📌 রাজশাহীর বৈকালী সংঘ ৫০ বছর পুরনো হলেও হকি খেলায় দেশের অন্যতম নেতৃস্থানীয় ক্লাব হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ১০০ টাকার মাসিক বেতনে শিশু-কিশোরদের হকি শেখানোর মাধ্যমে তারা হকির ভবিষ্যৎ বাঁচিয়ে রেখেছে। এশিয়ান গেমসের স্ট্রাইকার ওবায়দুল হোসেন জয় ও জাতীয় দলের অন্যান্য তারকাদেরও এই ক্লাব থেকে উৎপন্ন হয়েছে
রাজশাহীর বৈকালী সংঘ ৫০ বছর পুরনো হলেও বাংলাদেশের হকি খেলার ইতিহাসে অনন্য একটি গল্প রচনা করেছে। ১৯৭৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি দেশের অন্যতম সক্রিয় হকি সংগঠন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। হকি খেলার অবহেলা ও আর্থিক সংকটের মধ্যেও বৈকালী সংঘ নিয়মিতভাবে শিশু-কিশোরদের হকি শেখাচ্ছে, যা দেশের হকি খেলার ভবিষ্যতকে নিশ্চিত করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বৈকালী সংঘ ৫০ বছর পুরনো হলেও রাজশাহী জেলায় সর্বাধিক হকি লিগ জিতেছে — সর্বশেষ ২০১৬ সাল পর্যন্ত ২৪ বার লিগে অংশ নিয়ে ২১ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
- 📌 বর্তমানে ক্লাবের ১২০ জন শিশু-কিশোর-তরুণ নিবন্ধিত আছেন, যাদের মধ্যে ৩০-৩৫ জন নিয়মিত কালেক্টরেট মাঠে হকি শেখে।
- 📌 ১০০ টাকার মাসিক বেতনে ক্লাবটি ৩য়-৪র্থ শ্রেণির ছেলে-মেয়েদেরও হকি শেখায়, যা বাংলাদেশের অন্যতম সস্তা হকি একাডেমি হিসেবে পরিচিত।
- 📌 ওবায়দুল হোসেন জয় (এশিয়ান গেমসের স্ট্রাইকার) ও রবিউদ্দিন রবি (অকালপ্রয়াত জাতীয় তারকা) সহ কৃষ্ণ কুমার কৃষ্ণা, সাব্বির রানা, মিলন হোসেন ও ফজলে রাব্বি সহ বেশ কয়েকজন জাতীয় দলের খেলোয়াড় বৈকালী সংঘের সাবেক ছাত্র।
- 📌 বর্তমানে ৫ জন বৈকালী সংঘের খেলোয়াড় সাভার বিকেএসপি ও দিনাজপুর বিকেএসপিতে খেলছে, যেখানে সাভার থেকে ৭ জন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে বের হয়েছে।
- 📌 রবিউদ্দিন রবির বড় ভাই রায়হানউদ্দিন হালিম বর্তমানে ক্লাবের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- 📌 বৈকালীর নারী হকি দল গত বছর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, এবং এশিয়ান গেমসের জাতীয় নারী দলের গোলকিপার মহুয়া এই ক্লাবের খেলোয়াড়।
- 📌 জেলা প্রশাসনের মাঠ খেলার অনুপযোগী হওয়ায় বৈকালী সংঘের প্রশাসকরা মাঠ সংস্কারের জন্য অনুরোধ করছেন, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।
📰 বিস্তারিত
বৈকালী সংঘের প্রতিষ্ঠা ১৯৭৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ৫০ বছর পরেও এই ক্লাবটি রাজশাহীতে হকির আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত। দেশের অন্যান্য জেলায় হকির অবহেলা দেখা যায়, কিন্তু বৈকালী সংঘের মতো সংগঠনগুলো হকি খেলাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। রাজশাহীতে ২৪ বার হকি লিগ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে ২১ বারই বৈকালী সংঘ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গত ১০ বছরে আরও চার-পাঁচটি লিগ হয়েছে, যার সবটিতেই তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
বৈকালী সংঘের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বর্তমানে ১২০ জন শিশু-কিশোর-তরুণ নিবন্ধিত আছেন। তাদের মধ্যে ৩০-৩৫ জন নিয়মিত কালেক্টরেট মাঠে হকি শেখে। ৮ থেকে ১৩-১৪ বছর বয়সী শিশুদের পাশাপাশি ২০-২৫ জন তরুণ মেতে থাকে প্র্যাকটিস ম্যাচে। জাতীয় দলের সাবেক তারকা আশরাফুল ইসলাম বর্তমানে এই ক্লাবের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বৈকালী সংঘের সাফল্যের গল্পে রয়েছে অনেক জাতীয় দলের খেলোয়াড়ের নাম। ওবায়দুল হোসেন জয় (এশিয়ান গেমসের স্ট্রাইকার), রবিউদ্দিন রবি (অকালপ্রয়াত জাতীয় তারকা), কৃষ্ণ কুমার কৃষ্ণা, সাব্বির রানা, মিলন হোসেন ও ফজলে রাব্বি সহ বেশ কয়েকজন জাতীয় দলের খেলোয়াড় এই ক্লাবের সাবেক ছাত্র। গত বছর অনূর্ধ্ব-২১ বিশ্বকাপে খেলা চারজন খেলোয়াড়ও বৈকালীর ঘরের ছেলে।
বৈকালী সংঘের নারী হকি দলও সফলতা পেয়েছে। গত বছর হকি একাডেমি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত টুর্নামেন্টে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়। এশিয়ান গেমসের জাতীয় নারী দলের গোলকিপার মহুয়া এই ক্লাবের খেলোয়াড়।
বৈকালী সংঘের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শুধু শিশু-কিশোরদের নয়, ৩য়-৪র্থ শ্রেণির ছেলে-মেয়েদেরও হকি শেখানো হয়। মাসিক বেতন মাত্র ১০০ টাকা! এই সস্তা বেতনের বিনিময়ে ক্লাবটি হকি খেলার ভবিষ্যতকে নিশ্চিত করছে।
কিন্তু ক্লাবের প্রশাসকরা মাঠ সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছেন। কালেক্টরেট মাঠ বর্ষাকালে জল-কাদায় ভরে যায়, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যায়। গবাদিপশুর বিচরণ ও জনসভার কারণে মাঠের অবস্থা আরও খারাপ হয়। আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, “এটা জেলা প্রশাসনের মাঠ। তাদের অনেক অনুরোধ করেছি মাঠ ঠিক করতে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। ছোট ছোট বাচ্চারা আসে হকি শিখতে, ওদের একটা ভালো মাঠ দিতে পারি না!”
“আমরা বড় হয়ে হকি প্লেয়ার হতে চাই!”
বৈকালী সংঘের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হকি শেখার জন্য আসা ৯ বছরের আরশ ও ১২ বছরের কাজী আইজান পারভেজ এর চোখে পুরো বাংলাদেশের হকির উজ্জ্বল স্বপ্ন জ্বলে উঠেছে। তারা একস্বরে বলেছে, “আমরা বড় হয়ে হকি প্লেয়ার হতে চাই!”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী, কালেক্টরেট মাঠ ও কাজীহাটা মনিবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আশরাফুল ইসলাম, রায়হানউদ্দিন হালিম, ওবায়দুল হোসেন জয়, রবিউদ্দিন রবি, মহুয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছর (বৈকালী সংঘের প্রতিষ্ঠা), ১০০ টাকা (মাসিক বেতন), ১২০ জন (নিবন্ধিত খেলোয়াড়), ২১ বার (হকি লিগ জিতেছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!