📌 চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার অন্তু দে (১৮) বাড়ির উঠানে ফুটবলের হাতেখড়ি দিয়ে শুরু করেছেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় খেলছেন এবং জাতীয় নারী ফুটবল দলের স্বপ্ন দেখছেন। অভাবগ্রস্ত পরিবারে বেড়ে উঠলেও পরিবার তাঁকে ফুটবল খেলায় উৎসাহিত করেছে
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা গ্রামের অন্তু দে (১৮) বাড়ির উঠানে ফুটবলের হাতেখড়ি দিয়ে শুরু করেছেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় খেলছেন এবং জাতীয় নারী ফুটবল দলের স্বপ্ন দেখছেন। অভাব-অনটনের মধ্যেও তাঁর পরিবার তাঁকে ফুটবল খেলায় উৎসাহিত করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার অন্তু দে (১৮) বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় খেলছেন এবং জাতীয় নারী ফুটবল দলের স্বপ্ন দেখছেন।
- 📌 বাড়ির উঠানে ফুটবলের হাতেখড়ি দিয়ে শুরু করে তিনি উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।
- 📌 ২০১৮ সালে পটিয়া মহিলা ফুটবল একাডেমিতে যোগদান করে তিনি ৪০ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
- 📌 অভাবগ্রস্ত পরিবারে বেড়ে উঠলেও তাঁর মা লক্ষ্মী দে এবং পরিবার তাঁকে ফুটবল খেলায় উৎসাহিত করেছে।
- 📌 অন্তু দের বাবা রতন দে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং বর্তমানে একটি ছোট পানের দোকান করেন।
- 📌 অন্তু দের বাড়ির অবস্থা খুবই দুর্বল, ঘরের দেয়াল ভেঙে পড়ছে এবং বৃষ্টিতে পানি ঢুকছে।
📰 বিস্তারিত
অভাব-অনটনে বেড়ে উঠেছেন অন্তু দে। তাঁর শৈশবের ফুটবল খেলার স্বপ্ন বাড়ির উঠানে শুরু হয়েছিল। বাড়ির উঠানে প্রতিবেশী ছেলেদের সঙ্গে খেলতেন তিনি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই তাঁর ফুটবলের প্রতি আগ্রহ ছিল। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় বিদ্যালয়ভিত্তিক খেলায় অংশ নিতে শুরু করেন অন্তু। তাঁর খেলা দেখে তখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাগর দে তাঁকে উৎসাহ দিতেন এবং তাঁকে বিদ্যালয়ের দলের অধিনায়ক করা হয়েছিল।
পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে উপজেলা পর্যায়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় দুবার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান অন্তু। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে চক্রশালা কৃষি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পান অন্তু। ২০১৮ সালের দিকে স্থানীয় নারী ফুটবলের সংগঠক সৈয়দ সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে তিনি পটিয়া মহিলা ফুটবল একাডেমিতে যোগদান করেন। একাডেমির প্রায় ৪০ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে অন্তু দের ছিল অন্যতম।
২০১৮ সালের ১৮ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর স্টেডিয়ামে লোহাগাড়া উপজেলার দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পটিয়া জিতলেও পরবর্তীতে আনোয়ারা উপজেলার দলের কাছে ২-০ গোলে হেরে যায়। তবে ২০১৮ সালের শেষ দিকে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় পটিয়া উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হয়। পরের বছর জেলা পর্যায়ে খেলার সুযোগ পায় অন্তু। জেলা পর্যায়ের বাছাইয়ে ৪০ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৮ জনকে নির্বাচন করা হয়, এবং অন্তু দে ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। তিনি শেষ পর্যন্ত ১১ জনের দলে জায়গা করে নেন।
২০২০ সালে ঢাকায় বিভাগীয় পর্যায়েও অংশ নেন অন্তু। একই বছর আনোয়ারার একটি দলের হয়ে সিলেটে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। বর্তমানে তিনি রংপুর, কক্সবাজার, কুমিল্লা, বগুড়া, নীলফামারী, চুয়াডাঙ্গা ও জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন দলের হয়ে খেলছেন।
"ঘরে অভাব-অনটন। তবু মেয়ের ফুটবল খেলায় আগ্রহ দেখে মেয়েকে কখনো বাধা দেননি। বরং মেয়েকে উৎসাহ দিয়েছেন। মেয়ে একদিন জাতীয় নারী ফুটবল দলে স্থান পাবে, সেই আশা আমার।"
অন্তু দের বাবা রতন দে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং বর্তমানে একটি ছোট পানের দোকান করেন। তাঁর পরিবারে অন্তু ছাড়াও এক ছেলে এবং দুই মেয়ে। বড় মেয়ে তন্তু দে স্নাতক শেষ করে বিয়ে করেছেন, আর ছেলে সৈকত দে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে মুরগির খামার করছেন। অন্তু দের বাড়ির অবস্থা খুবই দুর্বল। টিন ও মাটির তৈরি ঘরটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে, দেয়ালের মাটি খসে পড়ছে এবং বৃষ্টিতে পানি ঢুকছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা, কচুয়াই ইউনিয়ন, চক্রশালা গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অন্তু দে (১৮), রতন দে, লক্ষ্মী দে, সাগর দে (প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক), সৈয়দ সাইফুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ বছর, ৪০ জন খেলোয়াড়, ১৮ জন বাছাই, ১১ জনের দল, ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!