📌 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সায়েম হোসেন ও তাঁর দল সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এআই হ্যাকাথনে প্রথম স্থান অর্জন করে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা ও কোরআন শিক্ষা সহজলভ্য করার উদ্ভাবন ‘দ্য ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্ট’-এর জন্য তারা ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল পুরস্কার পেয়েছেন
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এআই হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সায়েম হোসেন। তাঁর দলের উদ্ভাবিত ‘দ্য ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্ট’ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা ও কোরআনিক শিক্ষা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে তৈরি। এই উদ্ভাবন প্রথম স্থান অর্জন করে এবং দলটি ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল পুরস্কার লাভ করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সায়েম হোসেন ও তাঁর দল সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ‘এআই হ্যাকাথন ফর পিপল উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ’-এ চ্যাম্পিয়ন হন
- 📌 ‘দ্য ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ও কোরআন শিক্ষা সহজলভ্য করা হয়েছে
- 📌 পুরস্কার হিসেবে দলটি পেয়েছে ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল
- 📌 প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ২ হাজার ২৫১ জন শিক্ষার্থী, গবেষক ও উদ্ভাবক
- 📌 সায়েমের উদ্ভাবন থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি
- 📌 সায়েমের উদ্ভাবন বিশ্বের ২৩টি আরবিভাষী ও ৫৭টি মুসলিমপ্রধান দেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবে
📰 বিস্তারিত
গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘এআই হ্যাকাথন ফর পিপল উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ’ প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সায়েম হোসেনের উদ্ভাবিত ‘দ্য ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্ট’ ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ বা থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা ও কোরআনিক শিক্ষা গ্রহণ সহজ করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। প্রচলিত ব্রেইল বইয়ের ডটগুলো অত্যন্ত ছোট হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর জন্য সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
সায়েম হোসেন বলেন, ‘বিশ্বের ২৩টি আরবিভাষী দেশ এবং ৫৭টি মুসলিমপ্রধান দেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার চিন্তা থেকেই এ উদ্ভাবনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমার লক্ষ্য, যেসব শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ব্রেইল পাঠ্যসামগ্রী নেই, তাদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা। বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার সুবাদে প্রতিবন্ধিতা ও পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেই আগ্রহ থেকেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছি।’
বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘বিভাগের শিক্ষার্থীরা গবেষণায় ভালো করছে। সায়েমের এ অর্জন প্রশংসনীয়। আশা করি, ভবিষ্যতে সে আরও ভালো করবে।’ তিনি আরও জানান, বিভাগের শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে গবেষণায় কাজ করছেন। ইতিমধ্যে বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষক যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবে গেছেন এবং ছয় থেকে আটজন শিক্ষক জিএসটিতে রয়েছেন। সব মিলিয়ে বিভাগের শিক্ষার্থীরা গবেষণায় ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
"বিশ্বের ২৩টি আরবিভাষী দেশ এবং ৫৭টি মুসলিমপ্রধান দেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার চিন্তা থেকেই এ উদ্ভাবনের উদ্যোগ নিই। আমার লক্ষ্য, যেসব শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ব্রেইল পাঠ্যসামগ্রী নেই, তাদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সায়েম হোসেন (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী), ড. খায়রুল ইসলাম (বায়োমেডিকেল বিভাগের সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল (পুরস্কার), ২ হাজার ২৫১ জন (প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী), ২৩টি আরবিভাষী দেশ, ৫৭টি মুসলিমপ্রধান দেশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!