📌 কক্সবাজারের ফাতিমা আক্তার এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম নারী সার্ফার হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছেন। ছয় বছর আগে সমুদ্রসৈকতে বান্ধবীদের সার্ফিং দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু করা তার যাত্রা এখন স্বপ্নের চূড়ায়
কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টের সমুদ্রসৈকতে প্রতিদিনই তরুণ-তরুণীরা সার্ফিংয়ে মেতে থাকেন। ছয় বছর আগে সেই ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই শুরু করা ফাতিমা আক্তার এখন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম নারী হিসেবে তিনি অংশ নেবেন এশিয়ান গেমসে। ক্লাস থ্রিতে পড়ার সময় প্রথমবার পানিতে নামতেই ভয় পেয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন ফাতিমা। তখন তিনি সাঁতারও জানতেন না। পানিতে পড়ে বোর্ডটি তার মাথার ওপর চলে আসায় তিনি ভীত হয়ে পড়েন। তবে বান্ধবীদের উৎসাহে আবারও চেষ্টা করেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬ বছর বয়সে প্রথম সার্ফিংয়ের চেষ্টা করেন ফাতিমা আক্তার
- 📌 বাংলাদেশের হয়ে প্রথম নারী হিসেবে এশিয়ান গেমসে অংশ নেবেন তিনি
- 📌 সার্ফিং শেখার আগে সাঁতার শেখানো হতো ক্লাব থেকে
- 📌 পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যেও কোচের সহায়তায় অনুশীলন চালিয়ে যান
- 📌 নিয়মিত প্রশিক্ষণের সুযোগ না থাকলেও থেমে থাকেননি ফাতিমা
📰 বিস্তারিত
কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে সার্ফিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন ফাতিমা আক্তার। ছয় বছর আগে সমুদ্রসৈকতে বান্ধবীদের সার্ফিং দেখে কৌতূহল জাগে তার। সেই কৌতূহল থেকেই একদিন লুকিয়ে চলে যান সার্ফিং করতে। প্রথমবার পানিতে নামতেই ভয় পেয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। তখন তিনি সাঁতার জানতেন না। পানিতে পড়ে বোর্ডটি তার মাথার ওপর চলে আসায় তিনি ভীত হয়ে পড়েন। তবে বান্ধবীদের উৎসাহে আবারও চেষ্টা করেন তিনি।
ফাতিমা জানান, সার্ফিং সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না। প্রথমবার পানিতে নামার পর খুব ভয় পেয়েছিলেন তিনি। পরে বান্ধবীদের উৎসাহেই আবার চেষ্টা করেন। সার্ফিং করার আগে ক্লাব থেকে সাঁতার শেখানো হতো। ধীরে ধীরে পানির ভয় কাটিয়ে উঠেন ফাতিমা। একসময় নিজেই বোর্ড নিয়ে দাঁড়াতে পারেন এবং অন্যদের সঙ্গে মাঝসমুদ্রে গিয়ে সার্ফিং শুরু করেন। ভালো একটি বোর্ড পাওয়ার পর তার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়।
তবে সামাজিক বাধা তখনো কাটেনি। সমাজের কিছু মানুষের কথায় একসময় তার মাও তাকে সার্ফিংয়ে যেতে দিতে চাইতেন না। ফাতিমার পরিবার সচ্ছল নয়। ছোটবেলায় তিনি তার বাবাকে হারিয়েছেন। তার মা বাসাবাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। সংসারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে তার খেলাধুলার খরচ চালানো ছিল কঠিন। একপর্যায়ে তিনি সার্ফিং ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। তখন তার পাশে দাঁড়ান কোচ রাশেদ আলম। তার সহায়তায় আবার নিয়মিত অনুশীলনে ফেরেন ফাতিমা।
ফাতিমা বলেন, 'সংসারে আর্থিক চাপ ছিল। খেলাধুলার খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল। একসময় সার্ফিং ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলাম। তখন রাশেদ ভাই পাশে দাঁড়ান। তিনি আমার পড়াশোনা এবং অনুশীলনের খরচ এবং ক্লাব থেকে যাতায়াতেও সহায়তা করেছেন।'
বাংলাদেশের উপকূলে নিয়মিত প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত। ঢেউ সব সময় অনুকূলে থাকে না। ফলে দীর্ঘ সময় অনুশীলনের সুযোগও মেলে না। ফাতিমা বলেন, 'আমরা অন্য কোনো দেশে গিয়ে নিয়মিত অনুশীলন করতে পারলে আরও ভালো করতে পারতাম। অন্য দেশের সার্ফাররা ইন্দোনেশিয়ার মতো জায়গায় গিয়ে দীর্ঘ সময় প্রশিক্ষণ নেয়। আমাদের সেই সুযোগ হয়নি। এখানে কয়েক দিন ভালো ঢেউ পাওয়া গেলেও এরপর অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়।'
‘যখন সার্ফিং নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম, তখন এসব আর মাথায় রাখিনি। আমি চাই, বাংলাদেশেও অন্য খেলাগুলোর মতো সার্ফিংকে গুরুত্ব দেওয়া হোক এবং এই খেলায় আরও অনেক মেয়ে এগিয়ে আসুক।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাতিমা আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!