📌 ভারতের উদয়পুরের দুই সফটওয়্যার ডেভেলপার 'ফুড নেভার কামস' ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন, যেখানে টাকা না দিয়ে ভুয়া খাবার অর্ডার করে ডোপামিনের আনন্দ পাওয়ার অভিজ্ঞতা দেয়া হয়। জুনে চালু হওয়ার পর ২৭ লাখের বেশি মানুষ এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করেছেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের অভিজ্ঞতা মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা নিয়ে গবেষণা চলছে
ভারতের উদয়পুরে অবস্থিত একটি ওয়েবসাইট ‘ফুড নেভার কামস’ (FoodNeverComes) টাকা না দিয়ে কেনাকাটার আনন্দের অভিজ্ঞতা প্রদান করছে। এই ওয়েবসাইটে ২২ ধরনের খাবারের তালিকা থেকে পছন্দ করে অর্ডার করার পর ভুয়া ডেলিভারি কর্মী ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর মাধ্যমে তৈরি ভুয়া ফোন কলের মাধ্যমে কেনাকাটার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। তবে কোনো খাবার আসে না। এই ওয়েবসাইটের স্লোগান ‘খাবার কখনোই আসে না, কিন্তু ডোপামিন আসে’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৬ বছর বয়সী দুই সফটওয়্যার ডেভেলপার পূর্বাংশ পারমার ও অংশুল শর্মা ‘ফুড নেভার কামস’ ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন, যেখানে ২২টি রান্নাঘর ও ৩২৭টি খাবারের ভুয়া তালিকা রয়েছে।
- 📌 জুনে চালু হওয়ার পর ২৭ লাখের বেশি মানুষ এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করেছেন, যেখানে ৩১৯টি বাস্তব রেসিপি ও ভুয়া দামের ব্যবস্থা রয়েছে।
- 📌 ডোপামিন সাইট ধারার অংশ হিসেবে এই ওয়েবসাইটে কোনো কিছু কিনে না হলেও কেনাকাটার অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়।
- 📌 মুম্বাইয়ে কাজ করার সময় পূর্বাংশ পারমার সপ্তাহে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার রুপি খাবারের পেছনে খরচ করতেন, কিন্তু অনেক সময় অর্ডার করা খাবার ছিল না।
- 📌 বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডোপামিন শুধু আনন্দের রাসায়নিক নয়, বরং কোনো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা ও অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত।
📰 বিস্তারিত
‘ফুড নেভার কামস’ ওয়েবসাইটে আপনি ২২ ধরনের খাবারের তালিকা থেকে পছন্দ করতে পারেন। বাটার চিকেন বা বিবিমবাপের মতো খাবার কার্টে যোগ করে মোট বিল দেখার পর অর্ডার নিশ্চিত করলে একটি ভুয়া ট্র্যাকার দেখায় যে, খাবার নিয়ে একজন ডেলিভারি কর্মী আপনার দিকে রওনা হয়েছে। এরপর ওয়েবসাইটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ফোন কল আসে, যেখানে ওপাশের ব্যক্তি বলে যে তিনি আপনার ভবনের সামনে আছেন, কিন্তু রাস্তা বা দরজা খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে কোনো খাবার আসে না। এই ওয়েবসাইটের স্লোগান ‘খাবার কখনোই আসে না, কিন্তু ডোপামিন আসে’।
‘ফুড নেভার কামস’ ওয়েবসাইটের উদ্ভাবকরা হলেন ২৬ বছর বয়সী পূর্বাংশ পারমার ও অংশুল শর্মা। তাঁরা ‘ফুড নেভার কামস’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা প্রদান করছেন। জুনে চালু হওয়ার পর এই ওয়েবসাইটে ২৭ লাখের বেশি মানুষ ভিজিট করেছেন। এখন সেখানে ২২টি রান্নাঘর, ৩২৭টি খাবার ও ৩১৯টি বাস্তব রেসিপি রয়েছে। প্রতিটি খাবারের ভুয়া দাম, চেকআউট ব্যবস্থা এবং কাল্পনিক ডেলিভারি অভিজ্ঞতাও রাখা হয়েছে।
এই ওয়েবসাইটের উদ্ভাবকরা বলছেন, কেনাকাটার অভিজ্ঞতা মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে প্রভাবিত করে। মুম্বাইয়ে কাজ করার সময় পূর্বাংশ পারমার সপ্তাহে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার রুপি খাবারের পেছনে খরচ করতেন। কিন্তু অনেক সময় অর্ডার করা খাবার ছিল না। তাঁর মতে, ‘হয়তো আসল আকাঙ্ক্ষাটা সব সময় খাবারের জন্য ছিল না; বরং খাবার অর্ডার করার পুরো প্রক্রিয়াটির প্রতিই আকর্ষণ ছিল’।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডোপামিন শুধু আনন্দের রাসায়নিক নয়, বরং কোনো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা ও অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত। ইয়েল সেন্টার ফর কাস্টমার ইনসাইটসের পরিচালক রবি ধর বলেছেন, ‘অ্যান্টিসিপেটরি ইউটিলিটি’ বা কোনো কিছু পাওয়ার আগেই সেটি পাওয়ার অপেক্ষা থেকে আনন্দ পাওয়া যায়। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ চিকিৎসক আনা লেম্বকেও বলেছেন, ডোপামিনকে শুধু আনন্দের রাসায়নিক বলা ঠিক নয়। কোনো পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা ও তার সঙ্গে যুক্ত অভ্যাসও মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে।
"আপনার ক্ষুধা লেগেছে কি না, তাতে কিছু যায়-আসে না। আপনি ফুড নেভার কামস ওয়েবসাইটে ঢুকলেন। ২২ ধরনের খাবারের তালিকা থেকে পছন্দ করতে শুরু করলেন। বাটার চিকেন দেখতে বেশ ভালো। বিবিমবাপও কম আকর্ষণীয় নয়। কয়েকটি খাবার কার্টে যোগ করে মোট বিল দেখলেন। এরপর অর্ডার নিশ্চিত করলেন। সঙ্গে সঙ্গে একটি ট্র্যাকার জানাল, খাবার নিয়ে একজন ডেলিভারি কর্মী আপনার দিকে রওনা হয়েছেন। এরপর সেই ওয়েবসাইট থেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ফোনকল এল। ওপাশের ব্যক্তি বলছেন, তিনি আপনার ভবনের সামনে আছেন। তবে রাস্তা বা দরজা খুঁজে পাচ্ছেন না। অথচ কোনো খাবারই ছিল না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারতের রাজস্থানের উদয়পুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পূর্বাংশ পারমার ও অংশুল শর্মা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ লাখের বেশি মানুষ, ২২টি রান্নাঘর, ৩২৭টি খাবার, ৩১৯টি রেসিপি, ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার রুপি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!