📌 ক্রিপ্টো বিলিয়নিয়াররা ডিজিটাল ও ট্যাক্সমুক্ত একটি নতুন রাষ্ট্র গড়ে তুলছেন, যেখানে 'লিবারল্যান্ড মেরিটস' নামের ক্রিপ্টো টোকেন কেনা যায় এবং টোকেনের পরিমাণ অনুযায়ী ভোটাধিকার নির্ধারণ করা হয়। চীনের ক্রিপ্টো দানব জাস্টিন সান এই প্রকল্পের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন
বিশ্বের শীর্ষ ক্রিপ্টো বিলিয়নিয়াররা প্রথাগত সরকারব্যবস্থা প্রতিস্থাপন করে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও ট্যাক্সমুক্ত নতুন রাষ্ট্র গড়ে তুলছেন। এই নতুন রাষ্ট্রের নাম ‘ফ্রি রিপাবলিক অব লিবারল্যান্ড’। দানিয়ুব নদীর তীরে অবস্থিত এই ভূখণ্ডের পেছনে রয়েছে ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসার প্রধান অর্থায়নকারীদের মতো বিশ্বের ধনীদের বিনিয়োগ। লিবারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ভিট জেডলিকা এই প্রকল্পের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ ‘ডিজিটাল ও ট্যাক্সমুক্ত’ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চান, যেখানে সকল কার্যক্রম ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **লিবারল্যান্ডে ভোটাধিকার ক্রিপ্টো টোকেনের উপর নির্ভরশীল**: ‘লিবারল্যান্ড মেরিটস’ নামের ক্রিপ্টো টোকেন কেনা যায়, এবং টোকেনের পরিমাণ অনুযায়ী ভোটাধিকার বা নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
- 📌 **চীনের ক্রিপ্টো দানব জাস্টিন সান প্রধানমন্ত্রী**: ৮৫০ কোটি ডলার সম্পদের অধিকারী সান ‘ট্রন’ ব্লকচেইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতিদিন বিলিয়ন ডলারের লেনদেন পরিচালনা করছেন।
- 📌 **ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানে সানের বিনিয়োগ**: ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’-এ সানের বিনিয়োগের পরিমাণ সাড়ে ৭ কোটি ডলার।
- 📌 **লিবারল্যান্ডে কর নেই, কিন্তু দরিদ্রদের সাহায্য ‘অলসতা’ হিসেবে দেখানো হয়**: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান পারনার বলেছেন, দরিদ্রদের সাহায্য করা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিরোধী।
- 📌 **ব্লকচেইন প্রযুক্তি ও ক্রিপ্টো বিলিয়নিয়ারদের রাজনৈতিক প্রভাব**: যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ক্রিপ্টো লবি জীবাশ্ম জ্বালানি খাতকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক অর্থদাতায় পরিণত হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
দানিয়ুব নদীর তীরে অবস্থিত লিবারল্যান্ডের ভূখণ্ডটি নৌকা থেকে দেখলে সাধারণ মনে হয়। কিন্তু পুঁচকে এই জায়গাটি বিশ্বের ধনীদের একটি নতুন প্রজেক্টের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিখ্যাত স্থপতি সংস্থা ‘জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টস’-এর ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি নকশায় দেখা যায়, এই লিবারল্যান্ডে ভাসমান পার্ক, ঝলমলে বহুতল ভবন এবং মাধ্যাকর্ষণকে বুড়ো আঙুল দেখানো ওয়াটার পার্কের মতো অবকাঠামো গড়ে উঠছে।
লিবারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী চীনের ক্রিপ্টো দানব জাস্টিন সান। সান ৬২ লাখ ডলারে স্কটচেপ দিয়ে দেয়ালে আটকানো কলা কিনে তা খেয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। পরবর্তীতে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও বাজার কারসাজির অভিযোগ আনলেও ১ কোটি ডলারের বিনিময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। সানের প্রতিষ্ঠিত ‘ট্রন’ ব্লকচেইন প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন বিলিয়ন ডলারের লেনদেন হয়। সান বলেন, পৃথিবী কোনো সীমানায় আবদ্ধ নয় এবং রাষ্ট্রভিত্তিক ধারণা এখন পুরোনো হয়ে গেছে।
লিবারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ভিট জেডলিকা জানান, এই রাষ্ট্রে কোনো কর দিতে হয় না। তবে দরিদ্রদের সাহায্য করা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিরোধী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান পারনার বলেন, ‘যদি আমরা যে কাউকে এখানে স্বাগত জানাই, তবে এটি যুক্তরাজ্যের মতো হয়ে যাবে। আমরা অলসদের সুবিধা দিতে চাই না, কারণ এতে তাদের নিজেদের উপার্জনের ক্ষমতা নষ্ট হয়।’
ক্রিপ্টো বিলিয়নিয়ারদের এই নতুন রাজনৈতিক ধারণার মূল উৎস টেক-দার্শনিক কার্টিস ইয়ারভিন। তাঁর মতে, বিদ্যমান গণতন্ত্র ব্যর্থ এবং এটি একটি ‘করপোরেট রাজতন্ত্র’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা দরকার, যেখানে কোনো কোম্পানি বা সিইও রাজা হিসেবে দেশ চালাবেন এবং বিনিয়োগকারীরা হবেন শেয়ারহোল্ডার বা নাগরিক।
"পৃথিবী মূলত কোনো সীমানায় আবদ্ধ নয় এবং রাষ্ট্রভিত্তিক ধারণা এখন পুরোনো হয়ে গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দানিয়ুব নদীর তীরে (লিবারল্যান্ড), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাস্টিন সান (প্রধানমন্ত্রী), ভিট জেডলিকা (প্রেসিডেন্ট), ইভান পারনার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৫০ কোটি ডলার (জাস্টিন সানের সম্পদ), ৬২ লাখ ডলার (কলা কেনার মূল্য), ৭ কোটি ডলার (ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!