📌 ইন্টারনেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গন্ধকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে দূরে পাঠানোর নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা তৈরি করেছেন 'সেন্ট্রনিক' নামে একটি যন্ত্র, যা কমলা, কফি, কেক, বিয়ার ও রেড ওয়াইনের মতো পাঁচ ধরনের গন্ধ শনাক্ত ও পুনরায় সৃষ্টি করতে পারে। ভবিষ্যতে ভার্চ্যুয়াল জগত ও দূরযোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এই প্রযুক্তি
ইন্টারনেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গন্ধকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে দূরে পাঠানোর বিপ্লবী প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক চুনইয়ু ইয়াং ও তাঁর সহকর্মীরা তৈরি করেছেন 'সেন্ট্রনিক' নামে একটি যন্ত্র, যা পাঁচ ধরনের খাবার ও পানীয়ের গন্ধ শনাক্ত ও পুনরায় সৃষ্টি করতে পারে। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ভার্চ্যুয়াল জগত ও দূরবর্তী যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা তৈরি করেছেন 'সেন্ট্রনিক' নামে একটি প্রযুক্তি, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গন্ধকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে পাঠাতে পারে।
- 📌 এই প্রযুক্তিতে কমলা, কফি, কেক, বিয়ার ও রেড ওয়াইনের মতো পাঁচ ধরনের গন্ধ শনাক্ত ও পুনরায় সৃষ্টি করা সম্ভব।
- 📌 গবেষকদের মতে, গন্ধ সঠিকভাবে শনাক্ত করতে এআইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া ছিল গবেষণার সবচেয়ে কঠিন অংশ।
- 📌 যন্ত্রটির হাতে বহনযোগ্য সংস্করণে ১৪ জন স্বেচ্ছাসেবী গড়ে ৭৩ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক গন্ধ শনাক্ত করতে পেরেছেন।
- 📌 বিনোদনশিল্পে ভার্চ্যুয়াল জগতের অভিজ্ঞতাকে আরও বাস্তবসম্মত করতে এই প্রযুক্তি প্রথম ব্যবহৃত হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
গবেষকদের মতে, বৈদ্যুতিক মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণ এবং এমনকি স্পর্শের অনুভূতি আদান-প্রদানের প্রযুক্তি অনেক দূর এগিয়েছে। তবে ঘ্রাণ এখনো তুলনামূলকভাবে অনুন্নত একটি ইন্দ্রিয়। কারণ, গন্ধ তৈরি হয় বিভিন্ন রাসায়নিক অণুর জটিল সমন্বয়ে। আলোর ক্ষেত্রে লাল, সবুজ ও নীল রঙের সমন্বয়ে অসংখ্য রং তৈরি করা যায়, কিন্তু গন্ধের ক্ষেত্রে এমন সহজ কোনো ভিত্তি নেই।
সমস্যা সমাধানে গবেষকরা তৈরি করেছেন একটি ইলেকট্রনিক নাক বা 'ই-নোজ' এবং গন্ধ তৈরির যন্ত্র। ইলেকট্রনিক নাকটিতে রয়েছে ধাতব অক্সাইডের তৈরি একাধিক সেন্সর। অ্যালকোহলজাত পানীয়ের ইথানল বা লেবুজাতীয় ফলের লিমোনিনের মতো গ্যাসীয় উপাদান সেন্সরের সংস্পর্শে এলে এর বৈদ্যুতিক রোধ পরিবর্তিত হয়। ফলে প্রতিটি গন্ধের জন্য তৈরি হয় আলাদা বৈদ্যুতিক সংকেত।
পাঁচ ধরনের খাবার ও পানীয়ের গন্ধ শনাক্ত করতে এসব সংকেত বিশ্লেষণের জন্য এআই অ্যালগরিদমকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহে প্রতিটি গন্ধের সংস্পর্শে সেন্সরগুলোকে শত শতবার আনতে হয়েছে। গবেষক চুনইয়ু ইয়াং বলেছেন, গন্ধ সঠিকভাবে শনাক্ত করতে এআইকে প্রশিক্ষণ দেওয়াই ছিল গবেষণার সবচেয়ে কঠিন অংশ।
শনাক্ত করা গন্ধের তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো হয় সেন্ট্রনিক যন্ত্রে। এতে পাঁচ ধরনের সুগন্ধযুক্ত তরল রাখা ছোট পাত্র রয়েছে। বৈদ্যুতিক সংকেত পেলে পাত্রের ওপরে থাকা বিশেষ অ্যাটোমাইজার তরলকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করে বাতাসে ছড়িয়ে দেয়। ফলে তৈরি হয় নির্দিষ্ট গন্ধ। যন্ত্রটির হাতে বহনযোগ্য সংস্করণে ১৪ জন স্বেচ্ছাসেবী পরীক্ষায় অংশ নেন এবং গড়ে ৭৩ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক গন্ধ শনাক্ত করতে পেরেছেন।
"গন্ধ সঠিকভাবে শনাক্ত করতে এআইকে প্রশিক্ষণ দেওয়াই ছিল গবেষণার সবচেয়ে কঠিন অংশ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গবেষক চুনইয়ু ইয়াং ও সহকর্মীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ জন স্বেচ্ছাসেবী, ৭৩ শতাংশ সঠিকতা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!