📌 স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ঘোষণা করেছেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডার ডিজিটালাইজেশন ও 'ই-হেলথ কার্ড' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় হ্যাকাথন অনুষ্ঠিত হবে। এক মাসব্যাপী রেজিস্ট্রেশন ও তিন দিনের বুটক্যাম্পে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা তরুণদের মেন্টরশিপ দেবেন
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ সরকার। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ঘোষণা করেছেন, দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের সমন্বিত স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডার সুরক্ষিত করে এবং 'ই-হেলথ কার্ড' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি জাতীয় হ্যাকাথন অনুষ্ঠিত হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল ইন্টারঅপারেবিলিটি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তরুণ উদ্ভাবকদের মেধা ও নতুন আইডিয়াগুলোকে কাজে লাগানো হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য ডেটা নিয়ে একটি সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় হ্যাকাথন ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
- 📌 এক মাসব্যাপী রেজিস্ট্রেশন চলবে, নির্বাচিত দলগুলোকে তিন দিনের বুটক্যাম্পে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা মেন্টরশিপ দেবেন।
- 📌 ১৪ বিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্য বাজার ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করার সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ।
- 📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের অংশীদারত্বে অনুষ্ঠিত হবে এই হ্যাকাথন।
📰 বিস্তারিত
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৪:১৭ মিনিটে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত হ্যাকাথনের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা যখন ই-হেলথ কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন বিভিন্ন আলাদা আলাদা উদ্ভাবনী ধারণা আসত। কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ একেকটি ‘সাইলো’-তে আটকে পড়ে। ডিজিটাল সিস্টেমে প্রতিটি বিভাগের মধ্যে সংযোগ (ইন্টারঅপারেবিলিটি) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই হ্যাকাথন আয়োজিত হচ্ছে।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “২০ কোটি মানুষের বিশাল স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হচ্ছে। একজন নাগরিক যতবার চিকিৎসা গ্রহণ করবেন, যতবার ওষুধ কিনবেন বা ল্যাব টেস্ট করাবেন, সব মেডিকেল রেকর্ড সেখানে যুক্ত হবে। এই ডেটা গবেষণার জন্য একটি বিশাল রিসোর্স। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।”
হ্যাকাথনের অংশগ্রহণের জন্য এক মাসব্যাপী রেজিস্ট্রেশন চালু থাকবে। নির্বাচিত দলগুলোকে ঢাকায় তিন দিনের বুটক্যাম্পে দেশি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মেন্টরশিপ দেবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলোকে টেকসই ও কার্যকর রূপ দিতে সাহায্য করা হবে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, “সরকারের উচ্চপদস্থদের মধ্যে তদবির বা নেপোটিজমের সুযোগ বন্ধ করে এই উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা সবার জন্য সমান সুযোগ ও স্বচ্ছতা সৃষ্টি করবে। ঢাকার বাইরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদের সেরা উদ্ভাবনী ভাবনাও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে। বর্তমানে ১৪ বিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্য বাজার সঠিক তথ্যের অভাবে পুরোপুরি মূল্যায়িত হয়নি। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে।”
"আমরা যখন দায়িত্ব নেওয়ার পর ই-হেলথ কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন অনেকেই আলাদাভাবে নানা চমৎকার আইডিয়া নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে স্বাস্থ্য খাতের একেকটি উদ্যোগ আলাদা ‘সাইলো’ বা গণ্ডিতে আটকে থাকে, যা পরবর্তীতে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। ডিজিটাল সিস্টেমে প্রতিটি বিভাগ যেন পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই হ্যাকাথনের মাধ্যমে সবাইকে একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ প্ল্যাটফর্মে আনা হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী ঢাকা, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, চৌধুরী আশিক মাহমুদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ কোটি (মানুষ), ৩ দিন (বুটক্যাম্প), ১৪ বিলিয়ন ডলার (স্বাস্থ্য বাজার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!