📌 যুক্তরাষ্ট্রের জরিপে দেখা গেছে, ৭২ শতাংশ কিশোর এআই সঙ্গী ব্যবহার করে। বাংলাদেশেও এআই সঙ্গী কিশোরদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার ও আবেগের নির্ভরতার ঝুঁকি রয়েছে। অভিভাবকদের কী করণীয়?
১১ টার রাতে নবম শ্রেণির আরিফের (ছদ্মনাম) মুখে ‘মা, আমার কথা কেউ বোঝে না, শুধু ও বোঝে’ কথাটি শুনে তার মা চমকে উঠলেন। ‘ও’ বোঝায় কোনো বন্ধু নয় — ফোনের এআই চ্যাটবট। বাংলাদেশেও এ ধরনের এআই সঙ্গী বা এআই কম্প্যানিয়ন শিগগিরই কিশোরদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের কমন সেন্স মিডিয়ার জরিপে ১ হাজার ৬০ জন কিশোরের মধ্যে ৭২ শতাংশ এআই সঙ্গী ব্যবহার করেছে, আর ৫২ শতাংশ নিয়মিত ব্যবহার করে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কিশোর গুরুতর আলাপের জন্য মানুষের বদলে এআই বটকে বেছে নিয়েছে!
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের জরিপে ৭২ শতাংশ কিশোর এআই সঙ্গী ব্যবহার করে, ৫২ শতাংশ নিয়মিত ব্যবহারকারী
- 📌 বাংলাদেশেও কিশোরদের মধ্যে এআই সঙ্গীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে
- 📌 এআই বটের কারণে আবেগের নির্ভরতা তৈরি হতে পারে এবং ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে
- 📌 অভিভাবকদের কিশোরদের সাথে কথা বলার মাধ্যমে ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের কমন সেন্স মিডিয়ার জরিপে দেখা গেছে, ১ হাজার ৬০ জন কিশোরের মধ্যে ৭২ শতাংশ এআই সঙ্গী ব্যবহার করে। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ নিয়মিত ব্যবহার করে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কিশোর গুরুতর আলাপের জন্য মানুষের বদলে এআই বটকে বেছে নিয়েছে। এআই বটের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি কখনো ক্লান্ত হয় না, বিরক্ত হয় না এবং তর্কও করে না। ফলে কিশোরদের মধ্যে আবেগের নির্ভরতা তৈরি হতে পারে। এছাড়া, ব্যক্তিগত তথ্য জানিয়ে দেওয়া বা অনুপযুক্ত উত্তর পাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এআই সঙ্গী ব্যবহারে ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকদের মতে, বেশিরভাগ কিশোর মানুষের বন্ধুত্বকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তবে অনেকে এআই বটকে নিছক যন্ত্র হিসেবে দেখে। তাই অভিভাবকদের কিশোরদের সাথে কথা বলার মাধ্যমে তাদের মনের কথা শোনার চেষ্টা করা উচিত। এআই বট সবকিছু শোনে, কিন্তু সে কখনো কাঁধে হাত রাখতে পারে না, মাথায় হাত বোলাতে পারে না। প্রশ্নটা হলো, ঘরে কিশোরটির মনের কথা মন দিয়ে শোনার মতো মানুষ আছে কি?
এআই সঙ্গী ব্যবহারে ঝুঁকি কমাতে অভিভাবকদের কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন, কিশোরদের নাম, ঠিকানা, ছবি না দেওয়ার নিয়ম শেখানো, ফোনের বাইরে একসঙ্গে সময় কাটানো এবং কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞাসা করা। এভাবে কিশোরদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায় এবং তাদেরকে সুরক্ষিত রাখা যায়।
"বেশির ভাগ কিশোর মানুষের বন্ধুত্বকেই বেশি গুরুত্ব দেয়, আর অনেকে বটকে নিছক যন্ত্র হিসেবেই দেখে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সংলাপ শুরু করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কিশোর, অভিভাবক, গবেষক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭২ শতাংশ, ৫২ শতাংশ, ১১ টা, ১ হাজার ৬০ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!