📌 বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও চেনালাইসিসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বিশ্বে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে ৫৬তম অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালে এটি ছিল ১৩তম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিপ্টো অর্থনীতিতে ১.৬ শতাংশ হ্রাস পেলেও বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিপ্টো ব্যবহার বেড়েই চলেছে
বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও দেশটি বিশ্বে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের তালিকায় ৫৬তম অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেনালাইসিসের ‘দ্য ২০২৬ জিওগ্রাফি অব ক্রিপ্টো রিপোর্ট’-এ এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩তম। তবে ২০২৬ সালে এটি পতন ঘটিয়ে ৫৬তম স্থানে নেমে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বে ৫৬তম: বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে ২০২৬ সালে বিশ্বের ১১৭টি দেশের মধ্যে ৫৬তম অবস্থান।
- 📌 পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনা: ভারত ৬ষ্ঠ, পাকিস্তান ২৫তম ও শ্রীলঙ্কা ৮২তম অবস্থানে রয়েছে।
- 📌 বাজারমূল্য হ্রাস: ক্রিপ্টোকারেন্সির মোট বাজারমূল্য ৫০ শতাংশ কমে ২.১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে ১.০৫ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
- 📌 অন-চেইন অর্থনৈতিক কার্যক্রম: ৯.৫ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে ৯.৪ ট্রিলিয়ন ডলারে হ্রাস পেয়েছে।
- 📌 ব্রাজিল শীর্ষে: ব্রাজিল ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ২৫২.৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক পরিমাণ নিয়ে।
- 📌 বাংলাদেশে ব্যবহারকারীর সংখ্যা: ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৩ লাখ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 অনানুষ্ঠানিক ব্যবহার: সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ফ্রিল্যান্সারদের পেমেন্ট, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার চলছে।
📰 বিস্তারিত
চেনালাইসিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কালে বিটকয়েনের দাম সর্বোচ্চ ৬৭ হাজার ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর দরপতন ঘটে এবং ইতিহাসের সর্বোচ্চ পতন ঘটে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ক্রিপ্টো অর্থনীতিতে ১.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার তৃণমূল পর্যায়ে বেড়েই চলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, চেনালাইসিসের ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ধরা পড়েছে। কারণ এই প্রতিবেদন সরকারি বা আইনি স্বীকৃতি নয়, বরং সাধারণ মানুষের তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিপ্টো লেনদেন ও কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মাথাপিছু জিডিপি দিয়ে ক্রিপ্টো লেনদেনের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়। ফলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ক্রিপ্টো ব্যবহারের সূচক তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি মূলত একটি বিকল্প বিনিয়োগ বা প্রযুক্তিগত সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে এটি অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার উপায় হিসেবে কাজ করে। ফ্রিল্যান্সারদের পেমেন্ট গ্রহণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জটিলতা এড়ানো বা সহজে মূল্য স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার বেড়েই চলেছে। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেল বন্ধ থাকলেও পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক, বিকেন্দ্রীকৃত এক্সচেঞ্জ বা অফিশিয়াল খাতের বাইরে থাকা বিভিন্ন উপায়ে লেনদেন চলছে।
"বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রার লেনদেন বৈধ নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।"
— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (ঢাকা), ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মহিউদ্দিন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৬ (বিশ্বে অবস্থান), ১১৭ (দেশের সংখ্যা), ৬ (ভারতের অবস্থান), ২৫২.৫ (ব্রাজিলের অর্থনৈতিক পরিমাণ বিলিয়ন ডলার), ৪৩ (বাংলাদেশে ক্রিপ্টো ব্যবহারকারীর সংখ্যা লাখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!