলার (বাইন্যান্সের তত্ত্বাবধানে থাকা সম্পদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!