📌 বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত স্মার্টফোনের সংখ্যা এক বছরে ২৪% কমেছে। গ্রে মার্কেটের ৪০-৫০% দখল, উচ্চ আমদানি শুল্ক এবং বৈধ উৎপাদনের খরচের কারণে শিল্প খাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার সাথে সাথে দেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে
বাংলাদেশে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্মার্টফোনের উৎপাদন খাত এক বছরে ২৪% হ্রাসের মুখে পড়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্র ১৬ লাখ ২৯ হাজার হ্যান্ডসেট উৎপাদন করেছে, যা এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় ৫ লাখ ১৮ হাজার ইউনিট কম। এই হ্রাসের পেছনে গ্রে মার্কেটের অপারগ দখল, উচ্চ আমদানি শুল্ক এবং বৈধ উৎপাদনের খরচের কারণে শিল্প খাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬ লাখ ২৯ হাজার হ্যান্ডসেট উৎপাদন করেছে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো জুন ২০২৬ পর্যন্ত, যা এক বছর আগের তুলনায় ৫ লাখ ১৮ হাজার ইউনিট কম — অর্থাৎ ২৪.১% হ্রাস।
- 📌 বাংলাদেশের মুঠোফোন বাজারের ৪০ থেকে ৫০% দখল রয়েছে অনুমোদনহীন গ্রে মার্কেটের। উচ্চমূল্যের ফোনের ক্ষেত্রে বৈধ ও অননুমোদিত হ্যান্ডসেটের দামের পার্থক্য সর্বাধিক।
- 📌 সরকারের পক্ষ থেকে আমদানি শুল্ক ৬৪.২৫% বেড়েছে, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় সর্বোচ্চ — ভারতে ২২-২৪%, পাকিস্তানে ১৫-২৫%, নেপালে ১৮-২৫% এবং শ্রীলঙ্কায় ১৫-২০%।
- 📌 স্থানীয় উৎপাদনে ৯০%+ যন্ত্রাংশ আমদানি নির্ভরতা রয়েছে, যা টাকার ওঠানামা এবং ডলার সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
- 📌 গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার সাথে সাথে গ্রে মার্কেটের ফোন এবং রিফার্বিশড ফোনের দিকে ঝুঁকছে মানুষ, যা স্থানীয় উৎপাদনকে আরও দুর্বল করছে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং শিল্প খাতের ব্যক্তিদের মতে, স্থানীয় স্মার্টফোন উৎপাদনের এই হ্রাসের মূল কারণ হলো গ্রে মার্কেটের অপারগ দখল। দেশের মুঠোফোন বাজারের প্রায় ৪০ থেকে ৫০% দখল রয়েছে অনুমোদনহীন ফোনের। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের ফোনের ক্ষেত্রে বৈধ ও অননুমোদিত হ্যান্ডসেটের দামের পার্থক্য সর্বাধিক, যা স্থানীয় উৎপাদনকে প্রতিযোগিতামূলকভাবে দুর্বল করে তুলেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আমদানি শুল্কের হ্রাসের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আমদানি শুল্ক ২৫% থেকে কমিয়ে ১০% করা হয়েছিল, কিন্তু জুনের পরে সেই হ্রাসকৃত শুল্ক আর বহাল রাখা হয়নি। এর ফলে আমদানি করা ফোনের ওপর সম্মিলিত করভার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪.২৫%। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় এই হার সর্বোচ্চ — ভারতে ২২-২৪%, পাকিস্তানে ১৫-২৫%, নেপালে ১৮-২৫% এবং শ্রীলঙ্কায় ১৫-২০%। পুরোপুরি আমদানিনির্ভর মালদ্বীপে মুঠোফোনের ওপর কর প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।
বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত স্মার্টফোনের ৯০% এরও বেশি যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়, যেমন চিপসেট, ডিসপ্লে, ক্যামেরা সেন্সর ও সার্কিট বোর্ড। দেশে মূলত সংযোজন, প্লাস্টিক মোল্ডিং এবং প্যাকেজিংয়ের মতো কাজ করা হয়। উচ্চমূল্যের যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে তৈরির জন্য ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। এ কারণে টাকার ওঠানামা এবং ডলারের সংকট স্থানীয় উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। এছাড়াও, গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার সাথে সাথে বিশ্ববাজারে মেমোরি ও চিপসেটের দাম বাড়ায় ফোনের দামও বেড়েছে। ফলে অনেক গ্রাহক তুলনামূলক কম দামের গ্রে মার্কেটের ফোন বা রিফার্বিশড ফোনের দিকে ঝুঁকছেন।
"বাংলাদেশের বর্তমান করকাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন, সে সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ কতটা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থাকবে, সেই প্রশ্নও সামনে আসে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিনিয়োগকারীরা, শিল্প খাতের ব্যক্তিদের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ লাখ ২৯ হাজার (উৎপাদিত হ্যান্ডসেট), ২৪.১% (হ্রাস), ৬৪.২৫% (আমদানি শুল্ক), ৪০-৫০% (গ্রে মার্কেটের দখল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!