📌 মার্কিন সংগীতশিল্পী মাইকেল স্মিথ এআই ও বট ব্যবহার করে ৮০ লাখ ডলার জালিয়াতি করে ১৮ মাস কারাদণ্ড পেয়েছেন। আদালত তাঁর অর্জিত অর্থ বাজেয়াপ্ত করেছে। এআই-নির্মিত গান স্ট্রিমিং জালিয়াতির কারণে বিশ্বব্যাপী শিল্পীদের বছরে ২২০ কোটি ডলার ক্ষতি হতে পারে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে এআই ও স্বয়ংক্রিয় বট ব্যবহার করে স্ট্রিমিং জালিয়াতি করে ৮০ লাখ ডলার আয় করার দায়ে ৫৪ বছর বয়সী মাইকেল স্মিথকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম বিলবোর্ড জানিয়েছে, এটি দেশটির প্রথম কোনো ফৌজদারি দণ্ড যেখানে এআই ও বটের মাধ্যমে স্ট্রিমিং জালিয়াতির দায়ে শিল্পীকে দণ্ডিত করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাইকেল স্মিথ নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে ১৮ মাস কারাদণ্ড পেয়েছেন ৮০ লাখ ডলারের জালিয়াতির দায়ে।
- 📌 আদালত তাঁর অর্জিত অর্থের ৮০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্ত করেছে।
- 📌 স্মিথ এআই দিয়ে বিপুলসংখ্যক গান তৈরি করে স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিকসহ প্ল্যাটফর্মে আপলোড করেন।
- 📌 বটের মাধ্যমে কোটি কোটি বার স্বয়ংক্রিয় স্ট্রিমিং করে প্রকৃত শ্রোতা ছাড়াই রয়্যালটি আয় করেন।
- 📌 সাধারণত একটি গান স্ট্রিম হলে শিল্পী ০.০০৩ থেকে ০.০০৫ ডলার আয় করেন।
- 📌 ২২০ কোটি ডলার ক্ষতি হতে পারে বিশ্বব্যাপী এআই-স্ট্রিমিং জালিয়াতির কারণে।
- 📌 ফরাসি প্ল্যাটফর্ম ডিজার প্রতিদিন ৯০ হাজার এআই-নির্মিত গান আপলোড হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
বুধবার (৭ অক্টোবর) স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নর্থ ক্যারোলিনার ৫৪ বছর বয়সী মাইকেল স্মিথ নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে প্রতারণার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। আদালত তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের প্রায় ৮০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, স্মিথ এআই ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক গান তৈরি করে স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিকসহ বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে আপলোড করেন। এরপর বট ব্যবহার করে তাঁর গানগুলো কোটি কোটি বার স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ট্রিম করানো হয়। এর মাধ্যমে প্রকৃত শ্রোতা ছাড়াই তিনি বিপুল পরিমাণ রয়্যালটি আয় করেন।
স্মিথের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন যে তাঁর কর্মকাণ্ডে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বাস্তবিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হননি। তবে সরকারি কৌঁসুলিরা বলেছেন, স্মিথ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পুরো রয়্যালটি ব্যবস্থাকেই প্রতারণার মাধ্যমে শোষণ করেছেন। প্রসিকিউটর জেমি ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, ভোক্তাদের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় বট এবং সৃজনশীলতার পরিবর্তে ভুয়া গান ব্যবহার করে স্মিথ প্রকৃত শিল্পী ও তাঁদের ভক্তদের প্রাপ্য রয়্যালটির কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন।
২০২৪ সালে স্মিথের বিরুদ্ধে স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বট দিয়ে গান স্ট্রিম করানোর অভিযোগে তিনটি ধারায় মামলা হয়। তিনি শেষ পর্যন্ত ওয়্যার ফ্রড ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। সংগীতশিল্পে স্ট্রিমিং জালিয়াতি দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও এআইয়ের ব্যবহার এ সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, স্ট্রিমিং জালিয়াতি শিল্পীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ভক্তদেরও বিভ্রান্ত করে। শিল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এ ধরনের জালিয়াতির কারণে বিশ্বব্যাপী সংগীতশিল্পে বছরে ২২০ কোটি ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে।
"ভোক্তাদের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় বট এবং সৃজনশীলতার পরিবর্তে ভুয়া গান ব্যবহার করে স্মিথ প্রকৃত শিল্পী ও তাঁদের ভক্তদের প্রাপ্য রয়্যালটির কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), নর্থ ক্যারোলিনা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাইকেল স্মিথ, জেমি ম্যাকডোনাল্ড (প্রসিকিউটর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ লাখ ডলার (বাজেয়াপ্ত অর্থ), ১৮ মাস (কারাদণ্ড), ৫৪ বছর (স্মিথের বয়স), ০.০০৩-০.০০৫ ডলার (গণনা), ৯০ হাজার (এআই-গান প্রতিদিন), ২২০ কোটি ডলার (বিশ্বব্যাপী ক্ষতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!