📌 যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন স্টার্টআপ জিন সম্পাদনায় তৈরি করছে অত্যাধুনিক সামরিক কুকুর। এই কুকুরগুলো হবে সাধারণ কুকুরের চেয়ে শক্তিশালী, ত্রুটিমুক্ত এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নিখুঁত পারফরম্যান্স প্রদান করতে সক্ষম। তবে এই প্রক্রিয়ায় জড়িত নৈতিক ও বিজ্ঞানগত ঝুঁকিগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ওয়ারহাউন্ড নামের একটি নতুন ডিফেন্স-বায়োটেকনোলজি স্টার্টআপ জিন সম্পাদনায় তৈরি করছে অত্যাধুনিক সামরিক কুকুর। এই কুকুরগুলো হবে সাধারণ কুকুরের চেয়ে অনেক বড়, শক্তিশালী এবং নিখুঁত পারফরম্যান্স প্রদান করতে সক্ষম। হলিউডের অ্যাকশন মুভি বা ভিডিও গেমের মতো কমান্ডো কুকুরের মতোই এই সুপারডগগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ারহাউন্ড প্রতিষ্ঠান জিন সম্পাদনায় তৈরি করছে সুপারডগ, যা হবে সাধারণ কুকুরের চেয়ে ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের
- 📌 প্রতিষ্ঠানটি বেলজিয়ান ম্যালিনয় এবং শেফার্ড কুকুরের ডিএনএ সংগ্রহ করে তাদের বায়োব্যাংকে সংরক্ষণ করেছে
- 📌 ২০২৭ সালের শুরুতে ল্যাবরেটরিতে তৈরি প্রথম সুপারডগের ব্যাচ পৃথিবীর আলো দেখবে বলে আশা করা হচ্ছে
- 📌 বিজ্ঞানীরা জিন সম্পাদনায় কুকুরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় অসংখ্য কুকুরের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে
- 📌 হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুচিকিৎসক লিসা মোসেস বলেছেন, ক্লোনিং প্রক্রিয়া মারাত্মক অদক্ষ এবং নিষ্ঠুর
📰 বিস্তারিত
হলিউডের অ্যাকশন মুভি বা ভিডিও গেমে দেখা যায় কমান্ডো কুকুরদের যুদ্ধক্ষেত্রে কীভাবে দুর্ধর্ষ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এখন থেকে এই কুকুরগুলো আর স্বাভাবিক নিয়মে জন্ম নেবে না। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ওয়ারহাউন্ড নামের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান জিন সম্পাদনায় তৈরি করছে অত্যাধুনিক সামরিক কুকুর। এই কুকুরগুলো হবে সাধারণ কুকুরের চেয়ে অনেক বড়, শক্তিশালী এবং নিখুঁত পারফরম্যান্স প্রদান করতে সক্ষম। প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়েছে ওয়ারহাউন্ড, যা ইংরেজিতে "সামরিক কুকুর" বোঝায়।
ওয়ারহাউন্ড প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য হলো অত্যাধুনিক জিন-এডিটিং প্রযুক্তি এবং ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর জন্য এমন কুকুর তৈরি করা, যেগুলো হবে সাধারণ কুকুরের চেয়ে অনেক বড়, শক্তিশালী এবং নিখুঁত। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা বেন ল্যাম জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যেই বেলজিয়ান ম্যালিনয় এবং শেফার্ডের মতো বিশ্বের সবচেয়ে এলিট ও চৌকস মিলিটারি কুকুরের ডিএনএ সংগ্রহ করে তাদের বায়োব্যাংকে সংরক্ষণ করেছেন। বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা হলো, এই সেরা কুকুরগুলোর কোষ থেকে ক্লোন করে ভ্রূণ তৈরি করা হবে এবং সেই ভ্রূণ মায়ের পেটে বড় হওয়ার আগেই তাদের জিনগুলো সম্পাদনা করা হবে।
বেন ল্যামের মতে, তাদের তৈরি কোনো কুকুরের শরীরে এমন কোনো জিনের অস্তিত্ব থাকবে না, যা ভবিষ্যতে কোনো রোগের সৃষ্টি করতে পারে। সাধারণ কুকুরদের বয়স বাড়লে কোমরের হাড়ের ক্ষয়, দৃষ্টিশক্তি হারানো বা ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ হয়। এর কারণে তাদের সময়ের আগেই অবসরে পাঠাতে হয়। ওয়ারহাউন্ডের উদ্দেশ্য হলো এই রোগগুলো থেকে কুকুরগুলোকে মুক্ত রাখা। তবে এই প্রক্রিয়ায় জড়িত নৈতিক ও বিজ্ঞানগত ঝুঁকিগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
"কুকুরের ক্লোন করাটা কোনো জাদুকরী বা নিখুঁত বিজ্ঞান নয়; এটি আক্ষরিক অর্থেই একটি মারাত্মক অদক্ষ এবং নিষ্ঠুর প্রক্রিয়া। ল্যাবরেটরিতে একটি সফল ও সুস্থ ক্লোন ছানার জন্ম দিতে গিয়ে অসংখ্য কুকুরকে চরম যন্ত্রণাদায়ক পরীক্ষার ভেতর দিয়ে যেতে হয়।"
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুচিকিৎসক ও বায়োএথিসিস্ট লিসা মোসেস এই প্রক্রিয়ার অন্ধকার দিকটি সামনে এনেছেন। তিনি বলেছেন, যে গর্ভধারিণী মা কুকুরগুলোর পেটে এই ল্যাবরেটরির ভ্রূণগুলো বড় করা হয়, তাদের জীবনও ভয়ানক ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাছাড়া, জিন নিয়ে খেলা করাটা মোটেও সুইচ অন-অফ করার মতো সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বায়োটেকনোলজি সংস্থা রিভাইভ অ্যান্ড রিস্টোরের প্রধান বিজ্ঞানী বেন নোভাক জানান, কুকুরের একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বা স্বভাব পরিবর্তনের জন্য হয়তো শত শত বা হাজার হাজার জিনের মিউটেশন নিয়ে কাজ করতে হয়। একটু এদিক-সেদিক হলেই ঘটতে পারে মারাত্মক শারীরিক বিপর্যয়!
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (টেক্সাস, ডালাস)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেন ল্যাম (ওয়ারহাউন্ড প্রতিষ্ঠাতা), লিসা মোসেস (হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়), বেন নোভাক (রিভাইভ অ্যান্ড রিস্টোর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৭ (প্রথম সুপারডগের ব্যাচের আশা করা তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!