📌 বাংলাদেশ ফিনটেক সামিটের ষষ্ঠ সংস্করণে এআই ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সম্ভাবনা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়। ফিনটেক খাতের অগ্রগতি, গ্রাহক আস্থা বৃদ্ধি ও ঋণ-ঝুঁকি মূল্যায়নে এআই ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। ২১টি উদ্যোগকে সম্মাননা দেওয়া হয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে অবদানের জন্য।
বিশ্বজুড়ে ফিনটেক খাতের নতুন মাত্রা এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি করছে। বাংলাদেশেও এই বিপ্লবের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ব্যাংকিং, নগদবিহীন লেনদেন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সম্প্রসারণ। গত শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ ফিনটেক সামিটের ষষ্ঠ সংস্করণে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৩ থেকে এআই ফিনটেক খাতে গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে আর্থিক ধারণাকে বদলে দিচ্ছে বিশ্বব্যাপী
- 📌 বাংলাদেশে ২১টি ফিনটেক উদ্যোগকে সম্মাননা দেওয়া হয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে অবদানের জন্য
- 📌 ফিনটেক খাতের অগ্রগতি নির্ভর করবে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে স্থায়ী আর্থিক সক্ষমতায় রূপান্তর করতে পারার ওপর
- 📌 এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, মানুষের নজরদারি ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে
- 📌 সুপার অ্যাপ ও ডিজিটাল ওয়ালেট দৈনন্দিন সেবা থেকে শুরু করে ব্যাংকিং, সঞ্চয় ও ঋণ পর্যন্ত একত্রিত করছে
- 📌 ২৪/৭ সমর্থন ও দ্রুত ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করতে হবে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সহায়তায় আয়োজিত দিনব্যাপী সম্মেলনে ফিনটেক ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী সম্পাদক সাজিদ মাহবুব বলেন, ‘বাংলাদেশের ফিনটেক খাতের অগ্রগতি নির্ভর করবে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে আমরা কতটা স্থায়ী আর্থিক সক্ষমতায় রূপ দিতে পারি তার ওপর। উদ্ভাবনের মাধ্যমে আর্থিক সেবাকে মানুষের জন্য আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করতে হবে। একই সঙ্গে এসব সেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে হবে।’
র্যাপটাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাংলাদেশে মাইক্রোসফটের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুপ ফারুক বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল ফিনটেকশিল্পে এআই ব্যবহার করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, মানুষের নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘ফিনটেক খাতে এআই যেভাবে লেনদেন ও মূল ব্যবসায়িক প্রভাব ফেলছে, তা সার্বক্ষণিক তদারকি করা জরুরি। গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, সংবেদনশীল আর্থিক তথ্য এবং গোপনীয় রেকর্ড যেন কোনো অননুমোদিত এআই এজেন্ট হাতিয়ে নিতে না পারে, তার জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।’
ট্রান্সফাই গ্লোবালের প্রধান ব্যাংকিং ও নেটওয়ার্ক কর্মকর্তা নওশাদ হুসেইন বলেন, আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকিং খাতে পরিবর্তন আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিশ্বজুড়ে ফিনটেক খাত বিভিন্ন মডেলে এগোচ্ছে। সুপার অ্যাপ, ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে শুরু করে নিয়মে বাঁধা ডিজিটাল ব্যাংক ও পেপমেন্ট পরিকাঠামো এর অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন সুপার অ্যাপগুলো দৈনন্দিন সেবার সঙ্গে ব্যাংকিং, সঞ্চয়, ঋণ ও বিনিয়োগ যুক্ত করে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বড় বিপ্লব এনেছে।’
কিউব মানি ইউকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী ইয়ার মোহাম্মদ বলেন, গ্রাহকদের দ্রুত পরিবর্তনশীল চাহিদা মেটাতে ও ডিজিটাল ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে ব্যাংকগুলোকে ডিজিটাল চিন্তাধারা গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘এখানে মূল চাবিকাঠি হলো গ্রাহক অভিজ্ঞতার জন্য নিরবচ্ছিন্ন অ্যাপ সেবা, দ্রুত ঋণ অনুমোদন এবং ২৪/৭ সমর্থন নিশ্চিত করা।’
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ফিনটেক খাতের টেকসই অগ্রগতির জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আর্থিক জালিয়াতি শনাক্ত, ঋণ মূল্যায়ন ও বিমা সেবায় এআই বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে। তবে এর জন্য প্রশাসনিক জবাবদিহি ও মানবের পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য।’
"বাংলাদেশের ফিনটেক খাতের অগ্রগতি নির্ভর করবে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে আমরা কতটা স্থায়ী আর্থিক সক্ষমতায় রূপ দিতে পারি তার ওপর।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাজিদ মাহবুব, মো. ইউসুপ ফারুক, নওশাদ হুসেইন, গাজী ইয়ার মোহাম্মদ, সৈয়দ মাহবুবুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১টি উদ্যোগ, ২৪/৭ সমর্থন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!