📌 মোবাইল ফোন চার্জে দৈনিক ১৮ থেকে ২৩ ওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ খরচ হয়। বাংলাদেশে ১৮.৭ কোটি মোবাইল সংযোগ থাকায় বছরে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন কিলোওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ এই চার্জিংয়ে খরচ হয়। তবে প্রতি মাসে প্রতি ফোনের খরচ মাত্র ০.৫ থেকে ১ ইউনিট বিদ্যুৎ।
প্রতি দিন মোবাইল ফোন চার্জে রেখে ঘুমাতে যাওয়া একটি সাধারণ অভ্যাস। কিন্তু এই চার্জিং প্রক্রিয়ায় কতটা বিদ্যুৎ খরচ হয়, তা বেশিরভাগ মানুষের কাছে অজানা। বিজ্ঞানীগণ হিসাব করেছেন, আজকালের মোবাইল ফোন চার্জে দৈনিক ১৮ থেকে ২৩ ওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ খরচ হয়। বাংলাদেশে মোট ১৮ দশমিক ৭ কোটি মোবাইল সংযোগ থাকায়, এই ক্ষুদ্রতম খরচও জাতীয় পর্যায়ে বিশাল পরিমাণে বিদ্যুৎ গ্রাস করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মোবাইল ফোন চার্জে দৈনিক ১৮ থেকে ২৩ ওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ খরচ হয়
- 📌 বাংলাদেশে ১৮.৭ কোটি মোবাইল সংযোগ থাকায় বছরে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন কিলোওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ চার্জিংয়ে খরচ হয়
- 📌 প্রতি ফোন প্রতি মাসে ০.৫ থেকে ১ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়
- 📌 পুরোনো ব্যাটারি চার্জ ধরে রাখতে ১০-১৫% বেশি বিদ্যুৎ চায়
- 📌 ফ্যান্টম লোডের কারণে সকেটে প্লাগ থাকলেও ফোন সংযুক্ত না থাকলেও কিছু বিদ্যুৎ খরচ হয়
📰 বিস্তারিত
মোবাইল ফোনের ব্যাটারির ক্ষমতা সাধারণত ৪ থেকে ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ার (mAh) থাকে। এই ব্যাটারিকে পূর্ণ চার্জে নিয়ে আসতে ৩.৮ ভোল্টের ভোল্টেজ প্রয়োজন। এই পরিমাণ শক্তিকে ওয়াট-আওয়ারে পরিণত করলে দেখা যায়, শূন্য থেকে পূর্ণ চার্জে ব্যাটারির নিজস্ব চাহিদা ১৫ থেকে ১৯ ওয়াট-আওয়ার। তবে দেয়ালের সকেট থেকে যে বিদ্যুৎ টানা হয়, সেটি পুরোপুরি ব্যাটারিতে পৌঁছায় না। চার্জার এসিকে ডিসিতে রূপান্তরিত করার সময় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ শক্তি তাপে পরিণত হয়। ফলে প্রতি চার্জে আসল খরচ ১৮ থেকে ২৩ ওয়াট-আওয়ারে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশে মোট মোবাইল সংযোগের সংখ্যা ১৮ দশমিক ৭ কোটি। প্রতিটি ফোন দিনে অন্তত একবার চার্জ হয়। একজন মানুষের হিসাবে বছরে সাড়ে ৬ থেকে সাড়ে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ শুধু ফোন চার্জে খরচ হয়। এই হিসাব দিয়ে গুণ করলে জাতীয় পর্যায়ে বছরে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন কিলোওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ চার্জিংয়ে খরচ হয়। দেশের বার্ষিক মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার মিলিয়ন কিলোওয়াট-আওয়ারের কাছাকাছি। এই বিশাল সংখ্যার পাশাপাশি ফোন চার্জের অংশও নেহাতই ভগ্নাংশ হলেও শূন্য নয়।
ফাস্ট চার্জার নিয়ে একটি সাধারণ ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, বেশি গতি মানেই বেশি বিদ্যুৎ খরচ। আসলে তা নয়। প্রতি সেকেন্ডে বেশি শক্তি সরবরাহ করা হয় বলে সময় কমে আসে, কিন্তু ব্যাটারিতে জমা করার মোট শক্তি আগে থেকেই নির্দিষ্ট। ফলে মোট বিদ্যুৎ খরচে খুব একটা পরিবর্তন হয় না। তবে পুরোনো ব্যাটারি চার্জ ধরে রাখতে একটু বেশি বিদ্যুৎ চায়। দুই বছরের পুরোনো ফোন তাই নতুন ফোনের চেয়ে সামান্য বেশি বিদ্যুৎ টানে।
ব্যাটারি পূর্ণ চার্জে থাকলেও সকেটে গোঁজা থাকলে কী ঘটে? ফোনের সার্কিট স্মার্টভাবে কাজ করে। পূর্ণ চার্জ হলে মূল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু খরচ একদম শূন্যে নামে না। ব্যাটারি সময়ে সময়ে সামান্য চার্জ হারায়। এই ক্ষতিপূরণ করতে চার্জার মাঝেমধ্যে ছোট্ট বিদ্যুতের ঝলক পাঠায়, যা ট্রিকল চার্জিং নামে পরিচিত। রাতভর সকেটে থাকলে এই ঝলকগুলো জমে বছর শেষে সামান্য বাড়তি বিলে ঠেকে। চার্জার প্লাগে গোঁজা থাকলেও ফোন সংযুক্ত না থাকলে কিছুটা বিদ্যুৎ চুইয়ে যায়, যা ফ্যান্টম লোড নামে পরিচিত। পুরোনো চার্জারে এই ক্ষয়ের পরিমাণ বেশি চোখে পড়ত, কিন্তু আজকালের ইউএসবি-সি এবং গ্যান চার্জারে এটি প্রায় নেই বললেই চলে।
"ফাস্ট চার্জার বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে না, শুধু সময় কমায়। ব্যাটারিতে জমা হওয়া মোট শক্তি আগে থেকেই নির্ধারিত। ফলে মোট খরচে খুব একটা পার্থক্য হয় না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাধারণ মানুষ (মোবাইল ব্যবহারকারী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮.৭ কোটি (মোবাইল সংযোগ), ১.৫ বিলিয়ন (বছরে বিদ্যুৎ খরচ), ১৮-২৩ ওয়াট-আওয়ার (দৈনিক খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!