📌 ম্যানচেস্টার সিটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সংকটে পড়েছে, যেখানে পিএসজি ইউরোপীয় ফুটবলে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে অগ্রসর। উভয় ক্লাবই উয়েফার আর্থিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগে সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু সিটি এখনো শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আজ চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের সাক্ষাতের আগে সিটি ১২০ কোটি ডলারের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের মুখে দাঁড়িয়েছে
ম্যানচেস্টার সিটি এবং প্যারিস সেন্ট-জার্মেন (পিএসজি) ইউরোপীয় ফুটবলের দুটি বিপরীত দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করছে। একদিকে, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সংকটে পড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি, অন্যদিকে, কাতারের মালিকানাধীন পিএসজি ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে। আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উভয় দলের সাক্ষাতের আগে সিটি ৯০ কোটি পাউন্ডের (প্রায় ১২০ কোটি ডলার) আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের মুখে দাঁড়িয়েছে। এই অভিযোগের ফলে ক্লাবটির সম্ভাব্য শাস্তি হিসেবে পয়েন্ট কর্তন থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কারেরও কথা বলা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ম্যানচেস্টার সিটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করছে, যেখানে ২০০৯-২০১৮ সালের মধ্যে আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ভুয়া বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে ১২০ কোটি ডলারের আর্থিক অপব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 সিটি ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ, প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপ জিতে ট্রেবল সম্পন্ন করেছিল, কিন্তু আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত দেড় দশকের অর্জন প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
- 📌 পিএসজি কাতারের মালিকানাধীন হওয়ায় ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। তারা ফরাসি লিগে দীর্ঘদিনের আধিপত্য এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা দুবার শিরোপা জিতেছে।
- 📌 উয়েফা ২০২০ সালে সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত করে ৩ কোটি ইউরো জরিমানা এবং দুই বছরের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ করে। তবে ক্রীড়া সালিসি আদালতে আপিল করে সিটি সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করতে সক্ষম হয়েছিল।
- 📌 পিএসজি সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি সিটিকে পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেখানে সিটি আর্থিক সংকটের মুখে চ্যাম্পিয়নস লিগে মাঠে নামছে।
- 📌 ম্যানচেস্টার সিটি প্রিমিয়ার লিগে টানা ছয় জয়ে শীর্ষে রয়েছে, কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জয় তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘরোয়া লিগে শাস্তির মুখে পড়লে আগামী মৌসুমে ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতায় জায়গা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
ম্যানচেস্টার সিটি ২০০৮ সালে শেখ মনসুরের নেতৃত্বে আরব আমিরাতের বিনিয়োগে মালিকানা বদল করে। এরপর থেকে ক্লাবটি দ্রুত উত্থান ঘটায়। ২০২৩ সালে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের মাধ্যমে তারা পূর্ণ করেন তাদের স্বপ্ন। একই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপ জিতে ট্রেবল সম্পন্ন করে পেপ গার্দিওলার দল। কিন্তু আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত দেড় দশকের অর্জন এখন প্রশ্নের মুখে।
অন্যদিকে, কাতারের মালিকানাধীন পিএসজি ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। তারা ফরাসি ফুটবলে দীর্ঘদিনের আধিপত্যের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগেও টানা দুবার শিরোপা জিতেছে। এবার তারা চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে রিয়াল মাদ্রিদের কীর্তির সাথে তুলনা করা যেতে পারে।
উয়েফার সঙ্গে আর্থিক বিধি নিয়ে অতীতে সমস্যায় পড়েছিল উভয় ক্লাবই। সিটি ২০২০ সালে উয়েফার আর্থিক সুশাসনবিষয়ক বিধি ভঙ্গের অভিযোগে ৩ কোটি ইউরো জরিমানা এবং দুই বছরের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ হয়েছিল। তবে ক্রীড়া সালিসি আদালতে আপিল করে সিটি সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করতে সক্ষম হয়েছিল।
"অভিযোগের বেশির ভাগই প্রমাণিত হয়নি অথবা নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছিল।"
এবারের সংকটেও সিটির পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন পিএসজি সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি। অবশ্য বাইরের সংকট পেছনে ফেলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দৌড়াচ্ছে এনসো মারেস্কার দল। টানা ছয় জয়ে লিগের শীর্ষে তারা। তবে এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জয় করাটা দলটির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ঘরোয়া লিগে শাস্তির মুখে পড়লে আগামী মৌসুমে ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতায় জায়গা ধরে রাখার পথ কঠিন হতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ম্যানচেস্টার (ইংল্যান্ড), প্যারিস (ফ্রান্স), চ্যাম্পিয়নস লিগ মাঠ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ মনসুর, লুইস এনরিক, নাসের আল-খেলাইফি, এনসো মারেস্কাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০ কোটি পাউন্ড (১২০ কোটি ডলার), ৩ কোটি ইউরো
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!