📌 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের ৪২% উদ্যোগই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অডিওমেশন, ক্যারেক্টার ডট এআই, চ্যাটজিপিটি এটলাসসহ বহু বিখ্যাত প্রকল্প ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে। বাজার চাহিদা, আইনি জটিলতা ও তহবিলের অভাবই মূল কারণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের দ্রুত বিকাশের পেছনে থাকা উদ্যোগগুলোর অনেকেই ব্যর্থতার মুখোমুখি হচ্ছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪২ শতাংশ এআই উদ্যোগ তাদের কর্পোরেট মাতৃকোম্পানির মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অপর্যাপ্ত তহবিল, প্রযুক্তিগত অসুবিধা, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং ব্যবহারকারীদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থতার কারণে এআই খাতে একটি বিশাল ‘কবরস্থান’ গড়ে উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 এআই খাতে ৪২ শতাংশ উদ্যোগই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কর্পোরেট প্যারেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে
- 📌 অডিওমেশনের বিকল্প হিসেবে গড়ে ওঠা ‘রিলে’ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর কারণে বন্ধ হয়ে যায়
- 📌 চ্যাটবট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্যারেক্টার ডট এআই’ মাত্র পাঁচ বছরে দেউলিয়া ঘোষণা করে
- 📌 ওপেনএআই ‘চ্যাটজিপিটি’ সুপার অ্যাপ হিসেবে ব্যর্থতার কারণে দ্রুত প্রত্যাহার করে
- 📌 অ্যাপল ‘সুলি সিরি’ এআইয়ের প্রকাশের দেরি ও আইনি সেটেলমেন্টে ২৫ কোটি ডলার খরচ
- 📌 মাইক্রোসফটের ‘ফটোগ্রাফিক মেমোরি’ ফিচার রিকল প্রাইভেসি সমস্যায় পড়ে
- 📌 ডিজনি ২০ মিলিয়ন ডলারে ‘ক্যারেক্টার ডট এআই’-এর মেধা সম্পদ ক্রয় করছে
📰 বিস্তারিত
বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি জায়ান্টের এআই উদ্যোগগুলোর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতা ঘটেছে। উদাহরণস্বরূপ, অডিওমেশনের বিকল্প হিসেবে গড়ে ওঠা ‘রিলে’ টুলটি বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর কারণে টিকে থাকতে ব্যর্থ হয় এবং চলতি বছরের আগস্টে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, চ্যাটবট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্যারেক্টার ডট এআই’ মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় দেউলিয়া ঘোষণা করে। এই প্ল্যাটফর্মটি ২০২১ সালে গুগলের সাবেক গবেষক নোম শাজের এবং ড্যানিয়েল ডি ফ্রেইটাস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্যবহারকারীরা এতে নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চরিত্র তৈরি করে গল্প বা রোল-প্লে করতে পারতেন। তবে আইনি জটিলতা, বিতর্ক এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের গুগলে ফিরে যাওয়ার কারণে কোম্পানিটি সংকটে পড়ে। বর্তমানে ডিজনি এই প্ল্যাটফর্মের মেধা সম্পদ ক্রয়ের প্রাথমিক দরদাতা হিসেবে রয়েছে, যার মূল্য ২০ মিলিয়ন ডলার।
ওপেনএআই, যা বর্তমানে সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিগুলোর একটি, এআই খাতে কিছু ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে। তাদের ‘চ্যাটজিপিটি’ সুপার অ্যাপ হিসেবে পরিণত করার চেষ্টা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং তা দ্রুত প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া, ওয়েব ব্রাউজার ‘চ্যাটজিপিটি এটলাস’ এক বছরের কম সময়ে বন্ধ হয়ে যায়। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘সোরা’ উচ্চ পরিচালনা ব্যয় এবং ব্যবহারকারী ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের কারণে এ বছরের মার্চে বন্ধ হয়ে যায়।
অ্যাপলের ‘সুলি সিরি’ এআইয়ের প্রকাশের দেরি এবং আইফোন ১৬-এর বিপণন নিয়ে ২৫ কোটি ডলারের আইনি সেটেলমেন্ট করতে হয়। অন্যদিকে, মাইক্রোসফটের এআই ফিচার ‘ফটোগ্রাফিক মেমোরি’ রিকল প্রাইভেসি ও নিরাপত্তার সমালোচনার মুখে পড়ে। হার্ডওয়্যার খাতে ব্যর্থতা ঘটেছে ‘হিউম্যান এআই পিন’ ডিভাইসের মাধ্যমে, যা ব্যাটারি আগুন লাগার ঝুঁকি এবং পারফরম্যান্স সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এইচপির কাছে এর সম্পদ বিক্রি করা হয়। আরেকটি হাইপড ডিভাইস ‘র্যাবিট আরওয়ান’ অসম্পূর্ণ কার্যকারিতার কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে।
গুগলের নোটবুকএলএমের সাবেক ডেভেলপারদের তৈরি এআই অডিও অ্যাপ ‘হুক্স’, শত শত মডেলের তুলনামূলক প্ল্যাটফর্ম ‘ইয়াপ’ এবং জনপ্রিয় রোল-প্লে অ্যাপ ‘ফিগস এআই’ পর্যাপ্ত বাজার বা তহবিলের অভাবের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রমাণিত হয় যে, শুধু এআই প্রযুক্তির আধিক্য সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। বাস্তবমুখী উপযোগিতা এবং ব্যবহারকারীদের আস্থাই টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি।
"এআই উদ্যোগের ব্যর্থতার মূল কারণ হলো বাজার চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা এবং তহবিলের অভাব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাত (বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নোম শাজের, ড্যানিয়েল ডি ফ্রেইটাস, ব্যবহারকারীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২ শতাংশ, ২০ মিলিয়ন ডলার, ২৫ কোটি ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!