📌 টিউশনি করে টাকা জমিয়ে কম্পিউটার কেনা শরীয়তপুরের তরুণ অনুপ কুমার রায় এখন আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সার। আপওয়ার্কের টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তিনি এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি আয় করেছেন এবং নিজ জেলায় অফিস চালু করেছেন
শরীয়তপুরের তরুণ অনুপ কুমার রায়ের জীবনের গতি বদলে দিয়েছে টিউশনি থেকে ফ্রিল্যান্সিং। বাবা-মা অসিত বরণ রায় ও পদ্মা রাণী রায়ের একমাত্র সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠা তিনি, বান্দরবান ও শরীয়তপুরে পড়াশোনা ও টিউশনি করে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। আজ তিনি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম আপওয়ার্কের টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পরিচিত, যেখানে তিনি এক লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি আয় করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টিউশনি করে জমা টাকা থেকে কম্পিউটার কেনা অনুপ কুমার রায়ের সফলতার শুরু
- 📌 ২০২২ সালের জুনে প্রথম ২০ ডলার আয় করে শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং
- 📌 বর্তমানে মাসে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় করছেন, সর্বোচ্চ ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেছেন
- 📌 নিজ জেলা শরীয়তপুরে অফিস চালু করেছেন, সেখানে ৭ জন কর্মী নিয়োগ করেছেন
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করছেন ডিজিটাল মার্কেটিং ক্ষেত্রে
📰 বিস্তারিত
অনুপ কুমার রায়ের পড়াশোনার পথ শুরু হয়েছিল বান্দরবানে বাবা অসিত বরণ রায়ের চাকরির কারণে। ২০১৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করার পর তিনি জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে অনার্স এবং নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার খরচ ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ২০১৬ সাল থেকে টিউশনি শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি কোচিং সেন্টারে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন।
কম্পিউটার কেনার স্বপ্ন পূরণের জন্য টিউশনি করে ৩৫ হাজার টাকা জমা করার পর বাকি ৩৫ হাজার টাকা ধার করে তিনি প্রথম কম্পিউটার কেনেন। এই কম্পিউটারই ছিল তাঁর ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার মূল চাবিকাঠি। প্রথমে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর শামীম হুসাইনের আইটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট “স্কিলআপার” থেকে প্রশিক্ষণ নেন। গুগলের অনলাইন কোর্স, ইউটিউব ও অন্যান্য শিক্ষামাধ্যম ব্যবহার করে রাত জেগে নিজে নিজে শেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন তিনি।
২০২২ সালের জুনে ফাইভারে প্রথম পেইড মিডিয়া কাজ করে ২০ ডলার আয় করার পর অনুপ আপওয়ার্কে নিজের পেশাগত পরিচিতি গড়ে তোলেন। লিংকডইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বিস্তার করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ইউরোপের ফ্যাশন হাউসের সাথে কাজ করছেন। মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করার পর তিনি মায়ের হাতে টাকা তুলে দিতেন। বর্তমানে মাসে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় করছেন, সর্বোচ্চ ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেছেন তিনি।
"সফলতার পথটা মসৃণ ছিল না। শুরুতে কোর্স করলেও ছয়-সাত মাস কেটে যাওয়ার পরও সাফল্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। শুধু কোর্স করলেই দক্ষতা আসে না, নিয়মিত অনুশীলন ও সমস্যা সমাধানের অভ্যাস জরুরি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শরীয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ, বান্দরবান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অনুপ কুমার রায়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ মার্কিন ডলার (আয়), ৭ জন কর্মী, ৩৫ হাজার টাকা (ধার), ৮ লাখ টাকা (সর্বোচ্চ মাসিক আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!