📌 প্রিমিয়ার লিগের ১১৫টি অর্থনৈতিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটি ১টি ছাড়া সবকটিতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। শাস্তি হিসেবে পয়েন্ট কাটা, অর্থনৈতিক জরিমানা বা শিরোপা বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে। ক্লাবটি আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রিমিয়ার লিগের ১১৫টি অর্থনৈতিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাব ১টি ছাড়া সবকটিতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে এসেছে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। শাস্তির ধরন এবং পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি, তবে পয়েন্ট কাটা, অর্থনৈতিক জরিমানা, শিরোপা বাতিল বা লিগ থেকে অবনমনের মতো কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে। ক্লাবটি আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ম্যানচেস্টার সিটি ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টি অর্থনৈতিক নিয়ম ভঙ্গের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে
- 📌 ৮০টি অভিযোগ ২০০৯-২০১৮ সালের মধ্যে, বাকি ৩৫টি প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে সহযোগিতা না করার জন্য
- 📌 শাস্তি হিসেবে পয়েন্ট কাটা, অর্থনৈতিক জরিমানা, শিরোপা বাতিল বা লিগ থেকে অবনমনের সম্ভাবনা রয়েছে
- 📌 ক্লাবটি ২০২৩ সালে ইউএফএ থেকে দু’বছর চ্যাম্পিয়নস লিগ ব্যান পেয়েছিল, যা পরে কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (ক্যাস) বাতিল করে
- 📌 ম্যানচেস্টার সিটি ২০০৮ সাল থেকে শেখ ম্যানসুরের অধীনে থাকার পর থেকে প্রিমিয়ার লিগে ১০টি শিরোপা জিতেছে, যার মধ্যে ৮টি শেষ ১৫ বছরে
📰 বিস্তারিত
ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাবের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষের তদন্তে ১১৫টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল। এর মধ্যে ৮০টি অভিযোগ ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক নিয়ম ভঙ্গের জন্য এবং বাকি ৩৫টি অভিযোগ প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে সহযোগিতা না করার জন্য। এই অভিযোগগুলি মূলত জার্মান সংবাদপত্র ডার স্পিগেল ২০১৮ সালে প্রকাশিত লিকড ডকুমেন্ট থেকে এসেছে।
লিকড ডকুমেন্টে দেখা যায়, ক্লাবটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংস্থা ইথিহাদ এয়ারলাইন্স এবং টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি ইতিসালাতের স্পনসরশিপ আয়কে ভুলভাবে বৃদ্ধি করেছিল। এছাড়াও, শেখ ম্যানসুরের আবু ধাবি ইউনাইটেড গ্রুপের সরাসরি বিনিয়োগকে আয় হিসেবে গোপন করে রাখা হয়েছিল। আরেকটি অভিযোগ ছিল, তৎকালীন ম্যানেজার রবার্তো ম্যানচিনিকে আবু ধাবির একটি ক্লাবের মাধ্যমে কনসালটেন্সি ফি হিসেবে গোপন অর্থ প্রদান করা হয়েছিল।
ক্লাবের প্রতিনিধি বলেছেন, “প্রিমিয়ার লিগের তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান, আরো অনেক বিষয় সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ গোপনীয়তার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাবের অবস্থান ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া তাদের বিবৃতির সাথে সম্পূর্ণ সাংগঠনিক।” তারা দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে “অপরিহার্য প্রমাণের একটি বিশাল সংগ্রহ” রয়েছে যা তাদের অপরাধমুক্ত প্রমাণ করতে পারে।
২০২০ সালে, ইউএফএ থেকে ম্যানচেস্টার সিটি দু’বছর চ্যাম্পিয়নস লিগ ব্যান পেয়েছিল, যা পরে কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (ক্যাস) বাতিল করে দেয়। ক্যাসের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল, বেশিরভাগ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বা “সময়সীমা অতিবাহিত” হয়ে গেছে, কারণ এগুলো পাঁচ বছরের আইনি সময়সীমার বাইরে ছিল। তবে প্রিমিয়ার লিগের ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা নেই।
২০২৩-২৪ মৌসুমে, ইভার্টন এবং নটিংহাম ফরেস্টের বিরুদ্ধে একক অর্থনৈতিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে পয়েন্ট কাটা হয়েছিল। যদি ম্যানচেস্টার সিটি কঠোর শাস্তি পায়, তাহলে তাদের তারকা খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে প্লাবনকারী ফরওয়ার্ড এরলিং হালান্ড। অন্যান্য ক্লাবও দাবি করতে পারে যে ম্যানচেস্টার সিটি অবৈধ উপায়ে অর্জিত শিরোপা বাতিল করা উচিত এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
"প্রিমিয়ার লিগের প্রক্রিয়া চলমান, আরো অনেক বিষয় সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ গোপনীয়তার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাবের অবস্থান ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া তাদের বিবৃতির সাথে সম্পূর্ণ সাংগঠনিক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্রিমিয়ার লিগ, ইংল্যান্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাব, শেখ ম্যানসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, রবার্তো ম্যানচিনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১৫টি অভিযোগ (১টি ছাড়া সবকটিতে দোষী), ৮০টি (২০০৯-২০১৮), ৩৫টি (সহযোগিতা না করা), ১০টি (শিরোপা), ১৫ বছর (শিরোপা জিতেছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!