📌 গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নতুন কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন। অলিম্পিয়াডে হতাশাজনক ফলসত্ত্বেও তিনি জাতীয় দলের রেটিং উন্নয়ন ও শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে জোর দিচ্ছেন
গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদের কাঁধে এখন বাংলাদেশের দাবা খেলার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ভার। দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে তিনি দেশের দাবা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা প্রস্তুত করছেন। উজবেকিস্তানের সমরখন্দে অনুষ্ঠিত ৪৬তম দাবা অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের পর ফিরে এসে তিনি দেশের দাবা ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **দেশের দাবা ভবিষ্যৎ গড়তে নিয়াজ মোরশেদের নতুন পরিকল্পনা**: জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের রেটিং ২৪০০-২৫০০-এর মধ্যে আনতে চান তিনি।
- 📌 **শিশুদের ৪-৬ বছর বয়সেই প্রশিক্ষণে নিতে হবে**: “৯-১০ বছর বয়সে গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়া বর্তমান অবস্থা। ৪-৬ বছর বয়স থেকেই শিশুদের দাবায় আগ্রহী করে তুলতে হবে”।
- 📌 **কোচিং সেন্টার ও নারী দাবার উন্নয়ন**: সরকারি বরাদ্দ ও পৃষ্ঠপোষকতায় প্রশিক্ষণ সেন্টার গড়ে তোলা এবং নারী দাবায় শারীরিক ও মানসিক প্রশিক্ষণের স্থায়ী ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা।
- 📌 **অলিম্পিয়াডে হতাশাজনক ফল**: ওপেন বিভাগে ২০৬টি দলের মধ্যে ৬৭তম (১২ পয়েন্ট) এবং মহিলা বিভাগে ১৮৯টি দলের মধ্যে ৮৪তম (১১ পয়েন্ট) স্থান অর্জন।
- 📌 **তরুণ খেলোয়াড়দের ব্যর্থতা**: ফাহাদ রহমান, মনন রেজা ও তাহসিন তাজওয়ারের পারফরম্যান্সে ব্যর্থতা এবং শারীরিক ক্লান্তির কারণে অলিম্পিয়াডে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন নিয়াজ।
📰 বিস্তারিত
৪৬তম দাবা অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের পর ফিরে এসে দাবা ফেডারেশন কার্যালয়ে বসে নিয়াজ মোরশেদ বলেছেন, “শুধু জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ বা রুটিন কাজের পেছনে অর্থ বা সময় নষ্ট না করে ৪ থেকে ৬ বছর বয়স থেকেই শিশুদের দাবায় আগ্রহী করে তুলতে হবে। বর্তমানে ১১-১২ বছর বয়সে গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়া সাধারণ। যদি ৯-১০ বছর বয়স থেকেই শুরু করা যেত, তাহলে অনেক দেরি হয়ে যেত না।”
দেশে পর্যাপ্ত কোচ থাকলেও অনুশীলনের জন্য স্থায়ী সুবিধা না থাকায় তিনি পৃষ্ঠপোষক এবং সরকারি বরাদ্দ কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছেন। পাশাপাশি নারী দাবার মানসিক ও টেকনিক্যাল উন্নয়নের জন্য নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও ইয়োগার মতো মানসিক প্রস্তুতির স্থায়ী ব্যবস্থা চালু করার কথা বলেছেন তিনি।
অলিম্পিয়াডে দলগত ফল হতাশাজনক হলেও তিনি নতুন ও মানসম্মত খেলোয়াড় উঠে না আসা পর্যন্ত জাতীয় দলের স্বার্থেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলে যেতে চান। তিনি বলেছেন, “হুট করে আমি অবসর নিলে জাতীয় দলে বড় শূন্যতা তৈরি হবে। অলিম্পিয়াডে এখনো আমার চেয়ে বেশি বয়সের অনেক আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়মিত খেলছেন।”
ওপেন বিভাগে ২০৪ দেশের ২০৬টি দলের মধ্যে বাংলাদেশ ৬৭তম (১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট) এবং মহিলা বিভাগে ১৮৭ দেশের ১৮৯টি দলের মধ্যে ৮৪তম (১১ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট) স্থান অর্জন করেছে। লক্ষ্য ছিল ৫০-এর নিচে থাকা, কিন্তু তা পূরণ হয়নি। নিয়াজ ব্যাখ্যা করেছেন, “ওপেনে ২০০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ‘বি’ ক্যাটাগরির দল হিসেবে খেলছে। আমরা সাধারণত র্যাংকিংয়ে ৫০ থেকে ৭০-এর মধ্যে থাকি। দুর্বল দলগুলোর সঙ্গে আমরা ভালো ব্যবধানে জিতেছি, কিন্তু শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল।”
তরুণ খেলোয়াড় ফাহাদ রহমান, মনন রেজা ও তাহসিন তাজওয়ারের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, “তারা অনেক টুর্নামেন্ট খেলেছেন এবং মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি সমরখন্দে আসায় শারীরিক ও মানসিকভাবে অতিরিক্ত ক্লান্ত ছিলেন।” নিজের ১০ম অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, “শুরুর দিকে বেশ ভালো খেললেও শেষ দুটি ম্যাচে জেতার অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে ভালো খেলতে পারিনি। ষাটোর্ধ্ব বয়সের কিছুটা প্রভাব ছিল, তবে সামগ্রিকভাবে পুরো বাংলাদেশ দলের মধ্যে শুধু আমারই রেটিং বেড়েছে অলিম্পিয়াডে।”
"আমাকে এখনো খেলতে দেখে অনেকে অবাক ও আনন্দিত হন। তবে অলিম্পিয়াডে খেলোয়াড় হিসেবে অংশগ্রহণ করাটাই আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান (সমরখন্দ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৬তম অলিম্পিয়াড, ৬৭তম ও ৮৪তম স্থান, ১২ পয়েন্ট ওপেন, ১১ পয়েন্ট মহিলা, ৪-৬ বছর বয়স, ২৪০০-২৫০০ রেটিং
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!