📌 চীনের বিজ্ঞানীরা সাগরের ১০ মিটার গভীরে বিশ্বের প্রথম সাবমেরিন সোলার প্যানেলের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। লেড হ্যালাইড পেরোভস্কাইট সৌর কোষ ব্যবহার করে তারা পানির নিচে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যাটারি চার্জ করার প্রযুক্তি বিকাশ করেছেন। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আন্ডারওয়াটার রোবট ও সেন্সরগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপ্লবী ভূমিকা রাখবে
চীনের বিজ্ঞানীরা সাগরের অন্ধকার তলদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বিপ্লবী সাফল্য অর্জন করেছেন। তারা বিশ্বের প্রথমবারের মতো ১০ মিটার (৩৩ ফুট) গভীরে সাবমেরিন সোলার প্যানেলের সফল পরীক্ষা চালিয়েছেন, যা পানির নিচে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যাটারি চার্জ করার সম্ভাবনা প্রদর্শন করেছে। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আন্ডারওয়াটার রোবট, সেন্সর ও যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপ্লবী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সাগরের ১০ মিটার গভীরে সাবমেরিন সোলার প্যানেলের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন — বিশ্বের প্রথমবারের মতো এই গভীরতায় সফলতা পেয়েছেন তারা।
- 📌 লেড হ্যালাইড পেরোভস্কাইট সৌর কোষ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা পানির নিচের নীলচে-সবুজ আলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব করেছেন, যা সাধারণ সিলিকন সোলার প্যানেলের তুলনায় ১০ গুণ বেশি কার্যকর।
- 📌 পিএইচএমজি রাসায়নিক উপাদান ও বিউটাইল রাবার প্রলেপ দিয়ে সোলার প্যানেলগুলোকে পানির চাপ ও ক্ষয় থেকে রক্ষা করা হয়েছে, যা ১০০০ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখার পরও ৯৯.৫৮ শতাংশ কার্যক্ষমতা বজায় রেখেছে।
- 📌 বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এই সোলার প্যানেলগুলো টানা সাড়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত অন্তত ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।
- 📌 দক্ষিণ চীন সাগরের ওয়েইঝৌ দ্বীপের কাছে বাস্তব পরীক্ষায় ২, ৬ ও ১০ মিটার গভীরে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চার্জ ও এলইডি লাইট জ্বালানোর সফলতা পেয়েছেন তারা।
- 📌 ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড এনার্জি স্কুলের ডিন ঝাং ওয়েন-হুয়া বলেছেন, এ পর্যন্ত পানির নিচে সোলার প্যানেলের পরীক্ষা মাত্র ২ মিটার গভীরতায় সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এবার ১০ মিটার গভীরতায় সফলতা পেয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সাগরের অন্ধকার তলদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের দীর্ঘদিনের অসাধ্য সাধন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। গত ১১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞান সাময়িকী 'জুল'-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের এই সাফল্যের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত পানির নিচে সূর্যের আলো খুব দ্রুত শোষিত হয় এবং ১০ মিটার গভীরে মাত্র ১০ শতাংশ আলো পৌঁছাতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা লেড হ্যালাইড পেরোভস্কাইট নামের বিশেষ সৌর কোষ ব্যবহার করে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠেছেন। এই কোষগুলো পানির নিচের নীলচে-সবুজ আলোতে দারুণ কার্যক্ষমতা প্রদর্শন করে, যা সাধারণ সিলিকন সোলার কোষের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।
পানির লোনা প্রকৃতি ও চাপের সমস্যা মোকাবেলা করতে বিজ্ঞানীরা পিএইচএমজি নামের একটি বিশেষ রাসায়নিক উপাদান যুক্ত করেছেন। এছাড়াও, কোষগুলোকে বিউটাইল রাবার, কাচ এবং স্বচ্ছ ইপোক্সি রেসিনের প্রলেপ দিয়ে সম্পূর্ণ পানি ও চাপরোধী বর্মের মতো সুরক্ষিত করা হয়েছে। গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে সাগরের পানিতে টানা ১০০০ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখার পরও এর কার্যক্ষমতা ৯৯.৫৮ শতাংশ অটুট ছিল। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এই সোলার প্যানেলগুলো টানা প্রায় ৫ বছর ৬ মাস পর্যন্ত অন্তত ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারবে।
বাস্তব পরীক্ষায় দক্ষিণ চীন সাগরের ওয়েইঝৌ দ্বীপের কাছে একটি আন্ডারওয়াটার রোবটের সঙ্গে যুক্ত করে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। সেখানে ২, ৬ এবং ১০ মিটার গভীরে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি সফলভাবে চার্জ করার পাশাপাশি এলইডি প্যানেল জ্বালানো সম্ভব হয়েছে। ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড এনার্জি স্কুলের ডিন ঝাং ওয়েন-হুয়া বলেছেন, এ পর্যন্ত পানির নিচে সোলার কোষের পরীক্ষা মাত্র ২ মিটার গভীরতায় সীমাবদ্ধ ছিল, যা বাস্তব ক্ষেত্রে খুব একটা কাজে আসে না। কিন্তু এবারই প্রথম ১০ মিটার গভীরতায় এটি সফলভাবে কাজ করে দেখিয়েছে।
"এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে সাগরের তলদেশের সেন্সর, ডিটেক্টর, ক্যামেরা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আন্ডারওয়াটার রোবটগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ চীন সাগর (ওয়েইঝৌ দ্বীপের কাছে), চীন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ঝাং ওয়েন-হুয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ মিটার (গভীরতা), ৯৯.৫৮% (কার্যক্ষমতা), ৮০% (দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন), ১০০০ ঘণ্টা (পরীক্ষা সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!