📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ঘোষণা করেছেন, আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেন চালু হবে। এ ব্যবস্থায় রিকশাচালক থেকে মুচি পর্যন্ত সবার নিজস্ব কিউআর কোড থাকবে
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ঘোষণা করেছেন, আগামী নভেম্বর মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেনের সুযোগ চালু হবে। এ ব্যবস্থায় রিকশাচালক, মুচি, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের জন্য ডিজিটাল লেনদেনের আওতা সম্প্রসারিত হবে। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **নভেম্বর থেকে শুরু হবে ব্যক্তি-ব্যক্তি লেনদেন**: বাংলা কিউআরের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে সরাসরি টাকা পাঠাতে পারবেন।
- 📌 **বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক ১ জুলাই থেকে**: সবার জন্য বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- 📌 **লেনদেন চার্জ শূন্য**: যেকোনো পরিমাণের লেনদেনে (২০০০ টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত) কোনো চার্জ প্রযোজ্য হবে না।
- 📌 **লেনদেনের অগ্রগতি**: জুনে সাপ্তাহিক গড় লেনদেন ছিল ৩৭ কোটি টাকা, সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ১৮০ কোটি টাকা হয়েছে।
- 📌 **বিশ্বব্যাপী আগ্রহ**: গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের প্রতিনিধিদল বাংলা কিউআর সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, বাংলা কিউআরের বাস্তবায়ন চার ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে লেনদেনের কার্যক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। গভর্নর জানান, মাস্টারকার্ডের তুলনায় বাংলাদেশের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) ব্যবস্থায় প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৩০০টি লেনদেনের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছিল। এছাড়াও, প্রায় ১০০টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে আন্তঃসংযোগভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গভর্নর আরও বলেন, হঠাৎ করে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হলে ব্যবস্থাটির কার্যক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে গত ১ অক্টোবর থেকে প্রচার ও প্রসারের উদ্যোগ শুরু হওয়ার পর কার্যক্ষমতা নিয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখা যায়। এছাড়াও, আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে লেনদেনের চার্জ শূন্য করা হয়েছে।
বাংলা কিউআরের অগ্রগতি সম্পর্কে গভর্নর বলেন, জুনের প্রথম সপ্তাহে সাপ্তাহিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তা বেড়ে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ অগ্রগতিকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দৈনিক প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা লেনদেন হলে এ ব্যবস্থাকে যুক্তিসংগত অবস্থানে পৌঁছেছে বলে বিবেচনা করা যাবে।
গভর্নর জানান, বাংলা কিউআর নিয়ে এখন শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার সময় বাংলা কিউআর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে।
"আগামী নভেম্বর মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেনের সুযোগ চালু হবে। একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে সরাসরি টাকা পাঠাতে পারবেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৭ কোটি টাকা (জুন), ১৮০ কোটি টাকা (সেপ্টেম্বর), ৩০০টি (লেনদেন প্রতি সেকেন্ডে), ১০০টি (প্রতিষ্ঠান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!