📌 মেটা ও রে-ব্যানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এআই চশমা ভারতে বিপদ সৃষ্টি করছে। ফেস রেকগনিশন ও ভিডিও রেকর্ডিং ক্ষমতায় সজ্জিত এই চশমা ব্যবহার করে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কলকাতার শিক্ষিকা বিদিশা ও দিল্লির ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, এআই চশমা ব্যবহার করে অজান্তে ভিডিও রেকর্ড করে মানুষকে ট্রলিংয়ের শিকার করা হচ্ছে। পুলিশও এ ধরনের ঘটনায় প্রথমবারের মতো মামলা দায়ের করেছে
ভারতে মেটা ও রে-ব্যানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এআই চশমা (মেটা এআই গ্লাস) ব্যবহার করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভাঙা, নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি এবং মানবিক বিপদ সৃষ্টি হচ্ছে। এই অত্যাধুনিক চশমায় ফেস রেকগনিশন, আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা, ওপেন-ইয়ার ব্লুটুথ স্পিকার এবং ভয়েস কমান্ডের ক্ষমতা থাকায় মানুষের ছবি ও তথ্য অজান্তে চুরি হচ্ছে। দিল্লির একটি আন্দোলনে পুলিশের বিরুদ্ধে এই চশমা ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও কলকাতার ৩৫ বছর বয়সী শিক্ষিকা বিদিশা ও দিল্লির ২৯ বছর বয়সী একজন ট্রান্সজেন্ডারের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, এআই চশমা ব্যবহার করে তাদের অজান্তে ভিডিও রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেটা এআই গ্লাসতে ফেস রেকগনিশন, আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা, ওপেন-ইয়ার ব্লুটুথ স্পিকার এবং ভয়েস কমান্ডের ক্ষমতা থাকায় ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি বেড়েছে।
- 📌 দিল্লির যন্তরমন্তরে পুলিশের বিরুদ্ধে এই চশমা ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করার অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 কলকাতার শিক্ষিকা বিদিশা (৩৫) ও দিল্লির ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি (২৯) অজান্তে তাদের ভিডিও রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার শিকার হন।
- 📌 বিদিশার ঘটনা ভিত্তিতে প্রথমবারের মতো পুলিশ মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
- 📌 এআই চশমা দিয়ে রেকর্ড করা ভিডিও মেটার সার্ভারেও সংরক্ষিত হয়, যা নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
📰 বিস্তারিত
মেটা এআই গ্লাসের মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য অজান্তে চুরি ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ভারতে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। এই চশমায় ফেস রেকগনিশন, আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা, ওপেন-ইয়ার ব্লুটুথ স্পিকার এবং ভয়েস কমান্ডের ক্ষমতা থাকায় ব্যবহারকারীরা হাত ছাড়াই ছবি তুলতে, ভিডিও রেকর্ড করতে এবং লাইভ স্ট্রিমিং করতে পারে। তবে এই ক্ষমতা ব্যবহার করে অজান্তে মানুষের ছবি ও তথ্য চুরি হচ্ছে।
কলকাতার শিক্ষিকা বিদিশা ১১ই জুন সন্ধ্যায় শহরের একটি রাস্তায় বাড়ি ফেরার সময় এক ব্যক্তির সাথে দেখা করেন। বিদিশা বলেন, “তার হাতে এমন কোনো ক্যামেরা বা অন্য কোনো যন্ত্র আমি দেখিনি যা দেখে মনে হতে পারে যে সে কিছু রেকর্ড করছে।” পরের দিন বিদিশার শিক্ষার্থী তাকে জানায় যে, সেই রাতের ঘটনার ভিডিও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি এডিট করে বিদিশাকে স্বেচ্ছায় ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনে জড়িয়ে পড়ার মতো দেখানো হয়েছিল। সেই ভিডিওর কমেন্টে অনেক পুরুষ বিদিশার শারীরিক গঠন ও বাহ্যিক রূপ নিয়ে নানা কু-মন্তব্য করেছেন। বিদিশা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন, কিন্তু প্রথমে পুলিশ এফআইআর দায়ের করতে চায়নি। বেশ কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় এবং একদিন পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। পরে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয় এবং জামিনে মুক্তি পায়।
দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে পুলিশের বিরুদ্ধে এই চশমা ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও, দিল্লির ২৯ বছর বয়সী একজন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিও এপ্রিল মাসে একই ধরনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তিনি বলেন, “কারও অজান্তে তার ছবি তুলে নেওয়া বা তার সমস্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সাইবার থ্রেট তো বটেই। এই চশমা দিয়ে যে ছবি উঠছে তা যিনি তুলছেন কেবল তার কাছেই নয়, যেহেতু এই চশমা মেটার তৈরি তাই সেই ছবি মেটার কাছেও সংরক্ষিত হয়।”
"ভিআইপিদের উপস্থিতিতে কোনও অনুষ্ঠানে কেউ যদি এই চশমা দিয়ে সমস্ত কিছু রেকর্ড করে, তা অপব্যবহার করতে পারে। সেক্ষেত্রে দেশের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি হতে বাধ্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা, দিল্লি, ভারতে
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষিকা বিদিশা (৩৫), দিল্লির ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি (২৯), পুলিশ কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ মিনিট (পড়ার সময়), ৮ ঘণ্টা (চার্জ দিলে ব্যবহারকাল), ৩৫ বছর (বিদিশার বয়স), ২৯ বছর (ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!