📌 মেমোরি চিপের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন সরবরাহে ২০% ধস হয়েছে। স্যামসাং সর্বাধিক স্মার্টফোন উৎপাদন করলেও সরবরাহ কমলো ৩%। অ্যাপল ও চীনা ব্র্যান্ডগুলোর সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে
মেমোরি চিপের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন সরবরাহে বড় ধরনের ধস নেমেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কমেছে। এটিই গত ১৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে স্মার্টফোনের সরবরাহ সবচেয়ে কম হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেমোরি চিপের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে স্মার্টফোন উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, ফলে দাম বাড়ছে এবং সরবরাহ কমছে
- 📌 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়ায় মেমোরি চিপের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে
- 📌 স্যামসাং সর্বাধিক স্মার্টফোন উৎপাদন করলেও সরবরাহ কমলো ৩ শতাংশ; বাজারে ২৩ শতাংশ দখল রেখেছে
- 📌 অ্যাপলের সরবরাহ কমলো ২২ শতাংশ দখল থাকলেও আইফোন ১৮ সিরিজের সাধারণ মডেল বাজারে আসেনি
- 📌 চীনা ব্র্যান্ড অপো ও ভিভোর সরবরাহ কমলো ২০ শতাংশের বেশি, শাওমির সরবরাহ কমলো ৩০ শতাংশের বেশি
- 📌 ক্রেতারা পুরোনো স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন এবং সংস্কারকৃত ফোনের দিকে ঝুঁকছেন
- 📌 উৎপাদন কমানো ও বেশি দামের ফোনের দিকে মনোযোগ বাড়ানোর প্রবণতা অব্যাহত থাকলে কম দামের স্মার্টফোন কেনার আগ্রহ কমতে পারে
📰 বিস্তারিত
মেমোরি চিপের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্মার্টফোন নির্মাতাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এআই প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়ায় মেমোরি চিপের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চাহিদা মেটাতে স্মার্টফোন নির্মাতাদের সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে স্মার্টফোন নির্মাতারা উৎপাদন ও সরবরাহ কমিয়ে বিক্রির পরিমাণ বাড়ানোর চেয়ে মুনাফা ধরে রাখার দিকে মনোনিবেশ করছে।
বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন সরবরাহ কমলেও সবচেয়ে বেশি স্মার্টফোন উৎপাদন ও বাজারজাত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাং। তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বের স্মার্টফোন বাজারের ২৩ শতাংশ দখল করে রেখেছে স্যামসাং। গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ সিরিজের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ এবং মধ্যম দামের স্মার্টফোনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের স্থিতিশীল সরবরাহ এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। তবে গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় স্যামসাংয়ের স্মার্টফোন সরবরাহ ৩ শতাংশ কমেছে।
স্যামসাংয়ের পর বিশ্বের স্মার্টফোন বাজারের ২২ শতাংশ দখল করে আছে অ্যাপল। গত বছর আইফোন ১৭ সিরিজের সব মডেল বাজারে এলেও এ বছর আইফোন ১৮ সিরিজের সাধারণ মডেলটি বাজারে আসেনি। ফলে নতুন আইফোন বাজারে ছাড়ার প্রথম মাসে বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কম ছিল। অন্যদিকে চীনের স্মার্টফোন নির্মাতা অপো ও ভিভোর সরবরাহ কমেছে ২০ শতাংশের বেশি। শাওমির সরবরাহ কমেছে ৩০ শতাংশের বেশি। মুনাফা ধরে রাখতে শাওমি কম দামের স্মার্টফোনের বাজারে কার্যক্রম সীমিত করেছে এবং কিছু বিদেশি বাজার থেকে নিজেদের ব্যবসা প্রত্যাহার করেছে।
"ক্রেতারা ধারণার চেয়ে বেশি সময় পুরোনো স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন। তাঁদের অনেকে নতুন ফোন কেনার পরিবর্তে সংস্কার করা ব্যবহৃত ফোনের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে তুলনামূলক বেশি দামের ও উন্নত সুবিধার স্মার্টফোনের প্রতিও তাঁদের আগ্রহ বাড়ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্ববাজার (দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিলপি জৈন (কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০% (সরবরাহ কমেছে), ১৪ বছর (গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন), ২৩% (স্যামসাংয়ের বাজার দখল), ৩% (স্যামসাংয়ের সরবরাহ কমেছে), ২২% (অ্যাপলের বাজার দখল), ২০% (অপো ও ভিভোর সরবরাহ কমেছে), ৩০% (শাওমির সরবরাহ কমেছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!