📌 বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) বঙ্গোপসাগরে স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছে। ৬০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে চারটি স্যাটেলাইট ও দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন ব্যবহার করা হবে। জেলেদের নিরাপত্তা ও অবৈধ মাছ ধরার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার নৌযানের নিরাপত্তা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) ৬০০ কোটি টাকার বাজেটে চারটি স্যাটেলাইট ও দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন ব্যবহার করে একটি অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) চালু করার পরিকল্পনা করছে। প্রকল্পের লক্ষ্য হলো জেলেদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, অবৈধ মাছ ধরার বিরুদ্ধে তদারকি এবং সমুদ্রে চলাচলের নজরদারি শক্তিশালী করা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৬০০ কোটি টাকার বাজেটে** বঙ্গোপসাগরে স্যাটেলাইট নজরদারি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।
- 📌 **চারটি স্যাটেলাইট ও দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন** ব্যবহার করে ৩০ মিনিটের ‘রিভিজিট টাইম’ লক্ষ্য করা হয়েছে।
- 📌 **জেলেদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি** ও অবৈধ মাছ ধরার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
- 📌 **২০২৮ সালের মধ্যে** প্রকল্প সম্পন্ন হলে জেলেদের অপ্রয়োজনীয় চলাচল কমবে এবং জ্বালানি সাশ্রয় হবে।
- 📌 **১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার** বঙ্গোপসাগরীয় এলাকা তদারকির জন্য এই প্রকল্প প্রস্তাবিত।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ২০১৮ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, যা মূলত সিগন্যাল আদান-প্রদান ও সম্প্রচারের কাজে ব্যবহৃত হত। কিন্তু এই নতুন প্রকল্পে স্যাটেলাইটের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ আলাদা — সমুদ্রে চলাচল পর্যবেক্ষণ ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ। বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে, এবং বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান বলেছেন, অক্টোবরের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর প্রকল্পের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য চূড়ান্ত করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।
বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরীয় এলাকায় মৎস্য আহরণ, নৌযান চলাচল ও সামুদ্রিক সম্পদের ব্যবহার তদারকির জন্য এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) নৌযানের পরিচয়, অবস্থান, গতি ও চলাচলের তথ্য দূরবর্তী অবস্থান থেকে গ্রহণ করতে পারে। তবে এই ব্যবস্থায় কেবল যেসব নৌযানে উপযুক্ত যন্ত্র স্থাপন করা থাকবে, সেগুলোর তথ্যই পাওয়া যাবে।
মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমানে নির্দিষ্ট গভীরতার বাইরে মাছ ধরার নিয়ম থাকলেও কিছু নৌযান তা মানে না। স্যাটেলাইট নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে নৌযানের অবস্থান শনাক্ত করা সহজ হবে এবং আইন বাস্তবায়নেও সুবিধা হবে। তিনি আরও বলেছেন, জেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান লয়েডস রেজিস্টার ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ হাজার ৩৫০ জনেরও বেশি জেলে শুধু নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবে সাগরে মারা যান।
"অক্টোবরের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর প্রকল্পের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য চূড়ান্ত করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করতে হবে। চলতি বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে ২০২৮ সালের মধ্যে এটি সম্পন্ন করা সম্ভব।" — **মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান**, বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান (বিএসসিএল এমডি), মো. নজরুল ইসলাম (মৎস্য অধিদপ্তর পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০০ কোটি টাকা (বাজেট), ৪টি স্যাটেলাইট, ২টি গ্রাউন্ড স্টেশন, ৩০ মিনিটের রিভিজিট টাইম, ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার (বঙ্গোপসাগরীয় এলাকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!