📌 মোহামেডানের প্রতাপ হিসেবে পরিচিত প্রতাপ শঙ্কর হাজরা বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক বিরল ব্যক্তিত্ব। তিনি ফুটবল, হকি ও ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন, স্বাধীন বাংলা দলের সংগঠক ও হকির কোচ ছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাড়ি পুড়িয়ে যাওয়ার পরেও দেশে থেকে গিয়েছিলেন
বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক বিরল ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত প্রতাপ শঙ্কর হাজরা নিজেকে মোহামেডানের প্রতাপ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার জীবনের প্রত্যেকটা কষ্টের সময়েই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল মোহামেডান। আর এই মোহামেডানই আবার যখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তখন আনন্দও দিয়েছে আমাকে।’ ১৯৬৩ সাল থেকে মোহামেডান ক্লাবের সাথে জড়িত থাকা সত্ত্বেও, প্রতাপ শঙ্কর হাজরার পরিচয় শুধু মোহামেডানের খেলোয়াড় হিসেবে নয়—তিনি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক অনন্য চরিত্র। ফুটবল, হকি ও ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সংগঠক ও সহ-অধিনায়ক ছিলেন এবং হকির কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৯৪২ সালের ৩ এপ্রিল** (১৩ চৈত্র ১৩৫০) জন্মগ্রহণ করেন প্রতাপ শঙ্কর হাজরা, যিনি বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের এক বিরল ব্যক্তিত্ব।
- 📌 **১৯৫২ সালে আরমানিটোলা স্কুলে ভর্তি** হয়ে তিনি খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তুলেন। স্কুলের ক্রীড়া ব্যবস্থায় ছোটবেলা থেকে বড়দের সাথে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
- 📌 **১৯৫৮ সালে ওয়ারী ক্লাবের হয়ে প্রথম বিভাগ হকি** এবং **১৯৬১ সালে ভিক্টোরিয়া ক্লাবের হয়ে প্রথম বিভাগ ফুটবল** খেলেন।
- 📌 **১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তান হকি দল** এবং **১৯৬৩ সালে ফুটবল দলের** খেলোয়াড় হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
- 📌 **১৯৬৫ সালে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের** মূল সদস্য হন এবং শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ পান।
- 📌 **১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতে** পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়, কিন্তু তিনি দেশে থেকে যান।
- 📌 **১৯৭৩ সালে খেলোয়াড় সংকটে** আবার ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেন, কিন্তু শান্তিনগরে কিছুদিন খেলার পর সরে দাঁড়ান।
📰 বিস্তারিত
প্রতাপ শঙ্কর হাজরার জন্ম হয় ১৯৪২ সালের ৩ এপ্রিল (১৩ চৈত্র ১৩৫০) ফরিদপুরের শিবচরে। তবে বর্ষায় নদীভাঙনের কারণে পরিবার মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের দোগাছিতে বসতি স্থাপন করে। তাঁর বাবা প্রিয় শঙ্কর হাজরা ঢাকা বারের আইনজীবী ছিলেন, মা অন্নপূর্ণা হাজরা বেনারসে পড়াশোনা করেছিলেন। বাবা শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হলেও ঠাকুরমার ইচ্ছায় আইন পড়েন। ১৯৫০ সালের দাঙ্গার সময় পরিবার কলকাতা, কাশী ও রাঁচিতে আশ্রয় নেয়। পরে ঢাকায় ফিরে ১৯৫২ সালে আরমানিটোলা গভর্নমেন্ট স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুলেই তাঁর খেলোয়াড় জীবনের শুরু হয়।
প্রতাপ শঙ্কর হাজরা বলেছেন, ‘আরমানিটোলা স্কুল আশির দশক পর্যন্ত কোনো সময়ই রানার্সআপ হয়নি। প্রতিবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেছেন, পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশের হকি খেলোয়াড় তৈরিতে স্কুলের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। স্কুলে ছোটদের জন্য আলাদা মাঠ, বয়সভিত্তিক দল এবং আন্তস্কুল প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা ছিল। ক্লাস থ্রি থেকে খেলাধুলার সুযোগ পেতেন শিক্ষার্থীরা। ১৩ বছর বয়সে ওয়ারী ক্লাবের হয়ে প্রথম বিভাগ হকি খেলেন। ১৯৫৮ সালে প্রথম বিভাগ হকি এবং ১৯৬১ সালে ভিক্টোরিয়া ক্লাবের হয়ে প্রথম বিভাগ ফুটবল খেলেন।
১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তান হকি দল এবং পরের বছর ফুটবল দলের খেলোয়াড় হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ক্রিকেটেও তিনি অংশগ্রহণ করেছেন, কিন্তু ১৯৬৬ সালে ঢাকায় কমনওয়েলথ দলের খেলা দেখে টম গ্রেভনির ব্যাটিং দেখে ক্রিকেট ছেড়ে দেন। তিনি বলেছেন, ‘ও যে ছয় মারছে, মনেই হয় না যে ছয় মারছে! আমরা তো গায়ের জোর দিয়ে মারি, ও শুধু ব্যাটটা উঠিয়ে দিল, ছয় হয়ে গেল।’ এরপর বলেন, ‘এই সব দেখে আমি ভাবলাম যে গ্রেভনি ক্রিকেট খেলে, আমরা ক্রিকেটকে রেপ করি।’ তবে ১৯৭৩ সালে খেলোয়াড় সংকটে আবার ক্রিকেটে নামেন।
১৯৬৪ সালে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড় হন। ১৯৬৫ সালে পেশোয়ারে ট্রায়াল দিয়ে মূল দলে সুযোগ পান। শ্রীলঙ্কায় গিয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলেন। ঢাকায় ফিরে বাড়িতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে মা তাঁকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘সেটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দ যে দেশের যে কাজই আমি করি, সেই কাজের টপ লেভেলে পৌঁছাতে পেরেছিলাম।’
"আমার জীবনের প্রত্যেকটা কষ্টের সময়েই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল মোহামেডান। আর এই মোহামেডানই আবার যখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তখন আনন্দও দিয়েছে আমাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, আরমানিটোলা, ওয়ারী ক্লাব, ভিক্টোরিয়া ক্লাব, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রতাপ শঙ্কর হাজরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৪২ (জন্মবছর), ৩ (এপ্রিল), ১৩ (চৈত্র), ১৯৫২ (আরমানিটোলা স্কুলে ভর্তি), ১৯৬২ (পূর্ব পাকিস্তান হকি দল), ২৫ (মার্চ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!